বনফুলের ফ্রিজে মিলল তেলাপোকা, বেনামী ঘিয়ে তৈরি হচ্ছিল খাবার: ৬০ হাজার টাকা জরিমানা

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় নামিদামি মিষ্টান্ন ও খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘বনফুল’ এর কারখানায় চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটিতে খাবার সংরক্ষণের ফ্রিজে তেলাপোকার বিচরণ ও বেনামী লেবেলবিহীন ঘি ব্যবহারসহ নানা ভয়াবহ অনিয়ম ধরা পড়েছে। অভিযানে বনফুলকে ৬০ হাজার টাকাসহ মোট চার প্রতিষ্ঠানকে ৯৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মঙ্গলবার নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত তদারকিমূলক অভিযানে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ। 

অভিযান সূত্রে জানা যায়, বনফুলের আউটলেট ও কারখানায় তদারকি করার সময় খাবার সংরক্ষণের ফ্রিজে দেখা যায় তেলাপোকার অবাধ বিচরণ। এ ছাড়া খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন উপাদান ও উপকরণ। কোনো প্রকার মান বা পরিচয়চিহ্ন ছাড়া বেনামী লেবেলবিহীন ঘি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ। এসব অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই অভিযানে পাঠানটুলি চৌমুহনী এলাকার একটি তেলের দোকানকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তেল সংরক্ষণ ও মোড়কজাত তেলের প্যাকেটে মেয়াদ-মূল্য না থাকায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে ‘এম অ্যান্ড এস মেডিকো’কে ৬ হাজার টাকা এবং ‘সাঈদ মেডিকেল হল’কে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ভোক্তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে এবং প্রতারণামূলক উপায়ে খাদ্য প্রস্তুত করায় সংশ্লিষ্ট আইনি ধারায় বনফুলসহ চারটি প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে এবং অনিয়ম রোধে নগরজুড়ে এই তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত