গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নের্তৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে। আজ সোমবার (২ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
সাত আসামি হলেন, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, ড. আব্দুর রাজ্জাক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। এদের মধ্যে মির্জা আজম ছাড়া অপর ৬ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
গত ২৬ অক্টোবর চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন এ সাতজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে দাখিল করেছে তদন্ত সংস্থা। শিগগির তা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। এর ধারাবাহিকতায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলো।
অ্যাডভোকেট তামিম আজ সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই গণঅভ্যূত্থান চলাকালে তৎকালীন সরকার (আওয়ামী লীগ) রাষ্ট্রীয় পলিসি হিসেবে এবং আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোট রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করেছিল। এই আসামিরা সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং নীতি নির্ধারক হিসেবে এই আন্দোলন দমনে অংশগ্রহণ করেছেন, সহায়তা ও পরামর্শ করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে জুলাই গণঅভ্যূত্থানে ১৪০০ আন্দোনকারী নিহত হয়েছেন ২৫ হাজার আহত হয়েছেন। এটিই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ। তিনি বলেন, আমরা মামলার সাক্ষ্য হিসেবে এই আসমিদের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনের রেকর্ড ও জাতিসংঘের প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।