হাসপাতালের ইনকিউবেটরে আগুন, নবজাতকের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩২ এএম

রাজধানীর চানখাঁরপুলে একটি বেসরকারি হাসপাতালের ইনকিউবেটরে আগুন লেগে ৩ ঘণ্টা বয়সী এক নবজাতক গুরুতর দগ্ধ হয়েছে। শিশুটির শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের এনআইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন সে।

গতকাল শনিবার সকাল ৭টার দিকে রয়েল কেয়ার হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ নবজাতক বগুড়ার কাহালু উপজেলার পলিবগুই গ্রামের মো. রাব্বানীর সন্তান।

রাব্বানী জানান, শনিবার ভোর ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে তার সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। ঢামেকে শয্যা না থাকায় এক চিকিৎসকের পরামর্শে ওয়ার্ডবয়ের মাধ্যমে শিশুটিকে রয়েল কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাকে ইনকিউবেটরে রাখা হয়। এ সময় কাগজপত্রের কাজ করছিলেন রাব্বানী ও তার ভাতিজা। হঠাৎ চিৎকার শুনে ছুটে গিয়ে দেখেন, ইনকিউবেটরে আগুন জ্বলছে এবং শিশুটির শরীরও দগ্ধ হয়েছে। তখন হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্মীদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

স্বজনরা আগুন নেভানোর পর শিশুটিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেন। পরে শিশুটিকে রয়েল কেয়ার হাসপাতাল ফিরিয়ে নিতে চায়। শিশুর পরিবার বাধা দিলে হাসপাতালের লোকজন তাদের মারধর করেন। তিনি বলেন, ‘অবহেলায় আমার বাচ্চার শরীরটা পুইড়া গেল। আমি এই কসাইদের বিচার চাই।’

রয়েল কেয়ার হাসপাতালের ইনচার্জ মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এটি দুর্ঘটনা। তাদের ধারণা, শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল না। অন্য রোগীর স্বজনের সঙ্গে বাগবিত-া ও হাতাহাতি হয়েছিল।

হাসপাতালটির রিসেপশনিস্ট সানজিদা জানান, ঘটনার পর তারা নিজেদের কর্মীদের মাধ্যমে শিশুটিকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠান। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও তাদের কাছে রয়েছে। ঢামেকের চিকিৎসক তাজকিয়া হক জানান, শিশুটির শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত