আরও এক বসন্তে ঋতুপর্ণা

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

আজ ৭ নভেম্বর বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর জন্মদিন।  ১৯৭০ সালের এই দিনে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন ঋতুপর্ণা। বাংলা ছবির পাশাপাশি ওড়িয়া ও হিন্দি চলচ্চিত্রেও নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে পেয়েছেন জনপ্রিয়তা, প্রশংসা এবং জাতীয় স্তরের স্বীকৃতি।

অভিনয় দক্ষতা, সৌন্দর্য এবং পর্দায় চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার অসাধারণ ক্ষমতায় কয়েক দশক ধরে দর্শকের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। ঋতুপর্ণার অভিনয় জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত ‘দহন’। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিতে এক ধর্ষিতা গৃহবধূর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। এই ছবির জন্যই ১৯৯৮ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ঋতুপর্ণা। 

অভিনেত্রীর কলকাতার কার্মেল কনভেন্ট স্কুলে পড়াশোনা শেষ করার পর লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতক হন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি অভিনয়ের প্রতিও ধীরে ধীরে তৈরি হয় তার আগ্রহ। 

১৯৮৯ সালে দূরদর্শনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘শ্বেত কপোত’ (মতান্তরে ‘রঙ বেরঙ’)-এর মাধ্যমে ছোটপর্দায় অভিনয় শুরু করেন ঋতুপর্ণা। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে বড়পর্দায় নিজের জায়গা তৈরি করেন। ১৯৯০-এর দশক থেকেই বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ‘লাঠি’ (১৯৯৬), ‘দহন’ (১৯৯৭), ‘পারমিতার একদিন’ (২০০০), ‘উৎসব’ (২০০০), ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’ (২০০২), ‘অনুরণন’ (২০০৬)-একাধিক ছবিতে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ‘রাজকাহিনী’ (২০১৫), ‘আহা রে’ (২০১৯) এবং ‘পার্সেল’ (২০২০)-এর মতো ছবিতেও তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। 

ব্যক্তিগত জীবনেও নিজের মতো করে সাজিয়েছেন সংসার। ১৯৯৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর সঞ্জয় চক্রবর্তীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেত্রী। তাঁদের দুই সন্তান অঙ্কন ও রিশোনা নিয়াকে নিয়ে তার পরিবার। বাণিজ্যিক ছবি থেকে শুরু করে বিষয়ভিত্তিক ও ব্যতিক্রমী সিনেমা বিভিন্ন ধারার ছবিতে সাবলীল অভিনয়ই ঋতুপর্ণার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত