সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনটি পুরোপুরি নিজেদের করে নিলেন টাইগাররা। তরুণ ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়ের দায়িত্বশীল ও চোখ জুড়ানো ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে ম্যাচে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটেছে বাংলাদেশের। দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের এই ঘুরে দাঁড়ানো, হৃদয়ের সমালোচনার জবাব দেওয়া এবং ম্যাচের পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন হেড কোচ ফিল সিমন্স।
মিরপুর টেস্টে বাজে শট খেলে আউট হওয়ার পর থেকেই তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটিং ফর্ম ও শট সিলেকশন নিয়ে চারদিকে সমালোচনা চলছিল। তবে সিলেট এসে সেই সব আলোচনাকে এক নিমিষেই উড়িয়ে দিলেন এই তরুণ ব্যাটার। তাঁর এই অবিশ্বাস্য ইনিংস নিয়ে কোচ ফিল সিমন্স বলেন, "আসলে এসবই আমরা ছেলেদের বলে থাকি যে, সুযোগ লুফে নাও এবং যখনই সুযোগ পাও তা ভালোভাবে কাজে লাগাও। যখন তুমি মাঠে আছো, তখন তুমিই দায়িত্বে আছো, ফলে দলের জন্য যা দরকার সেসবই করে যাও। হৃদয়ের কাছে যা প্রত্যাশা ছিল সে আজকে তা করে দিয়েছে।"
হৃদয়ের ব্যাটিং শৈলীর প্রশংসা করে সিমন্স আরও যোগ করেন, "আউটস্ট্যান্ডিং ইনিংস ছিল। অবিশ্বাস্য ইনিংস। যখন কিনা বাউন্ডারিতে ফিল্ডার ছিল তখনও সে বাউন্ডারি বের করেছে। চার মেরেছে, ছয় মেরেছে। খেলা বুঝে কখন শট খেলতে হবে, আর কখন শেষ তিন ব্যাটারকে স্ট্রাইক দিতে হবে—সব মিলিয়ে সে দারুণভাবে পরিস্থিতি সামলেছে।"
মিরপুরের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে এই দুর্দান্ত কামব্যাকের পেছনে কোনো বিশেষ ‘সিক্রেট’ ছিল কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মুচকি হেসে কোচ বলেন, "হৃদয়ের সাথে কথা বলার সুযোগ পেলে জিজ্ঞেস করতে পারবেন যে সিক্রেট কী ছিল, কারণ এটা কেবল সে-ই জানে।" তিনি জানান, আলাদা করে কারও সাথে কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি, পরিস্থিতি ও চাপ কীভাবে সামলাতে হবে তা ব্যাটাররা নিজেদের প্রতিভা ও বোঝাপড়া থেকেই মাঠে বাস্তবায়ন করেছে।
ম্যাচে পেসার কম নেওয়া নিয়ে একাদশ সাজানোর সমালোচনা প্রসঙ্গে সিমন্স স্পষ্ট জানান, দলের মনে হয়েছে কন্ডিশন বিবেচনায় এটাই তাদের জন্য সেরা অপশন ছিল। প্রথম ইনিংসে পেসারদের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি বলেন, স্পিনাররা ঢাকাতেও নিজেদের কোয়ালিটি দেখিয়েছে এবং এখানেও প্রথম ইনিংসে ভালো করেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের সিরিজের স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিনাররা তাদের আসল সামর্থ্য আরও ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবে।
ওপেনিংয়ে নাঈমের সুযোগ পাওয়া প্রসঙ্গে কোচ জানান, অনুশীলনে কে ভালো ব্যাট করেছে এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে কে ভালো অপশন হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যদিও তা মাঠে কাজে লাগেনি, তবে কোচের মতে ক্রিকেটে এমন সিদ্ধান্ত মাঝে মাঝে সফল হয়, আবার কখনো হয় না। এ ছাড়া সাদমান ইসলামের চোট নিয়ে তিনি বলেন, সাদমান বেশ বাজেভাবে ব্যথা পেয়েছে। তাকে দ্বিতীয় ইনিংসে কোনো কাজে লাগানো যাবে কি না, তা পরিস্থিতি সাপেক্ষে পরে দেখা যাবে।
হৃদয়ের পাশাপাশি লোয়ার অর্ডার ব্যাটার তাসকিন ও তাইজুলদের লড়াই করার মানসিকতা দলের ইনিংস বড় করতে দারুণ ভূমিকা রেখেছে। কোচের ভাষায়, "বোলারদের সাথে আমরা অনুশীলনে এগুলো নিয়েই কাজ করে যাই, ব্যাটারদেরকে সাপোর্ট করে যেতে হবে।" লিটন দাসের আগের সেঞ্চুরির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দল বিশ্বাস করে যে ক্রিজে থাকা পরবর্তী ব্যাটারও চাইলে সমান দায়িত্ব নিয়ে দলীয় ইনিংস টেনে নিয়ে যেতে পারে।
পিচ এবং চতুর্থ দিনের টার্গেট নিয়ে এখনই খুব বেশি ভাবতে নারাজ কোচ। উইকেট এখনো বেশ ভালো মনে হচ্ছে উল্লেখ করে সিমন্স বলেন, গতবার পাকিস্তানের বিপক্ষে তারা এই উইকেটে ৫০০ এর কাছাকাছি টার্গেট দিয়েছিলেন এবং প্রতিপক্ষও ৩০০-৪০০ রানের কাছাকাছি গিয়ে থেমেছিল। তাই নতুন দিনে প্রতিপক্ষ দল কেমন পারফর্ম করে এবং নিজেদের সামনে ঠিক কত রানের লক্ষ্য আসে, সকালের পরিস্থিতি দেখেই তা মূল্যায়ন করতে চান তিনি।
মহাকাব্যিক ইনিংস নিয়ে যা বললেন হৃদয়