আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে বহিষ্কৃত আশিকুল ইসলাম বিটুর ক্লাসে ফেরার ঘটনার প্রতিবাদে একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৯ আগস্ট) সকালে ক্লাস বর্জনের এই কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর সকাল দশটা থেকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অফিসের সামনে অবস্থান নেওয়া শুরু করে। এ সময় তাদের হাতে ‘নো ক্যাম্পাস শেয়ারিং উইথ অ্যা মার্ডারার’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস বর্জনের এই কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিটুর কোর্স রেজিস্ট্রেশন বাতিলসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বাতিল করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে আশিকুল ইসলামের (বিটু) কোর্স রেজিস্ট্রেশন বাতিলসহ সকল একাডেমিক কার্যক্রম বাতিল করতে বুয়েটে শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়।
সোমবার (৭ আগস্ট) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আশিকুল ইসলাম (বিটু) ক্লাসে ফিরে আসার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা আবরার ফাহাদ হত্যার তদন্তে অসহযোগিতা এবং র্যাগিংয়ের ঘটনায় বুয়েটের আজীবন বহিষ্কৃত ছাত্র আশিকুল ইসলাম বিটুর ক্লাসে ফেরার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। এরকম একজনের সঙ্গে ক্লাস এবং ক্যাম্পাস শেয়ার করতে আমরা কোনোভাবেই রাজি নই।
এর আগে, ২০২১ সালের ২২ মে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অনলাইন ক্লাসে যোগদান করেন আশিকুল ইসলাম বিটু। তখন শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনের মতো প্রতিবাদ কর্মসূচি দিলে তিনি আর ক্লাস করতে পারেননি।
সম্প্রতি আবারো আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম (বিটু) ক্লাসে ফিরেছেন। গত রবিবার (৬ আগস্ট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৯ ব্যাচের ক্লাসে তাকে আবারো দেখা যায়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা।
