রাগ নিয়ন্ত্রণে হাদিসের ৫ উপদেশ

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০০ এএম

রাগ মানুষের স্বাভাবিক আবেগ। এই আবেগের বশবর্তী হয়ে মানুষ অনেক সময় এমন কথা বলে ও কাজ করে, যা পরে অনুশোচনার কারণ হয়। রাগের কারণে নষ্ট হয় পারিবারিক সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও সামাজিক সম্প্রীতি। তাই রাগ নিয়ন্ত্রণ করা ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম মানুষকে রাগ দমন, ধৈর্য ধারণ ও ক্ষমাশীল হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তার কথা ও কাজের মাধ্যমে রাগ নিয়ন্ত্রণের বেশ কিছু কার্যকর পদ্ধতি শিখিয়েছেন। সেসব শিক্ষা অনুসরণ করলে রাগের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।

রাগ না করার উপদেশ : রাগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে নবীজি (সা.)-এর সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ হলো, ‘রাগ করো না।’ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবীজি (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন, ‘রাগ করো না।’ লোকটি কয়েকবার উপদেশ চাইলেও প্রতিবারই তিনি বললেন, ‘রাগ করো না।’ (সহিহ বুখারি)

এই উপদেশের মাধ্যমে নবীজি (সা.) রাগের বশবর্তী হয়ে অন্যায় আচরণ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রকৃত শক্তির পরিচয় : মানুষ সাধারণত শারীরিক শক্তি দিয়ে অন্যকে পরাজিত করাকে বীরত্ব মনে করে। কিন্তু নবীজি (সা.) শক্তির ভিন্ন সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রকৃত শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করে। বরং প্রকৃত শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ (সহিহ বুখার)।

আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া : রাগের সময় মানুষ অনেক ক্ষেত্রে বিবেক-বুদ্ধি হারিয়ে ফেলে। এ অবস্থায় শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাঁচতে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন নবীজি (সা.)। তিনি বলেন, আমি এমন একটি বাক্য জানি, যা কেউ বললে তার রাগ দূর হয়ে যাবে। কেউ যদি বলে, আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম, তাহলে তার রাগ চলে যাবে।’ (সহিহ বুখারি)

অবস্থান পরিবর্তন করা : রাগের সময় নিজেকে শান্ত করার জন্য শারীরিক অবস্থান পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছেন নবীজি (সা.)। তিনি বলেন, ‘তোমাদের কেউ দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রাগান্বিত হলে সে যেন বসে পড়ে। তাতেও রাগ দূর না হলে যেন শুয়ে পড়ে।’ (সুনানে আবু দাউদ)

এ নির্দেশনার মাধ্যমে রাগের মুহূর্তে উত্তেজনা কমানোর একটি বাস্তবসম্মত পদ্ধতি পাওয়া যায়।

ক্ষমা করা : রাগ দমন করা এবং অন্যকে ক্ষমা করা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা রাগ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান ১৩৪)

রাগের সময় প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সংযত থাকার বিশেষ পুরস্কারের কথা জানিয়েছেন নবীজি (সা.)। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি প্রতিশোধ নেওয়ার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও রাগ সংবরণ করে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সব সৃষ্টির সামনে ডেকে তার পছন্দমতো পুরস্কার বেছে নেওয়ার সুযোগ দেবেন। (সুনানে আবু দাউদ)

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত