৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পঞ্চগড়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পঞ্চগড় সরকারি মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল অধ্যায়। নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েন, অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে সেদিন সংঘটিত সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এদিন সেনাবাহিনীর তৎকালীন বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক হিসেবে তার রাজনৈতিক ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থে সম্মিলিত দায়িত্ববোধই এ দিবসের মূল চেতনা। ঐতিহাসিক এই দিনের ঘটনাপ্রবাহ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, জাতীয় জীবনের সংকটময় মুহূর্তে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় জনগণের ঐক্য ও সম্মিলিত ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করে জাতীয় ঐক্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতির ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয় ও পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃষি ও জনজীবনে পানির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় বর্তমান সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সব ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সম্মিলিত অঙ্গীকার করতে হবে।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রশিদ। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আবু সাইম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ মজিদ, পিপি মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আদম সুফি, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা অ্যাডভোকেট রইসউদ্দিন, বিএনপি নেতা ইউনুস সেখ, সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান এবং পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দার। তাদের অনেকে সভায় বক্তব্য দেন।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সুবিধাজনক সময়ে ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। দুপুরে শিশু পরিবার, কারাগার, শান্তি নিবাস, শিশু সদন, এতিমখানা ও হাসপাতালে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

বিকেলে পঞ্চগড় জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন ও সুধীজনদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। বাদ আসর সরকারি অডিটোরিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত