বছরটা শেষ পর্যন্ত চলেই গেল! এসেছিল করোনার আতঙ্ক নিয়ে, চলে গেল অনিশ্চয়তায় রেখে। পুরো বছর ছিল মধ্যবিত্তের অস্থিরতা আর নিম্নবিত্তের হাহাকার। করোনার অজুহাতে কর্মসংস্থানের সব ক্ষেত্র সংকুচিত হয়েছে, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে জিনিসের দাম। শিক্ষাজীবন প্রায় বিধ্বস্ত, চিকিৎসার ব্যয় আকাশচুম্বী, খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। নারীর ওপর নানাবিধ নিপীড়ন, সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা, বিরোধী মতের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন নিয়ে একটা বছর কেটে গেল। যেভাবেই হোক ২০২১ সাল তো চলে গেল কিন্তু ২০২২ সাল কী নিয়ে আসবে, আমাদের সামনে সম্ভাবনার কোন কোন দরজা খুলে যাবে অথবা সংকটের গহ্বর কতটা গভীর হবে এই বছরে? ২০২১ সালে মহাসমারোহে পালিত হয়েছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। দেশের অগ্রগতি নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের উচ্ছ্বাস আয়োজন ছিল চোখে পড়ার মতো। সুউচ্চ ভবন, প্রশস্ত রাস্তা, ফ্লাইওভার, সেতু, টানেল, মেট্রোরেলসহ দৃশ্যমান নানা মেগা প্রকল্পের বাংলাদেশ নিয়ে উচ্ছ্বসিত অনেকে। কিন্তু অবকাঠামো তো মানুষের জন্য। সেই মানুষদের অবস্থা কেমন?
মাথাপিছু আয় ২৫৫৪ ডলার। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ শীর্ষে এসেছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি তাক লাগানো। উচ্চ জিডিপির এই তালিকার শীর্ষ দশটি স্থানে কয়েকটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশও রয়েছে। যেমন : দক্ষিণ সুদান, রুয়ান্ডা, লিবিয়া, ডোমিনিকা, ইথিওপিয়া, বাংলাদেশ, আর্মেনিয়া, তাজিকিস্তান, জিবুতি ও নেপাল। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিসটিকস রিভিউ-২০২১ মতে, পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ তৃতীয়, ২০২০ পর্যন্ত ছিল দ্বিতীয়। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে অষ্টম-নবম স্থানে। উল্লেখযোগ্য আরও দুটি অবস্থান হচ্ছে, জনশক্তি রপ্তানি ও আউটসোর্সিং। উভয় খাতেই দেশের অবস্থান অষ্টম। জাহাজভাঙা শিল্পে বিশ্বে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা ইউএনডিপি ২০১৭ সাল থেকে বৈশ্বিক জ্ঞান সূচক প্রকাশ করে আসছে। প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, অর্থনীতি আর পরিবেশ এই সাতটি প্রধান বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে ১৯৯টি সূচকের মাধ্যমে ১৩৮টি দেশের মধ্যে এই র্যাংকিং করা হয়েছিল। গ্লোবাল নলেজ ইনডেক্স-২০২০-এ দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে ভারত (৭৫) ও তলানিতে বাংলাদেশ (১১২)। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কার অবস্থান ৮৭, ভুটান ৯৪, নেপাল ১১০ ও পাকিস্তান ১১১। বাংলাদেশ সবচেয়ে পিছিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনে, যেখানে স্কোর ১০০-তে মাত্র ১৬ দশমিক ৪১ আর উচ্চশিক্ষায় ২৪ দশমিক ১ স্কোর নিয়ে বিশ্বের মধ্যে অবস্থান ১২৯। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিচে আছে বিশ্বের মাত্র ৯টি দেশ। বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান তলানিতে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডসের (কিউএস) সর্বশেষ র্যাংকিং অনুযায়ী, বিশ্বেও ১ হাজার ৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৮০১ থেকে ১০০০-এর মধ্যে। ২০১২ সালেও ৬০১তম ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
আন্তর্জাতিক মর্যাদায় কেমন আমরা? বিশ্বে পাসপোর্টের মান নির্ধারণকারী সূচক ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স-২০২১’ সূচকের ১১৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১০৮তম স্থানে রয়েছে। ২০০৭ সালের ৬৮তম অবস্থান থেকে ক্রমাগত পাসপোর্ট মান দুর্বল হচ্ছে। ইউএনডিপির মানব উন্নয়ন সূচকে ১৮৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৩তম। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির মতে ৬ কোটি ৮০ লাখ মানুষ দরিদ্র। বৈষম্য মাপার গিনি সূচকে বাংলাদেশ ০.৪৭৮। কোনো দেশ এই সূচকে দশমিক ৫০-এর ঘর পেরোলেই সে দেশকে উচ্চ বৈষম্যের দেশ হিসেবে ধরা হয়। শ্রমশক্তির ৫৫ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। ওয়েলথ-এক্সের ‘আ ডিকেড অব ওয়েলথ’ গবেষণায় এক দশকে ধনকুবেরের সংখ্যা বৃদ্ধির হারে (১৪ দশমিক ৩ শতাংশ) বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে বাংলাদেশ। করোনাকালেও কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ১৭ হাজার ৪৬১ জন।
অর্থনীতির চালিকা শক্তি শ্রমিকের অবস্থা কেমন? মাথাপিছু আয় বাড়লেও শ্রমিক কৃষকের আয় বাড়ছে না। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রকাশিত গ্লোবাল ওয়েজ রিপোর্ট ২০২০-২১ অনুযায়ী এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ন্যূনতম মজুরিতে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। ক্রয়ক্ষমতার বিবেচনায় ২০১৯ সালে বাংলাদেশের মাসিক ন্যূনতম গড় মজুরি ছিল গড়ে ৪৮ ডলার। আর তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা প্রায় ১০০ ডলার মজুরি পান। সেই মজুরি আর বাড়েনি। ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কার চেয়ে বাংলাদেশে শ্রমিকের মজুরি অনেক কম। তৈরি পোশাক রপ্তানিকারী দেশের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশে বাংলাদেশ শীর্ষে।
জনজীবনে শান্তিও কমে যাচ্ছে। ২০২১ সালের বৈশ্বিক শান্তি সূচক (জিপিআই) অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ৯১তম স্থানে। তবে বিশ্বেও ১৬১টি দেশ ও অঞ্চলে ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নারী নির্যাতনের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, স্ত্রী নির্যাতনের হারে বিশ্বে চতুর্থ বাংলাদেশ। বাল্যবিবাহে বাংলাদেশ চতুর্থ। ইভটিজিংয়ের শিকার ২৮ শতাংশ। তবে করোনাকালে দেশে ২৩ শতাংশ নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন (বিশ্বে ১৬তম)। যৌন সহিংসতায় ঢাকা বিশ্বের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে। বিষণœতায় ভোগেন ঢাকার ৭১ শতাংশ অধিবাসী, বৈশ্বিক হিসাবে যা অন্যতম শীর্ষে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ডব্লিউইএফ সামাজিক উত্তরণ সূচক-২০২০ মতে, বাংলাদেশ ৮২টি দেশের মধ্যে ৭৮তম, অর্থাৎ সুষম উন্নয়নের ক্ষেত্রে পেছনের দিকে। সুষম পুষ্টির অভাবে দেশের ৩৬ শতাংশ শিশু খর্বকায়। ৫১ শতাংশ শিশু অ্যানিমিয়ায় ভুগছে। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ২০১৬ মতে, মারাত্মক অপুষ্টির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর তালিকাতেও বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে। বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশের শিশুরা তার সম্ভাবনার মাত্র অর্ধেক কাজে লাগাতে পারে।
করোনা দেখিয়েছে স্বাস্থ্যব্যবস্থার কি বেহাল দশা! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, চিকিৎসাব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতি বছর ১ কোটি ১৪ লাখের মতো মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশের মধ্যে শুধু পূর্ব তিমুরের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। বাংলাদেশ সরকার জিডিপির ১ শতাংশের কম খরচ করে স্বাস্থ্য খাতে, যা বৈশ্বিক অবস্থানে তলানিতে। চিকিৎসাসহ স্বাস্থ্যসেবা খাতে যত খরচ হয়, তার ৬৯ শতাংশ যায় ব্যক্তির পকেট থেকে। বাকি ৩১ শতাংশ খরচ করে সরকার, এনজিও ও দাতা সংস্থা। এদিকে ক্ষুধা বা ‘হাঙ্গার ইনডেক্স’-এ বাংলাদেশ বিশ্বে ১০৩তম।
জনসংখ্যা বাড়লেও দেশের কৃষিজমি ও বনভূমি দুই-ই কমেছে। খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও’র ‘স্টেট অব দ্য ওয়ার্ল্ডস ফরেস্ট-২০১৬’ প্রতিবেদন মতে, ২৫ বছরে বাংলাদেশের ৬৫ হাজার হেক্টর বনভূমি কমেছে। বিশ্বের ২০০টি দেশের মধ্যে ১৭টি দেশে বনভূমি কমেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে। কাগজে-কলমে ভূখণ্ডের সাড়ে ১৩ শতাংশ বনভূমি, যা ২৫ শতাংশ হওয়া উচিত। পরিবেশ দূষণে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৭৯! সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা, দিল্লি ও করাচিকে পেছনে ফেলে শীর্ষে পৌঁছেছে। এক যুগে দূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ৫৪ ধাপ নিচে নেমেছে। আইকিউএয়ারের বায়ুমান সূচক অনুযায়ী বিশ্বের শীর্ষ দূষিত ১০০ শহরের মধ্যে বাংলাদেশের ৪টি।
সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণে হিড়িক পড়লেও ২০০৭ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের কোয়ালিটি অব রোডস সূচকে ভারত ছিল ৮২ নম্বরে, বাংলাদেশ ৮৩-তে। ২০১৯ সালে ভারত উঠে এসেছে ৫৫ নম্বরে, কিন্তু একই সময়ে কিলোমিটারপ্রতি রাস্তায় বিশ্বরেকর্ড পরিমাণে খরচ করেও অবনমন হতে হতে বাংলাদেশের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১০৭-এ। কিলোমিটারপ্রতি রাস্তায় বাংলাদেশের ব্যয় ভারতের প্রায় নয় গুণ, ইউরোপের তিন গুণ। ১০ বছরে রাস্তায় ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ করলেও বাংলাদেশে চার লেনের সড়কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫০০ কিলোমিটার। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। দি ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের গ্লোবাল লাইভঅ্যাবিলিটি ইনডেক্স ২০১৯ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক ও নাইজেরিয়ার বাণিজ্যিক রাজধানী লাগোসের ঠিক পরেই ঢাকাকে বিশ্বের তৃতীয় সর্বনিম্ন বাসযোগ্য শহর হিসেবে স্থান দিয়েছে। ১৪০টি মেগাসিটির মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৩৮তম। ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে ট্র্যাফিক জ্যামের শিকার ৯১ শতাংশ মানুষ।
ডিজিটাল হয়ে ওঠার কথা প্রতিদিন শোনার পরও ইন্টারনেটের গতি মাপার আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ওকলার ‘স্পিডটেস্ট গ্লোবাল ইনডেক্স’র মতে, বিশ্বেও ১৩৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৫ নম্বরে (জুন ২০২১)। পেছনে রয়েছে শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান এবং বাণিজ্য-নিষেধাজ্ঞায় দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ভেনিজুয়েলা। সামাজিক মাধ্যমে যে উগান্ডাকে নিয়ে প্রতিনিয়ত ট্রল করা হয়, তারাও আমাদের চেয়ে আট ধাপ এগিয়ে। বিশ্বের প্রধান সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সার্ফশার্ক প্রকাশিত ‘ডিজিটাল কোয়ালিটি অব লাইফ ইনডেক্স ২০২১’ ডিজিটাল জীবনযাত্রার সূচকে ১১০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১০৩তম।
আইনের শাসন আর গণতান্ত্রিক আইনের শাসন এক কথা নয়। তার পরও ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের ‘রুল অব ল ইনডেক্স’ সূচককে আইনের শাসনের ওপর প্রকৃত তথ্যের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১৮ সালের প্রকাশিত সূচকের সামগ্রিক ‘আইনের শাসনে’ ১১৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০২তম। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ আর মধ্য আয়ের ৩০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ২২তম। আবার ‘সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার’-এর বিচারে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শীর্ষে! অন্যদিকে উদার গণতান্ত্রিক সূচকে ১৭৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫৪তম। আর ‘নির্বাচনভিত্তিক গণতন্ত্রের সূচকে’ (ইলেকটোরাল ডেমোক্রেসি ইনডেক্স) বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৮তম এবং এই স্কোর কমেছে। সুইডেনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভ্যারাইটিজ অব ডেমোক্রেসি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশ আছে নির্বাচনভিত্তিক স্বেচ্ছাতন্ত্র বিভাগে। জাতীয় নির্বাচন বা স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে এটা আমাদের দেশের জনগণের চেয়ে ভালো আর কারা অনুভব করছে?
২০২১ শেষ হলো নির্বাচনী সংলাপের দুর্বলতা দিয়ে, ২০২২ এলো কি সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে? করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন চোখ রাঙাচ্ছে, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব আতঙ্ক বাড়াচ্ছে, লুটপাটকারীরা নতুনভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর অধিক উন্নয়ন ও সীমিত গণতন্ত্রে মানুষ দেখছে আসছে আরেকটা নতুন বছর।
লেখক রাজনৈতিক সংগঠক ও কলামনিস্ট