হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেও ঘনিষ্ঠ কট্টরপন্থী উপদেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কংগ্রেসে শক্তিশালী হয়ে ওঠা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশের দুদিনের মাথায় হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ পদে নিজের দীর্ঘদিনের উপদেষ্টা ও কট্টরপন্থী রাজনৈতিক সহযোগী স্টিফেন মিলারকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই নিয়োগ ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার পরিবর্তে নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হতে পারে। খবর বিবিসি'র।

শুক্রবার হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে সুসি ওয়াইলসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন মিলার বলে ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর আগে মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর তিনি কংগ্রেসে নতুন করে শক্তিশালী হয়ে ওঠা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জানিয়েছিলেন।

তবে মিলারকে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে বসানোর সিদ্ধান্তকে কংগ্রেসের প্রতি সমঝোতার বার্তা হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। তাদের মতে, হোয়াইট হাউসের শীর্ষ পদে দলীয় অবস্থানে অনড় ও আক্রমণাত্মক একজন ব্যক্তিকে বসিয়ে রাজনৈতিক সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প।

নিয়োগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মিলার লেখেন, ‘এখন আমাদের লক্ষ্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে স্পষ্ট। প্রেসিডেন্টকে সমর্থন এবং এই মহান প্রজাতন্ত্রকে রক্ষায় সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করতে হবে।’ তাকে এই দায়িত্ব দেওয়ায় ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ সম্মান ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

ওয়াশিংটনের সবচেয়ে প্রভাবশালী পদগুলোর একটি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কারা সাক্ষাৎ করবেন, কোন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে এবং প্রশাসনের নীতিনির্ধারণ কীভাবে এগোবে, এসব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে এই কর্মকর্তার। পাশাপাশি কংগ্রেস ও বাইরের রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনায়ও তাকে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করতে হয়।

নিয়োগের বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘স্টিফেন মিলার শুরু থেকেই আমার সঙ্গে আছে। সে বিষয়গুলো বোঝে।’

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতির অন্যতম প্রধান রূপকার হিসেবে পরিচিত মিলার। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রমে অর্থায়ন বাড়ানোর পেছনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

মিনিয়াপোলিসে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযানের সময় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত অ্যালেক্স প্রেটিকে ‘অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী’ ও ‘হত্যাকারী’ আখ্যা দিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন মিলার। পরে নিজের বক্তব্য থেকে সরে এসে তিনি বলেন, ফেডারেল এজেন্টরা হয়তো যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেননি।

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সন্দেহভাজন মাদক পাচারবিরোধী অভিযান পরিচালনায়ও মিলারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেছেন বিরোধীরা।

২০১৬ সালে ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারাভিযানের শুরুতেই কৌশলবিদ হিসেবে তার দলে যোগ দেন মিলার। নির্বাচনী সমাবেশগুলোতে উত্তেজনাপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে তিনি দ্রুত পরিচিতি পান। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পুরো সময় টিকে থাকা হাতে গোনা কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার একজন ছিলেন তিনি।

২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয় উল্টে দেওয়ার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর রাজনৈতিকভাবে কঠিন সময়েও ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখেন মিলার। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প তাকে নীতিবিষয়ক উপপ্রধান চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব দেন।

অন্যদিকে, সুসি ওয়াইলস ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের সফল প্রচারাভিযান যৌথভাবে পরিচালনা করেছিলেন। পেশাদার ও ঠান্ডা মাথার সংগঠক হিসেবে তার সুনাম ছিল। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ঘন ঘন কর্মকর্তা পরিবর্তন, নীতিগত সিদ্ধান্তে নাটকীয় উল্টাপাল্টা অবস্থান এবং কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের যে চিত্র দেখা গিয়েছিল, ওয়াইলসের সময়ে তা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে থাকায় ওয়াইলসের ওপর থেকে তার আস্থা কমতে শুরু করে। মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর সেই অসন্তোষ আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ওয়াইলসের ঘনিষ্ঠজনেরা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে লাভজনক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে কাজ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন—এমন সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত