ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাচ্ছেন আইনজেনকোট

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০৯ এএম

ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব বিরোধী দল ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইনজেনকোটকে দিতে যাচ্ছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। আজ রবিবার (৮ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট দেওয়া হবে। এ জন্য আইনজেনকোট ২৮ দিন সময় পাবেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

শনিবার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার গঠনের দায়িত্ব আইনজেনকোটকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা তাকে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। রবিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা) প্রেসিডেন্টের বাসভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে ম্যান্ডেট তুলে দেওয়া হবে।

এর আগে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করেন প্রেসিডেন্ট। এতে পার্লামেন্ট নেসেটের ৬৭ সদস্যের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো আইনজেনকোটের পক্ষে মত দেয়। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে সুপারিশ করে ৪৬ সদস্যের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো। সাত সদস্যের একটি দল কোনো প্রার্থীর পক্ষেই সুপারিশ করেনি।

প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন হারজগ। এসব আলোচনায় নেতানিয়াহু ও আইনজেনকোটও ছিলেন।

প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ২৮ দিনের মধ্যে জোট সরকার গঠনের সুযোগ পাবেন। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট আরও সর্বোচ্চ ১৪ দিন সময় বাড়াতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে হারজগ জানিয়েছিলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি আরও আলোচনা করবেন। তাঁর মতে, শুধু সুপারিশের সংখ্যার ভিত্তিতে সরকার গঠনের সক্ষমতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। কারণ, মন্ত্রিসভার পদ বণ্টনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ ও পরস্পরবিরোধী দাবি রয়েছে।

গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে পারেনি। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি এবং আইনজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ২১টি আসন পায়। বাকি আসনগুলো পায় অন্যান্য দল।

চূড়ান্ত ফলাফলে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পায় ৫৩টি আসন। তাঁর বিরোধী ইসরায়েলি দলগুলো পায় ৪৮টি আসন। এ ছাড়া আরবদের দুটি দল—জয়েন্ট লিস্ট ও ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রাআম) মিলে পায় ১৯টি আসন। সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর আসন দাঁড়ায় ৬৭টি। এসব দলই আইনজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

তবে আইনজেনকোটের শিবিরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দল আরব দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠনের বিরোধী। ফলে তাকে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার বিকল্প পথ খুঁজতে হবে। অন্যথায় বাইরের দলের সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে।

এদিকে নেতানিয়াহুর জোটের অংশ অতি-গোঁড়া ইহুদিদের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সাত সদস্য কোনো প্রার্থীর পক্ষেই সুপারিশ করেননি। অতি-গোঁড়া ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে জোটের শরিকদের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে তারা এ সিদ্ধান্ত নেয়।

সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আইনজেনকোটকে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর মতপার্থক্য দূর করতে হবে। অন্যদিকে নেসেটে একক বৃহত্তম দল হিসেবে লিকুদের ২৭টি আসন রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের চেয়ে দলটির আসন ৩৪টি কম।

আইনজেনকোট নির্ধারিত ২৮ দিন এবং প্রেসিডেন্টের দেওয়া অতিরিক্ত সময়ের মধ্যেও সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে ইসরায়েলে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুর সরকার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

ইসরায়েলের দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রীদের একজন নেতানিয়াহু। তিনি প্রথমবার ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় ফিরে ২০২১ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আবারও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।

দুর্নীতির তিনটি মামলায় ২০২০ সাল থেকে ইসরায়েলে তাঁর বিচার চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি।

এ ছাড়া গাজা উপত্যকায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত