শুধুই মন খারাপ নাকি কোনো ডিজঅর্ডার

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৪ এএম

নিবরাজ জাহান হুজায়রা

থেরাপিউটিক কাউন্সেলর অ্যান্ড সাইকোলজিস্ট, তাকওয়া স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ঢাকা

আমদের জীবনে মাথাব্যথা বা মনখারাপ হয়নি এমন কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমাদের সবারই মন খারাপ হয় কিন্তু আমরা সেটা ম্যানেজ করতে পারি। সমস্যা হয় তখনই যখন মন খারাপ এতটাই তীব্র হয় যাতে প্রতিদিনের কাজ যেমন সাংসারিক কাজকর্ম, অফিসের কাজ, একাডেমিক বিষয় থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত যত্ন পর্যন্ত যখন কোনো মানুষের নিতে কষ্ট হয় বা নিজে আর করে উঠতে পারে না তখন সেটা ঠিক মন খারাপ থাকে না সেটা হয়ে যায় মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা। যাকে ডিপ্রেশন বলা হয়।

ডিপ্রেশন কেন হয়

তীব্র ট্রমা বা মানসিক চাপ থেকে ডিপ্রেশন হতে পারে। যেমন খুব কাছের কেউ মারা গেলে বা ব্রেকআপ হলে বা ডিভোর্স হলে।

 কারও যদি দুরারোগ্য ব্যাধি থাকে।

 আবার এমনও হতে পারে পরিবারে মা-বাবা বা অন্য কারও মধ্যে ডিপ্রেশনের লক্ষণ ছিল বা তাদের ডিপ্রেশন ছিল এমন কেউ যে পূর্ব থেকেই ঠঁষহবৎধনষব ছিল এবারে এমন কোনো আঘাত সে পেল যা সহ্য করতে পারল না বরং ধীরে ধীরে বিষণœতায় পর্যবসিত হলো।

আসল কথা কারও মানসিক চাপ বা ট্রমা

থাকলে এবং মস্তিষ্কের সেরেটোনিন হরমোনজনিত কারণে বা পারিবারিক হিস্ট্রি থাকলে বা এই সবকিছু যদি কারও মধ্যে বিদ্যমান থাকে তাহলে তিনি ডিপ্রেশনে ভুগতে পারেন।

কোন কোন লক্ষণ দেখলে বুঝবেন আপনি ডিপ্রেশনে ভুগছেন :

 সর্বক্ষণ মন খারাপ থাকলে বা ভেলিড কোনো কারণ ছাড়াই কান্না পেলে!

কোনো কাজে মানে প্রতিদিনের কাজেও যখন কোনো উৎসাহ না পাবেন, গোসল করা দরকার কিন্তু করতেই ইচ্ছে করছে না বা অফিসে না গেলে চাকরি থাকবে না জেনেও অফিসে যেতে পারছেন না! ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হলে সবাই শুধু মন খারাপ করে শুয়ে থাকেন বা কান্নাকাটি করেন বিষয়টি এমনও না, অনেকেই ভীষণ খিটখিটে আচরণ করতে পারেন বা সহজেই মেজাজ হারাতে পারেন।

প্রচুর খাচ্ছেন বা একদম খাবারে কোনো রুচি নেই এমনকি তিন বেলার খাবারও খেতে পারছেন না।

ঘুমের ওষুধ সেবন করেও সারা রাত বড় বড় চোখ মেলে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে থাকেন বা প্রচুর ঘুম ঘুমান যা রীতিমতো বিরক্তিকর।

 আগে যে কাজটা করতে কোনো চিন্তাই আপনার হতো না এখন করতে ভীষণ অস্বস্তি হচ্ছে বা কনফিডেন্স পাচ্ছেন না।

খুব পছন্দের কাজ যেটা আপনি করতে ভালোবাসতেন, যেমন পার্লারে যাওয়া, জিমে বা শপিং করতে যাওয়া ইত্যাদি এসব কিছুই ভালো লাগে না বা আগ্রহই পান না।

বিনা কারণে নিজেকে অপরাধী ভাবা ছোট মনে করা। এসব লক্ষণ যদি নিজের মধ্যে বা বন্ধুদের কারও মধ্যে বা পরিচিতজনদের মধ্যে দেখতে পান তবে সতর্ক হোন।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায়

হতাশ হওয়ার কিছুই নেই, বিষন্নতা থেকে মুক্তির কার্যকর উপায় রয়েছে। যদি আপনজনের সঙ্গে কথা বলে বিষন্নতা কাটিয়ে উঠতে পারেন তাহলে তো বেশ ভালো কিন্তু যদি ডিপ্রেশন বা মানসিক চাপ অনেক তীব্র হয় যা পরিচিতদের সঙ্গে কথা বলে সমাধান হবে না বরং জাজমেন্টের ভয় থাকে তবে অবশ্যই একজন সাইকোলজিস্টের শরণাপন্ন হয়ে সাইকোথেরাপি বা কাউন্সেলিং নেওয়া উচিত। এখানে আপনার জাজমেন্ট হওয়ার কোনো আশঙ্কাই থাকবে না। পাশাপাশি  ডিপ্রেশন যদি দীর্ঘদিনের হয় বা পারিবারিক হিস্ট্রি থাকে তবে সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে মেডিটেশন নিতে পারেন। এতে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন।

মনে রাখবেন ওষুধ-কাউন্সেলিং এসবের পাশাপাশিহেলদি ডায়েট চার্ট মেনে চলা।

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা।

১৫ থেকে ২০ মিনিট রৌদ্রে হাঁটা বা প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো। পছন্দের কারও সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া ইত্যাদি আপনাকে শারীরিক, মানসিকভাবে সুস্থ ও ডিপ্রেশন মুক্ত রাখবে।

সতর্কতা

আপনার বা আপনজনের কারও মধ্যে ওপরে উল্লিখিত বিষণœতার লক্ষণ দেখার পরও যদি ভাবেন আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে! তাহলে বিপদ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। মনে রাখবেন শরীরের অসুস্থতা যেমন স্বাভাবিক তেমনি মনের অসুস্থতাও স্বাভাবিক। আর মনের অসুখে ওষুধের পাশাপাশি সঠিক মানুষের সঙ্গে কথা বলা ও পেশাদার সহায়তার কোনো বিকল্প নেই।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত