ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা শীতে বাড়ে

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৯ এএম

ডা মিটুন  দেবনাথ বক্ষব্যাধি ও অ্যাজমা বিশেষজ্ঞ

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

শীতে অ্যাজমা রোগীদের অনেকটা কষ্ট বেড়ে যায়। অ্যাজমা হচ্ছে শ্বাসনালির দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ। যে রোগে শ্বাসনালি যেকোনো অ্যালার্জেন জাতীয় বস্তুর প্রতি অতিমাত্রায় সংবেদনশীলতা দেখায় এবং প্রদাহের কারণে শ্বাসনালির ভেতরের মিউকাস মেমব্রেন ফুলে যায়, এতে করে শ্বাসনালির টিউব সরু হয়ে পড়ে। অ্যাজমা কিন্তু দুই রকমের। একটা হলো ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা, অন্যটা কার্ডিয়াল অ্যাজমা। ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা মূলত শ্বাসনালির প্রদাহ। শ্বাসনালিতে প্রদাহ হলে শ্বাসকষ্ট হয়। আর কার্ডিয়াক অ্যাজমা হলো একিউট লেফ্ট ভেন্টিকুলার ফেইলিউর।  অর্থাৎ হার্টের জন্য কার্ডিয়াক অ্যাজমা। ব্রঙ্কাসের জন্য ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা।  ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমর কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার জেনে নিন।

লক্ষণ : রোগীর খুব বেশি শ্বাসকষ্ট হয়। কখনো কখনো শ্বাসকষ্টের সঙ্গে শুকনো কাশি থাকতে পারে। শ্বাস নেওয়ার সময় সাঁ সাঁ শব্দে নিঃশ্বাস ফেলা বুকে টান ও চাপের সৃষ্টি হয়। কাশির সঙ্গে প্রচুর থু থু বের হওয়া। অনেক সময় রোগীর জ¦রও দেখা দেয়।

কারণ : বায়ুদূষণ, ধুলাবালিপূর্ণ আবহাওয়া, ভাইরাল ইনফেকশন এবং কিছু কিছু খাবার খাওয়া, বংশগত কারণে,  ধূমপান করলে আবার ধূমপানরত কারুর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও এমনটা হতে পারে।

চিকিৎসা : রোগীর অবস্থা অনুযায়ী অ্যান্টি এজমাটিক ড্রাগ ও সঙ্গে ইনহেলার  দিতে পারেন।

প্রতিকার : রাতে অ্যাজমার প্রকোপ বাড়ে। অ্যাজমা বাড়লে কখনোই শুয়ে থাকা উচিত না। একটু কুজো হয়ে বসে থাকা ভালো। অ্যাজমা শুরু হওয়ার আগে বদহজম কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা ডায়ারিয়া সমস্যা দেখা দেয় কারও কারও। তাই এমনটা হলেই সচেতন হতে হবে। শীতে বৃদ্ধদের অ্যাজমা বাড়ে। ধূমপান ও অন্যান্য তামাক জাতীয় দ্রব্য পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। ধুলাবালি থেকে নিজেকে দূরে রাখা। যে খাবারে অ্যাজমা বাড়ে সেগুলো এড়িয়ে চলা। নিয়মিত ও পরিমিত মাত্রায় উষ্ণ পানি পান অ্যাজমার ক্ষেত্রে বেশ উপকার। পুরনো চালের ভাত, পটোল, কচিমুলা, তেলাকুচার শাক, বেতোশাক, রসুন, আদা, ছাগলের দুগ্ধ ও ঘৃত, দেশি মোরগ অ্যাজমায় আক্রান্তরা খেলে উপকার হয়।

শীতের সময় ঠান্ডায় বেড়ানো বাদ দিতে হবে। ভারবহন, ধুলাবালি এড়িয়ে চলা, তৈলাক্ত খাবার, মাষকলাই, দই, দুধ, কলা, পেয়ারা, ঠান্ডা খাবার, আলু এবং পিচ্ছিল জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। শীতবস্ত্র রোদে দিয়ে ব্যবহার করা। কম্বোল ব্যবহার করলে তাতে কভার দিয়ে নিতে হবে। ধুলাবালিতে যাওয়ার সময় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা যেহেতু শ্বাসজনিত প্রদাহ। তাই এ ধরনের রোগীকে সবসময় ডাক্তারের পরামর্শে থাকা ভালো। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ইনহেলার ও ওষুধ সেবন করতে হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত