মহিমার অবসান : নজরুল ইসলাম ও আধুনিক বাংলা কবিতা

আপডেট : ২৪ মে ২০২২, ১০:২৯ পিএম

কাজী আবদুল ওদুদ একদাসেই ১৯৪২ সালেলিখিয়াছিলেন, ‘বাংলা দেশে এক শ্রেণীর সাহিত্যরসিক আছেন যাঁরা নজরুল ইসলামকে জ্ঞান করেন একজন যুগ-প্রবর্তক কবি। আজকার দিনে তাঁদের সংখ্যা-শক্তি কেমন জানি না, তবে নজরুল ইসলামের প্রতি তাঁদের কারও কারও অন্তরের গভীর অনুরাগের সঙ্গে আমাদের পরিচয় আছে। তাঁদের প্রতিপাদ্যের প্রধান অবলম্বন এই “বিদ্রোহী”। তাঁদের ধারণা, এমন একটা ওজস্বিতা নজরুলের এই “বিদ্রোহী” কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে যা বাংলা সাহিত্যে সম্পূর্ণ নতুন-বাংলার দার্শনিক আবহাওয়ায় এ চিন্তালেশহীন ভাস্বর-ললাট চির-তারুণ্য, এই দ্বিধাহীন দুর্মদ তারুণ্যই নজরুল-প্রতিভার চিরগৌরবময় দান’ (ওদুদ ১৩৫৮: ৮২)।

প্রায় সঙ্গে সঙ্গে আবদুল ওদুদ এই দাবি নাকচ করিয়া দিয়াছিলেন। তাঁহার মতে, ‘যাঁদের এই মত, মনে হয় না নজরুলের এই তারুণ্য বাস্তবিকই তাঁরা বুঝতে চেষ্টা করেছেন।’ আবদুল ওদুদের ধারণা, নজরুল ইসলাম কোন নতুন যুগের সূচনা করেন নাই। কারণএক নম্বরে‘রবীন্দ্রনাথের “বলাকা”র যুগে নজরুল প্রতিভার উন্মেষ।’ আবদুল ওদুদ যাহা লিখিয়াছিলেন তাহা এখনো আমাদের হাসির না হইলেও কৌতূহলের উদ্রেক করে। তাঁহার আরও কিছু কথা উদ্ধার না করিয়া পারিতেছি না এখানে। আবদুল ওদুদের স্মৃতিকথা অনুসারে: “আমরা চলি সমুখ পানে/ কে আমাদের বাঁধবে,/ রইল যারা পিছুর টানে/ কাঁদ্বে তারা কাঁদ্বে” অথবা, “ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা,/ ওরে অবুঝ, ওরে সবুজ/ আধ-মরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা” অথবা, “শিকল দেবীর ঐ যে পূজা-বেদী/ চিরকাল কি রইবে খাড়া,/ পাগলামি তুই আয় রে দুয়ার ভেদি’।/ ঝড়ের মাতন বিজয়-কেতন নেড়ে/অট্টহাস্যে আকাশখানা ফেড়ে/ ভোলানাথের ঝোলাঝুলি ঝেড়ে/ভুলগুলো সব আন্ রে বাছা বাছা/ আয় প্রমত্ত, আয় রে আমার কাঁচা” ইত্যাদি ছত্র সে-যুগের বাংলার শিক্ষিত তরুণ-সমাজে উন্মাদনার সৃষ্টি করেছিলএক হিসাবে বাংলার তরুণ-আন্দোলনের গোড়াপত্তন হয়েছিল এই ‘বলাকা’ কাব্যের সাহায্যে’ (ওদুদ ১৩৫৮: ৮২-৮৩)।

সবিনয় নিবেদন করা চলে, নজরুল ইসলামের যুগে কবিতার সমস্যাটি ঠিক কি দাঁড়াইয়াছিল তাহা কাজী আবদুল ওদুদ ধরিতেই পারেন নাই। তিনি প্রবাদপ্রতিম দন কিহোতের মতন অতীত বীরত্ব প্রদর্শন করিয়াছিলেন মাত্র। ‘বলাকা’ আর ‘বিদ্রোহী’কম করিয়া বলিলেও বলিতে হইবেঠিক এক পদার্থ ছিল না। কাজী আবদুল ওদুদের দ্বিতীয় যুক্তিটি ছিল আরও আগ্রাসী। তিনি ধরিয়া লইয়াছিলেন, নজরুল ইসলাম যাহা লিখিয়াছিলেন তাহার ‘সাহিত্যিক মর্যাদা’ ধর্তব্যের মধ্যেই পড়িবে না। এই দ্বিতীয় বিচারের প্রতিধ্বনি আমরা পরকালের আরও অনেক লেখকের মধ্যে পাইববুদ্ধদেব বসুকে এই শোরগোলের মধ্যেও খানিক আলাদা ধরিয়া চেনা যায়। আবদুল ওদুদের একটি প্রস্তাবের পুনরুক্তি করিতেও বুদ্ধদেব বসু একদা কসুর করেন নাই। ওদুদ লিখিয়াছিলেন, ‘দ্বিতীয়ত, নজরুলের লেখনীতে যে-তারুণ্য রূপ পেয়েছে তার সাহিত্যিক মর্যাদা কেমন সেটিও একটি বড় অনুধাবনের বিষয়। একটু মনোযোগী হলেই চোখে পড়ে, নজরুলের রচনা, বিশেষ করে তাঁর “বিদ্রোহী” যুগের রচনা, অনবদ্য নয়। শ্রেষ্ঠ কবিদের বিশেষ বিশেষ কবিতায় কবি-কল্পনার যে পূর্ণাঙ্গতা প্রকাশ পায় নজরুলের রচনায় সেটির অভাব মাঝে মাঝে প্রায় বেদনাদায়ক হয়েছে। নজরুল যে পূর্ণাঙ্গ কবিতার রচয়িতা তেমন নন, তাঁর কবি-প্রতিভা বরং প্রকাশ পেয়েছে উৎকৃষ্ট চরণের রচনায়, এ উক্তি করা যেতে পারে’ (ওদুদ ১৩৫৮: ৮৩)।

শুদ্ধমাত্র এই প্রবাদপ্রতিম প্রবচনটি রচনা করিয়াই কাজী আবদুল ওদুদ অবসর গ্রহণ করেন নাই। কাজী নজরুল ইসলাম প্রসঙ্গে তিনি আরও একটা বিচারও রাষ্ট্র করিয়াছিলেন। তিনি লিখিয়াছিলেন, “বিদ্রোহী”-যুগ নজরুলের জন্য জনপ্রিয়তা আনলেও তাঁর কাব্য-সাধনা ব্যাপক সার্থকতা লাভ করেছে তাঁর গানে, এ বিষয়ে বাংলার কাব্যরসিকরা বোধ হয় একমত। রেখাপাতের যে অপরিচ্ছন্নতা “বিদ্রোহী” যুগের অনেক রচনায় লক্ষ করা গেছে, তা যে “গানে”র যুগে প্রায় অন্তর্হিত হয়েছে, শুধু অনবদ্য চরণ নয় অনবদ্য কবিতা তাঁর কলম থেকে উৎরেছে, তা মিথ্যা নয়’ (ওদুদ ১৩৫৮: ৮৮)। মাত্র এইটুকু বলিয়াই আবদুল ওদুদ তৃপ্ত হন নাই। তিনি একটা ভবিষ্যদ্বাণী পর্যন্ত করিয়াছিলেন। নজরুল ইসলামের ‘কবি-জীবনের অবসান ঘটাও বিচিত্র নয়’ বলিয়া একটা আশঙ্কা তিনি নিজের অজ্ঞানলোক হইতে বাহির করিয়াছিলেন। একথা সত্য যে নজরুল ইসলাম ঠিক নিজের আখেরটা গোছাইতে পারেন নাই। তাঁহার আখের অগোছালোই থাকিয়া গিয়াছিল। আবদুল ওদুদের জবানিতেই না হয় বলি: ‘তবে তাঁর আধুনিক জীবনের পরিণতি কোথায়, বলা সোজা নয়। এর ফলে তাঁর কবি-জীবনের অবসান ঘটাও বিচিত্র নয়যে তাত্ত্বিকতা তাঁর জীবনের মর্মমূলে আমরা দেখেছি তাই হয়তো জয়ী হবে পূর্ণভাবে। অথবা, এর ফলে সমৃদ্ধতর চিত্ত ও তীক্ষèতর দৃষ্টি নিয়ে তিনি নতুন করে জীবনে ও সাহিত্যে প্রবেশ করতে পারেন’ (ওদুদ ১৩৫৮: ৯০)।

আবদুল ওদুদের সিদ্ধান্তটা বড়ই শোচনীয় ছিল। তাঁহার মতে, নজরুল ইসলামের ‘সাহিত্যিক মর্যাদা’ ধর্তব্যের মধ্যেই পড়ে না, তবে তাঁহার একটা ‘ঐতিহাসিক মর্যাদা’ সহজেই চোখে পড়ে। ‘সাহিত্যিক মর্যাদা’ না থাকিলেও ‘ঐতিহাসিক মর্যাদা’ থাকিবে কিভাবে? রহস্যের সমাধানটা তিনি বাতলাইলেন: ‘জনজাগরণের দিক’ হইতে আসে এই মর্যাদা। নজরুল ইসলাম সম্পর্কে আবদুল ওদুদের শেষ প্রতিপাদ্য গোটা দুইটি প্রস্তাবে বিবৃত হইয়াছে। এক নম্বরে তিনি সত্য সত্যই ধরিতে পারিয়াছেন: ‘নজরুল এ-যুগের বাঙালি জাতির প্রতিনিধিত্ব করেছেন প্রধানত জড়তার বিরুদ্ধে বারবার সংগ্রাম ঘোষণা করে’ ও ‘নির্যাতিত জনসাধারণের পক্ষ সমর্থন করে’; আর ‘মুসলমান-সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তাদের মনে নব নব আশা-উদ্দীপনার সঞ্চার করে, বিশেষ করে বাংলার বা ভারতের আবহমান প্রাণধারার সঙ্গে তাদের প্রেমের নিবিড় যোগ স্থাপন করবার আহ্বান জানিয়ে’ (ওদুদ ১৩৫৮: ৯০)।

আবদুল ওদুদের দ্বিতীয় প্রস্তাবটা আরও মজার: ‘সেই প্রেমের সাধনাই মুখ্যত নজরুলের সাধনা হয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি সেই প্রেমে, সেই পূর্ণ আত্মনিবেদনে নজরুল এ-কালে মুসলমানদের মধ্যে, অথবা হিন্দু-মুসলমান সবার মধ্যে, এক সম্মানিত ব্যক্তিযে বৃহৎজীবনের অথবা জাতীয় জীবনের চেতনা দেশে অনুভূত হয়েছে তাতে তাঁরও প্রতিভার স্পর্শ লেগেছে। এই জনজাগরণের দিক দিয়ে দেখলে সহজেই চোখে পড়ে নজরুলের ঐতিহাসিক মর্যাদা কত বড়’ (ওদুদ ১৩৫৮: ৯০-৯১)। ‘ঐতিহাসিক মর্যাদা’ বলিতে কাজী আবদুল ওদুদ সত্য সত্য কি বুঝাইলেন তাহা কিছু পরিমাণে অপরিচ্ছন্নই রহিয়া গিয়াছে। তবে তাঁহার লেখায় যে অসামান্য রাখঢাক তাহা অনাবৃত করিলে মোটা দাগে কয়েকটা প্রস্তাব আলাদা করা যাইতে পারে। প্রথমেই তিনি মনোযোগ দিয়াছিলেন নজরুল ইসলামের মনোবিশ্লেষণে। সিদ্ধান্ত করিয়াছিলেন ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি রচনার পূর্বক্ষণ পর্যন্ত নজরুল ইসলাম ছিলেন ‘একজন অসাধারণ ভাববিলাসী ও অভিমানী’ ‘ব্যর্থপ্রেমের বেদনায় গভীরভাবে আহত’কবিবিশেষ যিনি অবলম্বন করিয়াছিলেন ‘এক দায়িত্বহীন ভবঘুরের জীবন’। আবদুল ওদুদের জবানিতেই শুনি: ‘ “বিদ্রোহী” থেকে তাঁর মানসজীবনের গতি যে-মুখী হলো তার সঙ্গে তাঁর পূর্বের ভাব-জীবনের সংগতি অসংগতি দুই-ই রয়েছে। তাঁর এই যুগের একটি বিশিষ্ট রচনা তাঁর ‘বাঁধন-হারা’ পত্রোপন্যাস। এতে কবি যে তাঁর তরুণ জীবন কিছু পরিমাণে চিত্রিত করেছেন, অনেকে বোধ হয় তা জানেন। এই রচনায় দেখা যাচ্ছেকবি একজন অসাধারণ ভাববিলাসী ও অভিমানী, ব্যর্থপ্রেমের বেদনায় গভীরভাবে আহত। কিন্তু এই আঘাত যত বড়ই হোক এতে মুহ্যমান তিনি হননি। এই নিষ্করুণ আঘাতে তার অন্তর থেকে উৎসারিত হয়েছে একটি মধু-স্রোত; কিন্তু এতে লাঞ্ছিত এমনকি ম্রিয়মাণও তিনি হননি। তবে তিনি অবলম্বন করেছেন এক দায়িত্বহীন ভবঘুরের জীবনসেই দায়িত্বহীনতায় তাঁর সুনিবিড় আনন্দ’ (ওদুদ ১৩৫৮: ৮০)।

আবদুল ওদুদ হয়তো নিজের অজান্তে একমুখে দুই কথাই কহিয়াছিলেন। ওপরের মুখটি ছাড়াও তিনি আরেক মুখে কহিয়াছেন, ‘ “বিদ্রোহী” প্রকাশের পূর্বেই তাঁর নবীনতা অথবা উদ্দামতা আর ছন্দ-সামর্থ্যরে প্রতি বাংলার সাহিত্যিকদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়।’ স্বভাবতই প্রশ্ন উঠিতে পারেকি কারণে? আবদুল ওদুদ কবুল করিয়াছেন, ‘সাহিত্য-ক্ষেত্রে তাঁর প্রবেশ আর “বিদ্রোহী” রচনা এর মধ্যে কালের ব্যবধান সামান্যবোধ হয় দুই বৎসরের বেশী নয়।’ ওদুদের চোখে পড়িয়াছে, নজরুল ইসলাম গড়িয়া উঠিতেছিলেন রবীন্দ্রনাথের ছায়ায়, সত্যেন্দ্রনাথের হাওয়ায়, আর ‘ইরানিকবিতিলক’ হাফিজের প্রেমে উন্মাদ অবস্থায়। তাঁহার কথায়, ‘আর এক শ্রেণীর ভাবুকদের প্রতিও কবির গভীর শ্রদ্ধা ছিলতাঁরা বাংলার সন্ত্রাসবাদীর দল’ (ওদুদ ১৩৫৮: ৮০-৮১)। এত কিছুর মধ্যে বসিয়াও তিনি কি করিয়া ‘ঐতিহাসিক মর্যাদা’ লাভের যোগ্য হইয়া উঠিলেন তাহা কিন্তু ওদুদ বিশদ করেন নাই। এতক্ষণে আবদুল ওদুদ বিষাদে মজিয়া ইঙ্গিত করিলেন: ‘ “বিদ্রোহী” প্রকাশের পূর্বেই “শাতিল আরব” “মোর্হরম” “কোরবানী”

প্রভৃতি যে-সব জনপ্রিয় কবিতা তিনি লিখেছিলেন সে-সবে ব্যক্ত হয়েছিল মুসলমানসমাজের গতানুগতিক জীবনের প্রতি ধিক্কার, এক বলিষ্ঠ নব জীবনারম্ভের জন্য তীব্র কামনা, আর অস্ত্রশস্ত্রের শক্তি ও মহিমায় তাঁর প্রত্যয়। একটি ছিল ভারতীয় মুসলমানদের জন্য খেলাফত যুগ।’

এই খেলাফত যুগটা যে কোন পদার্থ তাহা আবদুল ওদুদ নির্দেশ করিয়াছিলেন এইভাবে, ‘স্বদেশী আন্দোলনে বাংলার হিন্দুর যে সাফল্য মুখ্যত তাইই প্রেরণা জুগিয়েছিল মুসলমানের এই খেলাফত আন্দোলনে। কিন্তু হিন্দুর আয়োজনের ব্যাপকতা তাঁদের ছিল না, ফলে সফলতা তাঁদের জন্য হচ্ছিল সুদূরপরাহত। তাঁদের কেবল লাভ হচ্ছিল দিগ্দেশবিহীন এক বিক্ষুব্ধ মানসিকতা। তরুণ নজরুল অর্থাৎ ‘বিদ্রোহী’ রচনার পূর্বের নজরুল, এক হিসাবে ছিলেন এই খেলাফত-যুগের প্রতিনিধিস্থানীয় কবি। তাঁর ‘মোর্হরম’ কবিতার অধুনা-পরিত্যক্ত শেষ দুটি চরণ এই সম্পর্কে স্মরণ করা যেতে পারে দুনিয়াতে দুর্মদ খুনিয়ারা ইসলাম/লহু লাও, নাহি চাই নিষ্কাম বিশ্রাম।

কিন্তু ‘বিদ্রোহী’তে তাঁর মানসিক কুয়াশা এতখানি কেটে যায় যে, তিনি যেন এক নতুন জীবন নিয়ে জেগে ওঠেন, নিজেকে ও জগৎকে দেখ্তে আরম্ভ করেন এক নতুন দৃষ্টিতে’ (ওদুদ ১৩৫৮: ৮১-৮২)।

দোহাই

১          কাজী আবদুল ওদুদ, শাশ্বত বঙ্গ, পুনর্মুদ্রণ (ঢাকা: ব্র্যাক প্রকাশন, ১৯৮৩) [প্রথম সংস্করণ, ১৩৮৫]।

২          কাজী নজরুল ইসলাম, ‘আমার কৈফিয়ৎ’, নজরুল রচনাবলী, ২য় খ-, আবদুল কাদির সম্পাদিত (ঢাকা : কেন্দ্রীয় বাঙ্লা-উন্নয়ন-বোর্ড, ১৯৬৭), পৃ. ৪১-৪৪।

(আগামীকাল সমাপ্য)

লেখক অধ্যাপক, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস, বাংলাদেশ

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত