মানিকগঞ্জে বাড়তি দাম দিয়েও মিলছে না এলপিজি গ্যাস

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

মানিকগঞ্জের সাতটি উপজেলার ৬৫টি ইউনিয়নেই ছড়িয়ে পড়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকট। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম সবখানেই প্রয়োজনের সময় গ্যাসের সিলিন্ডার পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। কোথাও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও মিলছে না কাক্সিক্ষত সিলিন্ডার, আবার কোথাও বাড়তি দাম দিয়েও গ্যাস সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক বাজারে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য ২ হাজার ২০০ টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি এলপিজি গ্যাসের এমন সংকটে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ পরিবার, সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিকল্প হিসেবে অনেকে কাঠ ও অন্যান্য জ্বালানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাজারে গ্যাসের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করলেও সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। জরিমানার পরও বাজারে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

জেলার বালিয়াটি বাজারের আহমদ জানান, আমরা ছোট হোটেল চালাই, গত ১ নভেম্বরও দোকানীকে ২ হাজার ২শ টাকা দিয়েছি। আজ ৪ তারিখও গ্যাস পাইনি। অন্য দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। অনেক দোকানী সিলিন্ডার না থাকার কথা বলছেন। আবার কোথাও অতিরিক্ত দাম চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কোথায় ২ হাজার ৫ শত টাকায় বিক্রি করছেন অতি মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীরা। ফলে আমরা অনেক সমস্যা হচ্ছে।
 
একই এলাকার রাসেল বলেন, বাড়িতে গ্যাস ছাড়া হয় না। অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। বাজারে ১০-১২টি দোকানে গ্যাস বিক্রি করলেও কোথায় পাই না। পরে পাশের বাজারে গিয়েও দেখি একই অবস্থা। এক দোকানে গেলাম, আই গ্যাস আছে। তবে তাকে আই গ্যাসের বোতল দিতে হবে। নইলে আমার নিকট বসুন্ধরা কোম্পানির খালি বোতল নিবে না। দোকানী বলছে নইলে ৩ হাজার ৫ শত টাকা দিয়ে বোতলসহ কিনলে পাব।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলপিজি গ্যাস বিক্রেতা বলেন, বাজারে সাধারণত ওমেরা, বসুন্ধরা, গ্রিন, নাভানা, বেক্সোমকো, ইউনিক, ওরিয়ান কোম্পানির এলপিজি গ্যাস বিক্রি করি। কিন্তু ১ মাসের বেশী সময় ধরে কোম্পানিগুলি গ্যাস দিতে পারছেন না। শুধু মাত্র ওমেরা এবং আইগ্যাস সপ্তাহে ২ বোতল করে দিচ্ছে। তবুও তাদের একই কোম্পানির বোতল ফিরত দিতে পারলে। তাহলে আমরা কিভাবে বিক্রি করব। ফলে ক্রেতা এ দুই কোম্পানির বোতল না দিতে পারলে প্যাকেজে ৩ হাজার ৫ শত টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। তারপরও ত চাহিদা মত গ্যাস কিনতে পারছি না।

জেলার ৭টি উপজেলা মানিকগঞ্জ সদর, ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়, সাটুরিয়া, হরিরামপুর ও সিংগাইর উপজেলার ২টি পৌরসভা এবং ৬৫ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট বাজারে একই অবস্থা। শহরের দোকানে গেলেই বলা হয় নাই। কিন্তু গ্রামে ভিতরে গিয়ে টাকা বেশী দিলেই মিলছে গ্যাস।

সাটুরিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মনি বলেন, আমরা সদরে বাস করি। অথচ ৩ দিন ঘুরে সিরিয়াল দিয়েও গ্যাস পাইনি। টাকা দিয়েও মিলছে না। উপজেলা শহরে থাকি বিধায় বিকল্প কাঠের চুলাও ব্যাবহার করতে পারছি না। 

মানিকগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আসাদুজ্জামন রুমেল বলেন, ইতোমধ্যে আমরা জেলা জুড়ে ১০-১২ টি পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়েছি। গ্যাসের বোতল অবৈধভাবে মজুদ রাখা এবং বেশী দামে বিক্রি করার অপরাধে ব্যবসায়ীদের প্রায় ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছি। তারপরও জেলায় স্বাভাবিক হচ্ছে না গ্যাস সংকট। 

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ছাড়াও আমার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, ৭টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারাও বাজার মনিটরিং করছেন। আমরা আশা করছি, দ্রুত এ সংকট কেটে যাবে। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত