খুলনা মহানগরীতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে গত ১৫ দিনে নগরীর চারটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দফায় দফায় সশস্ত্র হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। প্রকাশ্যে অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি, গুলিবর্ষণ ও মারধরের এসব ঘটনায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
সর্বশেষ শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১টার দিকে নগরীর খানজাহান আলী রোডের পিটিআই মোড়সংলগ্ন নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে হামলার ঘটনা ঘটে। ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র দল এ হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়াল ও হাতুড়ি নিয়ে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), টেলিভিশন, সামনের দরজার কাচ ও অভ্যর্থনা কাউন্টার ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি এক কর্মীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় তারা।
প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার জানান, প্রায় এক মাস আগে স্থানীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী নূর আজিম বাহিনীর পরিচয়ে ফোন করে তাঁদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। সেই চাঁদা না দেওয়ায় এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ দিনে ধারাবাহিকভাবে নগরীর বিভিন্ন চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর বাবু খান রোডের সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রথম ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গুলিও ছোড়ে দুর্বৃত্তরা।
এর পরদিন ২৫ অক্টোবর সোনাডাঙ্গায় অবস্থিত সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বিতীয় শাখায় কর্তব্যরত চিকিৎসকদের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা।
গত ৩ নভেম্বর শামসুর রহমান রোডের আব্দুল্লাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টার (আব্দুল্লাহ প্যাথলজি) ও রংধনু ক্লিনিকে হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে কর্মচারীদের মারধর করে এবং প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়।
সর্বশেষ ৭ নভেম্বর খানজাহান আলী রোডের নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দিনের বেলায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
শুধু ডায়াগনস্টিক সেন্টার নয়, গত ২৯ অক্টোবর একই চক্রের দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়া এবং ফোন না ধরার অভিযোগে নগরীর একটি ঐতিহ্যবাহী চীনা রেস্তোরাঁ ও টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের চয়নিকা ফার্মেসিতে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার পর থেকে ফার্মেসিটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর আগে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় টুটপাড়ার এক কলেজ শিক্ষককেও গুলি করে সন্ত্রাসীরা।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম জানান, সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গুলিবর্ষণের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অন্যান্য ঘটনায় ভুক্তভোগী ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকেরা আতঙ্কের কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন রিপন জানান, সর্বশেষ হামলার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। নূর আজিম বাহিনীসহ নগরীতে সক্রিয় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রগুলোকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।