ট্রাইব্যুনালে নতুন অডিও

ইন্টারনেট স্লো করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের

‘নেটটা একটু স্লো করে দাও... ইন্টারনেট’— জুলাই আন্দোলন দমনে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া এই বিতর্কিত ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৯ পিএম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শুনানির তৃতীয় দিনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কল রেকর্ড আদালতে পেশ করেছে প্রসিকিউশন। 

রবিবার (৯ আগস্ট) এই শুনানিতে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এটি ‘প্রমাণ’ হিসেবে তুলে ধরা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, পেশ করা এই কল রেকর্ডটি তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের মধ্যকার কথোপকথনের।

ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত সেই অডিওতে শোনা যায়, আন্দোলন চলাকালে ওবায়দুল কাদের ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছেন। ফোনালাপে ওবায়দুল কাদের পলককে উদ্দেশ্যে করে বলেন, “নেটটা একটু স্লো করে দাও... ইন্টারনেট।” এর জবাবে তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, “একটু নেত্রীর পারমিশনটা (ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) নিয়ে নিই?” জবাবে ওবায়দুল কাদের সায় দিয়ে বলেন, “নিয়ে নাও। অনেকে আমাকে বলতেছে তো বিষয়গুলো...।” তখন পলক জানান, “ওই যে মানে বলা আছে তো যে উনি না বললে... মানে...।” উত্তরে ওবায়দুল কাদের তাকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, “না না, উনাকে জিজ্ঞেস করেই বলবা।”

এদিন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। শুনানিকালে তার সঙ্গে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সুলতান মাহমুদ ও প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন। 

এর আগে গত ৬ আগস্ট যুক্তিতর্কের দ্বিতীয় দিনেও ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের একটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে পেশ করা হয়েছিল।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় অভিযুক্ত মোট আসামির সংখ্যা ৭ জন। তাদের মধ্যে একমাত্র জুনাইদ আহমেদ পলকই বর্তমানে কারাগারে বন্দী রয়েছেন। মামলার অন্য ৬ আসামি- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে এই আসামিরা ‘সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য’ দেন। তারা দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন এবং একাধিক বৈঠকে ‘সহিংসতার পরিকল্পনা’ করেন। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ‘সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে’ তাদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল।

প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিদের এসব কর্মকাণ্ডের জেরেই সারাদেশে ‘হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা’ ছড়িয়ে পড়ে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

এই মামলার আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল আমলে নেয় এবং চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে গত ৪ আগস্ট থেকে ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত