জামায়াত আমির বললেন

আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০৩ এএম

ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম নয়, এটি একটি ভাইরাস। সমাজের সর্বক্ষেত্রে এই ভাইরাসের লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জনগণের অধিকার নিশ্চিত না হলে দেশে বারবার বিপ্লব ফিরে আসবে। এ মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কারে অনীহা এবং দলীয়করণের মাধ্যমে দেশে আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াত আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার,  সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুর রহমান মূসা প্রমুখ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখন তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি সংসদে বাতিলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এগুলো অনুমোদন করা হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ রোধ করা যেত। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় দলীয় লোক নিয়োগ এবং সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সংবিধান সংশোধনের নামে সরকারের নিজস্ব প্রক্রিয়া চাপিয়ে না দিয়ে জনগণের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। বিরোধী দল হিসেবে সাত দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করার কথাও জানান তিনি।

জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আধিপত্যবাদবিরোধী বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু মাতারবাড়ী নিয়ে কী করা হয়েছে, তা জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিদায়ের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ও ৭ নভেম্বরের ঘটনাগুলোর পেছনে তৎকালীন সরকারের শাসন, একদলীয় ব্যবস্থা ও কর্তৃত্ববাদ নিয়ে জনঅসন্তোষ কাজ করেছিল। ১৫ আগস্টের ঘটনা সামরিক কর্মকর্তাদের অপমানের প্রতিশোধ হিসেবে ঘটেছিল। আর ৭ নভেম্বর সিপাহিরা বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন, এতে জনগণের সমর্থন ছিল। তার ভাষ্য, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের অবজ্ঞা ও উপেক্ষা করার কারণে তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত