ব্যাংকিংয়ের প্রধান ভিত্তি ডিজিটাল ব্যাংকিং

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৮ এএম

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসার বাড়ার সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বও বাড়ছে। গ্রাহকের অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ জরুরি। রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের ডিজিটাল ব্যাংকিং ও সাইবার নিরাপত্তার প্রস্তুতি, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন অভিজ্ঞ ব্যাংকার সৈয়দ আবু নাছের বখতিয়ার আহমেদ।

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে অগ্রণী ব্যাংকের বর্তমান অবস্থান কী?

উত্তর : ডিজিটাল ব্যাংকিং এখন আর শুধু একটি সেবা নয়, এটি ব্যাংকিং খাতের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। গ্রাহকদের নিরাপদ, দ্রুত ও সহজে ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার জন্য প্রযুক্তির আধুনিকায়ন জরুরি। অগ্রণী ব্যাংকও এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো, গ্রাহকরা যেন সহজে লেনদেন করতে পারেন এবং ব্যাংকিং সেবার প্রতি তাদের আস্থা বজায় থাকে।

গ্রাহকদের ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে যুক্ত করতে কী উদ্যোগ নিচ্ছেন?

উত্তর : ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসারে গ্রাহকদের সহজে সেবা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। গ্রাহকসেবা সহজ করা, লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের পরিধি বাড়ানো সম্ভব।

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি কীভাবে মোকাবিলা করছেন?

উত্তর : প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সাইবার ঝুঁকিও বাড়ছে। এ কারণে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত আধুনিক করা প্রয়োজন। অগ্রণী ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা কার্যক্রমে নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা, সার্বক্ষণিক নজরদারি, বহুধাপের পরিচয় যাচাই, তথ্যের সংকেতায়ন এবং কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করেও নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি।

ডিজিটাল লেনদেনে প্রতারণার শিকার হলে গ্রাহকের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা রয়েছে?

উত্তর : গ্রাহকের অর্থ ও তথ্যের নিরাপত্তা ব্যাংকিং খাতের আস্থার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। কোনো অনাকাক্সিক্ষত লেনদেনের অভিযোগ এলে তা দ্রুত যাচাই করা এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতারণার ঘটনায় গ্রাহকের অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত এবং প্রযোজ্য নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি গ্রাহকদেরও পিন, পাসওয়ার্ড ও গোপন সংকেত অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যাংকিং সেবায় কী পরিবর্তন আনতে পারে?

উত্তর : আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রাহকসেবা দ্রুত করা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করা সম্ভব। ভবিষ্যতে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে ব্যাংকিং সেবার দক্ষতা বাড়বে। তবে প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে ডিজিটাল ব্যাংকিং নিয়ে অগ্রণী ব্যাংকের লক্ষ্য কী?

উত্তর : অগ্রণী ব্যাংককে টেকসই ও আধুনিক ব্যাংক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সুশাসন শক্তিশালী করা জরুরি। গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখতে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল সেবার উন্নয়নেও এ বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত