বহুতল ভবনে নেই পার্কিং, তীব্র যানজট

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৫৯ পিএম

এক সড়কের শহর হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ। নগরীর ব্যস্ততম এই বঙ্গবন্ধু সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় দেড় কিলোমিটার। নগরবাসীকে যানজটের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে সড়কটি ও এর লাগোয়া ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল সব হকারকে। কিন্তু দেড় কিলোমিটার এই রাস্তার প্রায় পুরোটাই অবৈধ পার্কিংয়ের দখলে থাকায় হকার উচ্ছেদের সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী। কারণ বঙ্গবন্ধু সড়ক লাগোয়া অধিকাংশ বহুতল মার্কেটেই নেই যানবাহন পার্কিংয়ের সুবিধা। আবার হাতেগোনা যে কয়েকটি মার্কেটে গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা আছে সেগুলোরও যথাযথ ব্যবহার হয় না। কিছু ভবনের নিচে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা থাকলেও সেগুলো তালা দিয়ে রাখা হয়। আবার কিছু ভবনের নিচে পার্কিংয়ের জায়গা গোডাউন হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ফলে মার্কেটগুলোতে আসা ক্রেতারা রাস্তায় গাড়ি পার্ক করতে বাধ্য হন। আর তার প্রভাবে পুরো শহরজুড়েই প্রতিনিয়ত লেগে থাকছে তীব্র যানজট।

সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু সড়কের বিভিন্ন মার্কেটের সামনে রাস্তার ওপর প্রাইভেট কার, ট্যাক্সি, সিএনজি অটোরিকশা ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন কোম্পানির গাড়ি যত্রতত্র পার্কিং করে রাখা হচ্ছে। শুধু রাস্তা নয়, ফুটপাতজুড়েও পার্ক করে রাখা হচ্ছে শত শত মোটরসাইকেল। সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, সড়কটির যেসব স্থানে স্পষ্ট বাংলা শব্দে ‘নো পার্কিং’ কিংবা ‘পার্কিং নিষেধ’ সাইনবোর্ড লেখা রয়েছে সেসব স্থানেই আরও বেশি করে যানবাহন রাখা হচ্ছে। এতে করে পথচারী ও যানবাহন চলাচল বাধার মুখে পড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশে অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশকে কঠোর অবস্থান নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় কিছুদিন বঙ্গবন্ধু সড়কে অবৈধ পার্কিং করা হলেই জরিমানা কিংবা মামলা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশের শিথিলতার কারণে আবারও সেই দখল ও পার্কিং শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চাষাঢ়া গোলচত্বর এলাকায় ছিল যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং। বিভিন্ন যানবাহন অবৈধভাবে পার্কিং করা ছিল মার্ক টাওয়ারের সামনে, সোনালী ব্যাংকের সামনে থেকে সমবায় মার্কেটের সামনে, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে, সায়াম প্লাজার সামনে, বাঁধন কমিউনিটি সেন্টারের সামনে ও করতোয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে। কিন্তু কোনো জায়গায়ই অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান কিংবা টহল টিম দেখা যায়নি।

শহরের সায়াম প্লাজার ব্যবসায়ী নাজিমউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুলিশ কদিন কঠোর থাকায় কেউ ফুটপাতের ওপরে কিংবা রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করেনি। মানুষ ভালোভাবে হাঁটতে পেরেছিল। কিন্তু যেই পুলিশ অভিযান বন্ধ করে দিয়েছে, তখন থেকেই আবারও শুরু হয়েছে অবৈধ পার্কিং।’

শহরের দুই নম্বর রেলগেট এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, ‘ইতিপূর্বে এ ব্যাপারে পুলিশি তৎপরতা লক্ষ করা গেলেও ইদানীং কোনো নজরদারি না থাকায় নো-পার্কিং এলাকায় যত্রতত্র গাড়ি পার্ক করে রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আর এর প্রভাবে পুরো শহরেই যানজট দেখা যাচ্ছে।’

শহরজুড়ে অবৈধ পার্কিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের পরিদর্শক সাজ্জাদ রোমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে যেমন পুলিশ কাজ করছে, তেমনি অবৈধ পার্কিং রোধেও পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। কিন্তু পুলিশের আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজের সুযোগটা নিয়েছে ওইসব গাড়ির চালক ও মালিকরা। তবে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘শুধু গাড়িচালক ও মালিকদের দোষ নয়। এখানে বহুতল ভবন মালিক ও মার্কেটগুলোরও দোষ রয়েছে। তারা কেন ভবনের নিচে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখেনি। যার জন্য অনেক সময় গাড়ি রাস্তায় পার্কিং করতে বাধ্য হয়। এসবের জন্য আমাদের পক্ষেও পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। দোকান মালিকদের নোটিস দেওয়া উচিত, তারা যেন গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এজন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনকেও উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত