ভারতের গুজরাটে ‘এসডি পে’ নামের একটি ডিজিটাল ওয়ালেট অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ও পঞ্জি স্কিমের আদলে পরিচালিত এই প্রতারণার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২০টি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্তত ১২ জনকে। খবর আনন্দবাজার।
গুজরাটের অমরেলী পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অ্যাপটির মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ মানুষকে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে ধবল পটেল নামের এক ব্যক্তি ‘আপনা পে’ নামেও পরিচিত অ্যাপটি চালু করেন। বিল পরিশোধ ও মোবাইল রিচার্জের পাশাপাশি বিনিয়োগের বিপরীতে প্রতিদিন ০.১৫ থেকে ০.৩০ শতাংশ মুনাফার প্রলোভন দেখানো হতো।
তদন্তকারীদের দাবি, নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ দিয়েই পুরোনো বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দেওয়া হতো। এভাবে সাতটি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করা হলেও সেগুলোর কোনো প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা আয় ছিল না। রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এই প্রতারণার জাল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মূল অভিযুক্ত ধবল পটেল গুজরাটের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম সম্প্রসারণের পর গান্ধীনগরে কার্যালয় খোলেন। সেখানে বিপণনকর্মী নরেন্দ্রসিংহ ঝালার সঙ্গে পরিচয়ের পর অ্যাপটির প্রচার আরও জোরদার করা হয়। বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন প্রচারণার পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী বক্তব্যও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর অমরেলী সাইবার ক্রাইম পুলিশ অ্যাপটির উদ্যোক্তা, পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করে। এরপর একের পর এক ভুক্তভোগী সামনে আসতে থাকেন।
এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সুরেন্দ্রনগরের এক ব্যক্তি বিনিয়োগের জন্য নিজের নামে ২০ লাখ, স্ত্রীর নামে ২০ লাখ টাকা ব্যক্তিগত ঋণ এবং আরও ২০ লাখ টাকার স্বর্ণঋণ নেন। সব মিলিয়ে ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেও এখন মূলধন ফেরত পাচ্ছেন না তিনি।
অন্যদিকে, ভডোদরার ৪৮ বছর বয়সী এক শিক্ষিকা ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজের এক কক্ষের ফ্ল্যাট বিক্রি করে পাওয়া ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা অ্যাপটিতে বিনিয়োগ করেন। পরে তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা অর্থের পরিমাণ ৫০ লাখ টাকায় পৌঁছালেও তা তুলতে পারেননি। এর মধ্যেই অ্যাপটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
ওই শিক্ষিকার দাবি, বিনিয়োগে আস্থা অর্জনের জন্য তাঁকে এসক্রো ওয়ালেটের নথি এবং স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেকও দেওয়া হয়েছিল। প্রয়োজনে নিজের ইচ্ছামতো টাকার অঙ্ক বসিয়ে চেক ভাঙানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
পুলিশের ভাষ্য, বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দেওয়ার মতো কোনো প্রকৃত মূলধন বা ব্যবসায়িক আয় ছিল না প্রতিষ্ঠানটির। নতুন গ্রাহকের অর্থ দিয়েই পুরোনো গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করে দীর্ঘদিন প্রতারণা চালানো হয়েছে।
বর্তমানে অমরেলী পুলিশ পুরো চক্রের আর্থিক লেনদেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা এবং প্রতারণার বিস্তৃতি খতিয়ে দেখছে।