নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করেছে এসবিএসি ব্যাংক

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৪ এএম

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা এখন ব্যাংকিং খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গ্রাহকদের আর্থিক তথ্যের সুরক্ষা, নিরাপদ লেনদেন এবং নিরবচ্ছিন্ন ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে এসবিএসি ব্যাংক পিএলসি প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তবে সাইবার জালিয়াতি প্রতিরোধে ব্যাংকের প্রযুক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি গ্রাহকদের সচেতনতা ও সতর্কতাও অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরের নাজমুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যাংকটির চিফ টেকনোলজি অফিসার ও এসইভিপি মো. মোফাজ্জল মামুন খান। 

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল সেবা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে?

মো. মোফাজ্জল মামুন খান : ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসারের সঙ্গে গ্রাহকের তথ্য চুরি, ভুয়া ফোন ও বার্তার মাধ্যমে প্রতারণা, গোপন সংকেত হাতিয়ে নেওয়া এবং অননুমোদিত লেনদেনের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার করা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। এসবিএসি ব্যাংক গ্রাহকের তথ্য ও লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের সচেতনতা প্রয়োজন?

মো. মোফাজ্জল মামুন খান : গ্রাহককে নিজের গোপন সংকেত, পরিচয় যাচাইয়ের নম্বর ও হিসাবের তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। অপরিচিত বার্তা বা সন্দেহজনক সংযোগে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন বা প্রতারণার আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। গ্রাহকের সচেতনতা এবং ব্যাংকের নিরাপত্তাব্যবস্থা একসঙ্গে কাজ করলেই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

ব্যাংকের মূল ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও তৃতীয় পক্ষের প্রযুক্তিসেবা থেকে কী ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে?

মো. মোফাজ্জল মামুন খান : মূল ব্যাংকিং ব্যবস্থা কিংবা তৃতীয় পক্ষের প্রযুক্তিসেবায় দুর্বলতা থাকলে গ্রাহকের তথ্য ফাঁস, অননুমোদিত প্রবেশ ও সেবা বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ জন্য প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা, শনাক্ত দুর্বলতা দ্রুত সংশোধন এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। পাশাপাশি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার ফলে ব্যাংকিং প্রতারণার ধরন কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে?

মো. মোফাজ্জল মামুন খান : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া কণ্ঠস্বর, বার্তা ও পরিচয় তৈরি করে প্রতারণার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে একই প্রযুক্তি সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করতেও সহায়তা করে। তাই প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, নির্দেশনার সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত পরিচয় নিশ্চিত করার ব্যবস্থা জরুরি।

এককালীন গোপন সংকেত ও ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে প্রতারণা ঠেকাতে ব্যাংক কী করছে?

মো. মোফাজ্জল মামুন খান : প্রতারণা প্রতিরোধে গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, লেনদেনের সতর্কবার্তা, সন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অবস্থাতেই গ্রাহকের গোপন সংকেত অন্যের কাছে প্রকাশ করা উচিত নয়। একই সঙ্গে ব্যাংককে প্রতারণার নতুন কৌশল সম্পর্কে নিয়মিত হালনাগাদ থাকতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?

মো. মোফাজ্জল মামুন খান : বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করে নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা, ঝুঁকি শনাক্তকরণ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং দুর্বলতা সংশোধনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাইবার ঝুঁকি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই শুধু নির্দেশনা অনুসরণ করাই যথেষ্ট নয়; নিয়মিত মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হয়।

সাইবার হামলা শনাক্ত হলে ব্যাংক কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে?

মো. মোফাজ্জল মামুন খান : প্রথমে ঘটনার ধরন ও ব্যাপ্তি শনাক্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা হয়, যাতে আক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে না পারে। এরপর সম্ভাব্য ক্ষতি সীমিত করা, প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ, নিরাপত্তার ঘাটতি দূর করা এবং যাচাই শেষে সেবা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিরাপদ ডিজিটাল ব্যাংকিং নিশ্চিত করতে গ্রাহক ও ব্যাংকগুলোর প্রতি আপনার পরামর্শ কী?

মো. মোফাজ্জল মামুন খান : গ্রাহকদের গোপন তথ্য সুরক্ষিত রাখতে হবে, শক্তিশালী সংকেত ব্যবহার করতে হবে এবং লেনদেনের সতর্কবার্তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত ব্যাংককে জানাতে হবে। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করতে হবে। প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি সচেতনতা নিশ্চিত করাই নিরাপদ ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের অন্যতম শর্ত।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত