তরুণদের ভোটে রিপাবলিকানদের হার

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস বলে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল আসন হারায়। কিন্তু এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের জয় অর্ধশতকের মধ্যে যেকোনো দলের জন্য সবচেয়ে বড় বিজয়। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের এই নীল সুনামির পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের; তাদের ভোটই রুখে দিয়েছে ট্রাম্পকে। ওই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় এবারের প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনে ১৮-২৯ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে দুই দলের ভোটের ব্যবধান প্রায় ৪০ শতাংশ পয়েন্ট, যা ডেমোক্র্যাটদের দিকে গেছে। তরুণ পুরুষদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন ৩৯ শতাংশ পয়েন্ট, নারীদের ক্ষেত্রে ২৭ শতাংশ পয়েন্ট।

সাক্ষাৎকারে তরুণরা বলেছেন, বাড়িভাড়া ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা; চাকরি করে নিজের বাড়ি ও সংসার গড়ার ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত। এর সঙ্গে ইরান যুদ্ধ ও ইসরায়েলনীতি নিয়ে অসন্তোষ তাদের সমর্থন পরিবর্তনে প্রভাব ফেলেছে। তবে তরুণদের অনেকে স্পষ্ট করেছেন, ডেমোক্র্যাটদের প্রতি তাদের সমর্থন নিঃশর্ত নয়। তারা দলকে নয়, পরিবর্তনের আশাকে ভোট দিয়েছেন; বিজয়ীরা প্রতিশ্রুতি রাখছেন কি না সেটিও তারা দেখবেন। টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সী পুরুষদের ভোটের প্রবণতা ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস ট্যালারিকোর পক্ষে গেছে প্রায় ৫০ শতাংশ পয়েন্ট।

এই অঙ্গরাজ্যের রিচমন্ডের ভোটার ট্রিস্টান ওয়ামসিø (৩৫) বলেন, ‘তিনি (জেমস) আমার বয়সী। তার কথাবার্তা শুনে মনে হয়েছে, আমি নিজেই তার সঙ্গে কথা বলতে পারতাম। তিনি আমার মতোই একজন সাধারণ মানুষ।’ ট্রিস্টান জীবনে এবারই প্রথম অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের সব পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন। বছরের পর বছর টেক্সাস শাসন করেছেন রিপাবলিকানরা। তাতে ট্রিস্টানের জীবনে কোনো বাস্তব পরিবর্তন আসেনি। তার ভাষায়, ‘জেমসকে সঙ্গে পেলে হয়তো আমরা সমাজকে পিছিয়ে নেওয়ার বদলে সামনে এগিয়ে নিতে পারব।’

ট্রিস্টানের মতো তরুণরা যে প্রার্থীর মধ্যে নিজেদের মিল খুঁজে পেয়েছেন, তাদের ভোট দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এমন প্রার্থী ছিলেন মিশিগানের নবনির্বাচিত সিনেটর আবদুল আল-সাইদ, আইওয়ার নবনির্বাচিত গভর্নর রব স্যান্ড, জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ, লস অ্যাঞ্জেলেসের নবনির্বাচিত মেয়র নিত্যা রমন এবং মন্টানা থেকে নবনির্বাচিত প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য স্যাম ফরস্ট্যাগ। পাশাপাশি সেকেলে রাজনীতিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ভোটাররা। তারা ফিরিয়ে দিয়েছেন রিক জ্যাকসন ও কেন প্যাক্সটনের মতো ধনী মধ্যবয়সী রিপাবলিকানদেরও। জ্যাকসন জর্জিয়ার গভর্নর পদে প্রার্থী ছিলেন। টেক্সাসে প্যাক্সটন হেরেছেন জেমস ট্যালারিকোর কাছে।

বিজয়ী ডেমোক্র্যাটরা যেন তরুণ ভোটারদের ভাষাতেই কথা বলছেন। তবে ৪৫ বছরের কম বয়সী অনেক ভোটার, বিশেষ করে মিলেনিয়াল প্রজন্মের (জন্ম : ১৯৮১-১৯৯৬) কম বয়সীরা আর জেন–জির (জন্ম : ১৯৯৭-২০১২) সদস্যরা দ্রুতই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাদের মতাদর্শ বদলায়নি। তারা আপাতত ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন জানিয়ে দিয়েছেন, যাতে জীবনযাত্রার ব্যয়, ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং ইরানের যুদ্ধের মতো বিষয়ে বাস্তব পরিবর্তনের শুরু হয়। টেক্সাসে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটদের সব প্রার্থীকে ভোট দেওয়াটা ট্রিস্টান ওয়ামসিøর কাছে নতুন অভিজ্ঞতা হলেও, নিজের সিদ্ধান্তে খুশি তিনি। তবে এটাও বলেছেন, তার ভোট ছিল প্রার্থীদের জন্য। দলের জন্য তিনি ভোট দেননি। ট্রিস্টান বলেন, ‘এখন যা চলছে, তা থেকে আমি সত্যিই বেরিয়ে আসতে চাই। কারণ, এখনকার ব্যবস্থায় কাজ হচ্ছে না।’

তরুণদের ভোটের এই পালাবদল শহর ছাড়িয়ে গ্রাম ও শহরতলিতেও ছড়িয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস-এর ৫ নভেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ট্রাম্পের জেতা ২৩৪টি কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে ৫২টিতে এবার ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হয়েছেন। দলটি ২০০৮ সালের পর প্রতিনিধি পরিষদে নিজেদের সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ২৫৩ আসনে জয়ী হয়েছে। রিপাবলিকান পার্টি পেয়েছে ১৬০ আসন। ৩২ আসনের ফল ঘোষণা বাকি। আর ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ সিনেটে এখন ৫৪টি আসন ডেমোক্র্যাটদের, রিপাবলিকানদের আসন ৪৪টি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত