শিক্ষার মান, গবেষণায় বৈশ্বিক স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৮ এএম

বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, গবেষণা এবং বৈশ্বিক স্বীকৃতির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। র‌্যাংকিংয়ের প্রকৃত সার্থকতা তখনই, যখন তা শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ, গবেষণার সুযোগ এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে।

২০২৬ সালের ডব্লিউইউআরইই র‌্যাংকিংয়ে আমরা বিশ্বব্যাপী ১৯৩তম স্থান অর্জন করেছি এবং স্টুডেন্ট সাপোর্ট অ্যান্ড এঙ্গেজমেন্ট বিভাগে প্রথম হয়েছি। ইউআই গ্রিনমেট্রিক ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিংয়ে দেশে অষ্টম স্থান অর্জন করেছি। কিউএস এশিয়া ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং ২০২৬-এ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে আমরা যৌথভাবে ৪৫৪তম স্থানে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছি।

মানসম্পন্ন গবেষণার জন্য কী কী সুবিধা আপনাদের আছে?

স্কোপাস, আইইইই এক্সপ্লোর ও সায়েন্সডাইরেক্টের মতো আন্তর্জাতিক গবেষণা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুবিধা এবং বিভিন্ন প্রকৌশল বিভাগের জন্য আধুনিক ল্যাব রয়েছে। সিআরটির মাধ্যমে গবেষকদের অনুদান ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়। হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটিং এবং কিছু বিশেষায়িত গবেষণার জন্য আমরা প্রয়োজনে বাইরের গবেষণাগারের সহযোগিতা নিই।

আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ কি বিশ্বের শীর্ষ ২% গবেষকের তালিকায় আছেন?

উত্তরা ইউনিভার্সিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষক এ. এ. আহসানের নাম ২০২১ সালের স্ট্যানফোর্ড-এলসেভিয়ার টপ ২% সায়েন্টিস্টসের সিঙ্গেল ইয়ার তালিকায় রয়েছে। এটি আমাদের গবেষণার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির একটি উদাহরণ।

বাস্তব প্রয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আছে, আপনাদের এমন তিনটি গবেষণার নিয়ে যদি বলতেন।

আমরা এমন গবেষণায় গুরুত্ব দিই, যেগুলো বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে পারে এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। প্রথমত, টেক্সটাইল বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে নতুন উপকরণ তৈরি। নারিকেলের খোসার বর্জ্য ব্যবহার করে তুলার কাপড়ের অগ্নিপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। প্রাকৃতিক ও বর্জ্যজাত উপাদান থেকে কাপড়ের রঙ তৈরি। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা শুধু একাডেমিক সাফল্য নয়, দেশের শিল্প ও অর্থনীতিতেও দৃশ্যমান অবদান রাখুক।

গবেষণাপত্রে প্ল্যাজিয়ারিজম ও জালিয়াতি প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা রয়েছে? এ বিষয়ে নিয়ম কি শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার জন্য সমান?

গবেষণায় সততা বজায় রাখা উত্তরা ইউনিভার্সিটির প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা। প্ল্যাজিয়ারিজম প্রতিরোধে আমরা গবেষণার মৌলিকত্ব যাচাই, তথ্যসূত্রের যথাযথ উল্লেখ এবং একাডেমিক নৈতিকতা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালায় প্ল্যাজিয়ারিজমকে একাডেমিক অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সবার জন্য একই নৈতিক মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়া উচিত; তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা জ্যেষ্ঠ গবেষক যেই হোন না কেন।

গবেষণা প্রত্যাহার ও নীতি লঙ্ঘনে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা কীভাবে নিশ্চিত করেন?

গবেষণায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমাদের মূলনীতি হলো, ভুল বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া। উত্তরা ইউনিভার্সিটির প্রকাশিত নীতিমালায় প্ল্যাজিয়ারিজম ও একাডেমিক অসদাচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং অভিযোগ তদন্তের প্রক্রিয়া রয়েছে। কোনো প্রকাশিত গবেষণায় গুরুতর ভুল বা নীতিগত লঙ্ঘন শনাক্ত হলে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট গবেষক, বিভাগ, জার্নাল ও প্রকাশকের প্রযোজ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন বা গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হতে পারে। আমরা মনে করি, স্বচ্ছতা মানে শুধু অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, যথাযথ জবাবদিহি এবং গবেষণার রেকর্ড সঠিক রাখা।

এআই দিয়ে ভুয়া উপাত্ত ব্যবহার ও ভুয়া জার্নালে প্রকাশের ঝুঁকি মোকাবিলায় কী করা হয়?

এআই ব্যবহার করলে কোথায় কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা প্রকাশ করতে হবে। গবেষণার নির্ভুলতা ও দায়-দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত গবেষকেরই।

এখানে কতজন পিএইচডি গবেষক আছেন?

দেশি-বিদেশি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অনেক পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক এখানে রয়েছেন। তাদের কেউ কেউ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষণায় যুক্ত।

বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে এগোতে সরকার, ইউজিসি বা অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের কাছে আপনাদের কী প্রত্যাশা?

আমরা চাই, গবেষণার জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, আধুনিক গবেষণাগার, আন্তর্জাতিক যৌথ গবেষণা এবং মেধাবী শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি হোক। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান যাচাই ও অ্যাক্রিডিটেশন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ধারাবাহিক এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে উন্নতি করতে পারবে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত