সুস্থ প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি করে র‌্যাংকিং

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪০ এএম

আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং বিশ্ববিদ্যালয়কে বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সক্ষমতা তুলনা করতে এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। র‌্যাংকিং সংস্থাগুলোর সূচক আমাদের পরিকল্পনা ও আত্মমূূল্যায়নের একটি কাঠামো দেয়। এর ফলাফল শিক্ষার্থী, অভিভাবক, নিয়োগদাতা ও সম্ভাব্য সহযোগীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতেও সহায়তা করে। র‌্যাংকিং সুস্থ প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহযোগিতার সুযোগও  তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক প্রভাবভিত্তিক মূল্যায়ন সম্পদসমৃদ্ধ ও সীমিত সম্পদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জ্ঞান, দক্ষতা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়ে উৎসাহ জোগাতে পারে। ২০২৬ সালে উদ্ভাবনভিত্তিক ডব্লিউইউআরআই র‌্যাংকিংয়ে (্ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং ফর ইনোভেশন) বিশ্বে ৩৬তম এবং বাংলাদেশে প্রথম স্থান অর্জন ইউল্যাবের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়িয়েছে। আমরা র‌্যাংকিংকে গুণগত মানোন্নয়নের সহায়ক হিসেবে দেখি।

র‌্যাংকিংয়ের সূচক শিক্ষার প্রকৃত মান কতটা প্রতিফলিত করে?

র‌্যাংকিং সংস্থার সূচক ও সেগুলোর আপেক্ষিক গুরুত্বে পার্থক্য রয়েছে। এসব মূল্যায়নে প্রকাশ্য তথ্য, গবেষণা প্রকাশনা ও উদ্ধৃতির তথ্যভা-ার, একাডেমিক ও নিয়োগদাতাদের মতামত এবং অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সরবরাহ করা তথ্য ব্যবহৃত হয়। ফলে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও ধরে রাখায় কৌশলগত বিনিয়োগ, প্রভাবশালী ও উদ্ধৃতিযোগ্য গবেষণা এবং সুসংগঠিত তথ্য সংরক্ষণ ও উপস্থাপন র‌্যাংকিংয়ে ভালো করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে শিক্ষাদানকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও সম্পদ ব্যবহারের অগ্রাধিকার ভিন্ন হওয়ায় তারা গবেষণাপ্রধান র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকতে পারে। তাই র‌্যাংকিংয়ের সঙ্গে শিক্ষার মান ও গবেষণার উৎকর্ষের সম্পর্ক থাকলেও একে মানসম্মত শিক্ষার একমাত্র নির্দেশক ভাবা ভুল। শিক্ষার্থীর শেখার অভিজ্ঞতা, অর্জিত দক্ষতা, কর্মজীবনের প্রস্তুতি এবং সমাজে অবদানও বিবেচনায় নিতে হবে।

গবেষণা, উদ্ধৃতি ও আন্তর্জাতিকীকরণে ইউল্যাবের অবস্থান এবং দুর্বলতা কী?

ইউল্যাব তুলনামূলকভাবে ছোট একটি বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে মানসম্মত গবেষণা থাকা সত্ত্বেও আমাদের মোট প্রকাশনা ও উদ্ধৃতির পরিসর বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় সীমিত। টেকসই উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে আমাদের কাজ টিএইচই ইমপেক্ট (টাইমস হায়ার ইডুকেশন) ও ডব্লিউইউআরআইতে স্বীকৃতি পেয়েছে। পাশাপাশি কিউএস এশিয়াতেও আমাদের অবস্থান রয়েছে, যেখানে গবেষণা, সুনাম ও আন্তর্জাতিকীকরণসহ একাধিক বিষয় মূল্যায়িত হয়। আমরা এখন প্রবৃদ্ধির পর্যায়ে আছি।

অগ্রগতির পরিমাপযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশ করেন কি?

আমাদের ওয়েবসাইটে র‌্যাংকিংয়ের রেকর্ড, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজিবিষয়ক প্রতিবেদন এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ডব্লিউইউআরআইতে আমাদের অবস্থান ২০২৪ সালের ৬৯তম থেকে ২০২৫ সালে ৫৪তম এবং ২০২৬ সালে ৩৬তম হয়েছে। টিএইচইর টেকসই উন্নয়নভিত্তিক মূল্যায়নেও ২০২৫ সালের ১০০০-১৫০০ ব্যান্ড থেকে ২০২৬ সালে ৮০১-১০০০ ব্যান্ডে উন্নীত হয়েছি। তবে উদ্ধৃতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও গবেষণার বাস্তব প্রভাবের সমন্বিত বার্ষিক চিত্র আরও সহজলভ্য করা প্রয়োজন।

গবেষণায় বাজেটের কত শতাংশ ব্যয় হয়? কী সহায়তা আছে?

ইউল্যাব রাজস্ব আয়ের প্রায় ১৮ শতাংশ গবেষণায় ব্যয় করে। আমাদের ১২টি গবেষণাকেন্দ্রের কার্যক্রমে গবেষণা সহকারী ও সহযোগী নিয়োগ দেওয়া হয়। গবেষণা ও মানসম্মত প্রকাশনা বাড়াতে সম্প্রতি ক্লাইমেট ল্যাব, ডিজিটাল হিউম্যানিটিজ ল্যাব এবং এআই ল্যাব চালু করেছি। শিক্ষকরা কিউওয়ান ও কিউটু জার্নালে প্রকাশনার জন্য নগদ প্রণোদনা পান। পাশাপাশি গবেষণায় বিশেষ মনোযোগী শিক্ষকদের জন্য গবেষণা ধারা বা রিসার্চ ট্র্যাক এবং শিল্প খাতে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকদের জন্য ‘প্রফেসর অব প্র্যাকটিস’ পদে কাজ করার বিধান রয়েছে।

গবেষণার অবকাঠামো কী আছে?

মানসম্পন্ন গবেষণার জন্য আধুনিক গবেষণাগার, জার্নাল ও বিশেষায়িত তথ্যভা-ারে প্রবেশাধিকার এবং উন্নত কম্পিউটিং সুবিধা পরস্পরের পরিপূরক। ইউল্যাবের ১২টি গবেষণাকেন্দ্র ও বিভাগীয় গবেষণাগারগুলোতে টেকসই উন্নয়ন, ব্যবসা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রত্নতত্ত্ব, ভাষা, দক্ষিণ এশিয়া এবং প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে কাজের সুযোগ রয়েছে। গ্রন্থাগারের মাধ্যমে ই-বুক, জার্নাল, গবেষণাপত্র ও ডিজিটাল সম্পদ ব্যবহার করা যায়। আইইইই, জেএসটিওআর, এসএজিই, উইলি, ম্যাকগ্র-হিল এবং টেলর অ্যান্ড ফ্রান্সিসের মতো প্রকাশক ও প্ল্যাটফর্মের নির্বাচিত সম্পদের পাশাপাশি বাংলাদেশ বিজনেস রেফারেন্স ইনিশিয়েটিভের (বিবিআরআই) বিশেষায়িত তথ্যভান্ডারও গবেষণায় সহায়তা করে। অনলাইন ক্যাটালগ, প্রাতিষ্ঠানিক সংগ্রহশালা এবং তথ্য অনুসন্ধান, সাহিত্য পর্যালোচনা, রেফারেন্স ব্যবস্থাপনা ও মৌলিকতা যাচাইয়ের সেবাও রয়েছে। আমাদের কম্পিউটার ল্যাব, ইন্টারনেট অবকাঠামো ও তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা গবেষণার প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে সাধারণ কম্পিউটার ল্যাব আর উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিং অবকাঠামো এক নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৃহৎ উপাত্ত বিশ্লেষণ ও জটিল সিমুলেশনের জন্য জিপিইউ-সমৃদ্ধ কম্পিউটিং, উন্নত তথ্য সংরক্ষণ এবং নিরাপদ গবেষণা-উপাত্ত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

গত পাঁচ বছরে বাইরের গবেষণা অর্থায়ন পেয়েছেন কি?

গত পাঁচ বছরে ইউল্যাব যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, অ্যাসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিজ (এসিইউ), ইউএসএআইডি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচি এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলসহ বিভিন্ন দাতা সংগঠন থেকে থেকে প্রতিযোগিতামূলক প্রকল্পে অনুদান পেয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে গবেষণা, গবেষণা-সক্ষমতা বৃদ্ধি ও একাডেমিক সহযোগিতার উদ্যোগ রয়েছে। এই অর্থায়ন আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়, তবে উৎসাহব্যঞ্জক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সহায়ক। আমাদের সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজের (সিকিউএস) উদ্যোগ ফ্যাক্টওয়াচ বাংলাদেশে মেটার সহযোগী হিসেবে তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্টচেকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে। সেন্টার ফর এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড সোসাইটি ইউএসএআইডির সহায়তায় ডিভার্সিটি নিয়ে কাজ করছে। জলবায়ু সহনশীলতা নিয়েও আমরা সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করি।

ব্যক্তিগত গবেষণা-সাফল্য কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে?

ব্যক্তিগত গবেষণা-উদ্যোগ যখন সহকর্মীদের অংশগ্রহণের সুযোগ  তৈরি করে, তখন তা প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা-সংস্কৃৃতিকে সমৃদ্ধ করে। ইউল্যাবের ইংরেজি ও মানবিক বিভাগ ইনডেক্সভুক্ত সাময়িকী ক্রসিংস প্রকাশে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।

শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ইউল্যাবের কেউ আছেন কি?

হ্যাঁ। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম শিহাভুদ্দিন ও ড. আশরাফুল ইসলাম এবং জেনারেল এডুকেশন বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক ড. রেজাউল ইসলাম স্ট্যানফোর্ড-এলসেভিয়ার-এর শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এটি তাদের গবেষণার উদ্ধৃতিভিত্তিক প্রভাবের স্বীকৃতি।

বাস্তব প্রয়োগ, নীতিগত প্রভাব ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাসম্পন্ন তিনটি উদাহরণ কী?

প্রথমত, পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগ কার্বন মজুদ ও কার্বন শোষণ পরিমাপের একটি টুল তৈরি করেছে। পরিবেশগত মূল্যায়ন ও কার্বন ব্যবস্থাপনা সেবায় এর বাণিজ্যিক ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের (সিএসডি) প্রয়োগমুখী গবেষণায় জীবিকা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা গুরুত্ব পাচ্ছে। এর শিফট প্রকল্প সৌরসেচ, সমন্বিত কৃষি ও  জৈবসারের মাধ্যমে কৃষকের জীবিকা এবং জ¦ালানি ব্যবহারের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে।

তৃতীয়ত, এক্সেসফোরঅল সবুজ কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষতা ও কোর্স তৈরি করছে। এসব উদ্যোগের প্রয়োগ, নীতিগত অবদান ও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

গবেষণার সততা ও প্ল্যাজিয়ারিজম প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা আছে?

ইউল্যাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্য টার্নিটিন ও ড্রিলবট ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি গবেষণা নৈতিকতা নীতিমালা ও নৈতিক পর্যালোচনা কমিটি রয়েছে। শিক্ষার্থীদের গবেষণা অভিসন্দর্ভসহ গবেষণাপত্রের মৌলিকতা সফটওয়্যারের সাহায্যে যাচাই করা হয়। তবে পাঠ্যের সাদৃশ্যের হারই চৌর্যবৃত্তি নির্ধারণের চূড়ান্ত মাপকাঠি নয়। উৎসের যথাযথ স্বীকৃতি, গবেষণার মৌলিকতা, উপাত্তের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং গবেষণা পদ্ধতিও বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনা করতে হয়। গবেষণার সততার নীতি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।

গবেষণাপত্র প্রত্যাহার, নৈতিক লঙ্ঘন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা কীভাবে নিশ্চিত করেন?

ইউল্যাব শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সবার জন্য উচ্চ নৈতিক মান নির্ধারণ করে। অফিস অব ফ্যাকাল্টি রিসার্চ, নৈতিক পর্যালোচনা কমিটি, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল এবং সেন্টার ফর এক্সেলেন্স ইন টিচিং অ্যান্ড লার্নিং নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী নিয়মিত কর্মশালা, পর্যালোচনা ও নিরীক্ষার মাধ্যমে গবেষণার সততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজ করে।

পিএইচডি গবেষক কতজন এবং কী সুবিধা রয়েছে?

বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি কর্মসূচি নেই। তবে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণায় শিক্ষকদের উৎসাহিত করতে আমাদের উদার শিক্ষাছুটির নীতি রয়েছে। সহকর্মীরা যাতে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ফিরে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় অবদান রাখতে পারেন, আমরা সেই সুযোগ তৈরি করি। নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিদেশের মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

নিয়োগ ও পদোন্নতিতে শিক্ষাদান ও গবেষণার ভারসাম্য কীভাবে রাখেন?

ইউল্যাবের মানবসম্পদ নীতিতে একাডেমিক লিডারশিপ, গবেষণা ও প্রফেশনাল এই তিনটি ধারায় পেশাগত অগ্রগতির সুযোগ রাখা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষাদানে দক্ষ শিক্ষক যেন শুধু গবেষণা প্রকাশনা কম থাকার কারণে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত না হন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক গবেষণা-সক্ষমতায় বিশেষ অবদান রাখা শিক্ষকদের নগদ পুরস্কার ও পাঠদানের ভার হ্রাসের মাধ্যমে উৎসাহিত করা হয়। শিল্প খাতের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও প্রয়োগমূলক অবদান প্রফেশনাল ধারায় মূল্যায়িত হয়। শিক্ষাদান, গবেষণা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার স্বতন্ত্র অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করি।

সরকার, ইউজিসি ও অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের কাছে কী সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন?

উচ্চশিক্ষায় সরকারি-বেসরকারি বিভাজন থেকে বেরিয়ে মান ও অবদানের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মূল্যায়ন করতে হবে। দেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও ধরে রাখা, মেধাপাচার কমানো এবং দেশেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এতে বিদেশে পড়াশোনার বিকল্প তৈরি হচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়েও অবদান রাখা সম্ভব হচ্ছে। এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকারের কাছ থেকে অবকাঠামোগত ও আনুষঙ্গিক সহায়তা প্রত্যাশা করি। গবেষণা অনুদানে ন্যায্য অংশীদারত্ব, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তথ্যভান্ডার ও গ্রন্থাগার-সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ এবং নীতিনির্ধারণী সংস্থায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের সংযোগ জোরদার করতে সরকারি উদ্যোগ এবং শিক্ষার ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার চাই। সরকারি-বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় জ্ঞান ও দক্ষতা তৈরির অংশীদার হিসেবে দেখলে উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক মান বাড়বে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত