হংকং সিক্সসেস টুর্নামেন্টের বোল সেমিফাইনালে জয়ের সুবাস ছড়িয়েও শেষ বলের নাটকীয়তায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। এই হারের ফলে টানা তিন ম্যাচ হেরে শূন্য হাতেই নিজেদের মিশন শেষ করতে হলো সোহান-সাব্বিরদের।
টুর্নামেন্টে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে এই ম্যাচে এক ওভারে ৬ ছক্কাসহ টানা ৭ বলে ৭ ছক্কা হাঁকায় বাংলাদেশের ব্যাটাররা। তবে বোলিংয়ে আরও একবার হতাশ হতে হলো আবু হায়দার রনির দলকে।
ম্যাচের হাইলাইট মূলত তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের ইনিংসের চতুর্থ ওভারে। ব্ল্যাক সিম্পসনের করা ওই ওভারে রীতিমতো তাণ্ডব চালান ব্যাটাররা। ওভারের প্রথম দুই বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করে অবসরে যান হাবিবুর রহমান সোহান। এরপর উইকেটে নেমেই খড়কুটোর মতো উড়িয়ে মারেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। সিম্পসনের করা পরের চার বলেই টানা চার ছক্কা হাঁকিয়ে এক ওভারে ৩৬ রান তোলার অভাবনীয় কীর্তি গড়েন তারা।
শুধু তাই নয়, পরের ওভারের প্রথম বলে অধিনায়ক আবু হায়দার রনিও ছক্কা হাঁকালে টানা সাত বলে সাত ছক্কার নজির গড়ে ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত সোহানের ১৪ বলে ৬০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস এবং মৃত্যুঞ্জয় ও রনির ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ৬ ওভারে ২ উইকেটে ১২৯ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।
তবে বিশাল এই লক্ষ্য তাড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকাও দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। প্রোটিয়া ব্যাটার জোরিচ ভ্যান শাল্কউইক মাত্র ২০ বলে ৭টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ৭৭ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে দলের জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। ম্যাচের শেষ বলে জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল ৫ রান, আর সেই শেষ বলেই লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে ১ উইকেটের জয়ে প্রোটিয়াদের ফাইনাল নিশ্চিত করেন শাল্কউইক।
টুর্নামেন্টের আগের আসরে ২০২৫ সালে প্লেট পর্বের ফাইনালের খেলেছিল বাংলাদেশ। সেখানে হংকং এর কাছে ১ উইকেটে হেরেছিল আকবর-মোসাদ্দেকরা। সাধারণ গ্রুপপর্ব দুইয়ে থেকে শেষ করলে টূর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী প্লেট পর্বে খেলে দলগুলো। আর এবার গ্রুপপর্বে তৃতীয় হওয়ায় বোল পর্বে খেলল সোহানরা।
নিজ সমর্থকগোষ্ঠীকে শাস্তি দিল বার্সেলোনা