সচেতনতার বিকল্প নেই

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৩, ১০:০২ পিএম

মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সুস্থ বৃক্ক বা কিডনি জরুরি। দেহের এই সুপার কম্পিউটারের গঠন এবং কাজ ভয়ংকর জটিল। মানব দেহের পিঠের দিকে, মেরুদ-ের দুই পাশে কোমর বরাবর থাকে, দুটি কিডনি। এটি শরীরের অপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, প্রস্রাব হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়। একইসঙ্গে রক্তকে পরিশোধন করে শরীরে ক্ষার ও অম্লের ভারসাম্য বজায় রাখে। কিন্তু পানি, অম্ল ও ক্ষারের সঙ্গে অন্য রাসায়নিক পদার্থের মাত্রাগত ভারসাম্য নষ্ট হলেই, মানুষ মৃত্যুর মুখোমুখি হতে পারে। এই কিডনিকে সুস্থ রাখার জন্য যে কারণে সচেতনতা জরুরি।

বিশ্বে ৮৫ কোটি এবং বাংলাদেশে দুই কোটির বেশি মানুষ কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। এটি বিভিন্ন কারণে, দুর্বল হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে, বাঁচিয়ে রাখতে মানুষের হাতে খোলা দুটি পথ। একটি ডায়ালাইসিস, আর অন্যটি প্রতিস্থাপন। দুটো পথই অত্যন্ত ব্যয়বহুল- যা সাধারণ মানুষের আয়ত্তের বাইরে। তখন অসহায়ভাবে মৃত্যুকে মেনে নেওয়া ছাড়া, অন্য কোনো পথ খোলা থাকে না। যে কারণে, বিভিন্ন ধরনের সচেতনতাই মানুষকে রক্ষা করতে পারে- কিডনি রোগের মৃত্যু থেকে।

গতকাল দেশ রূপান্তরের শেষ পাতায় প্রকাশিত- ‘বছরে বিকল হচ্ছে ৩৫-৪০ হাজার মানুষের কিডনি’ শীর্ষক সংবাদে জানা যায়,  প্রতি বছর ৩৫-৪০ হাজার মানুষের কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হচ্ছে। এসব রোগীর বেঁচে থাকার জন্য ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজন প্রয়োজন। কিন্তু কিডনি চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় শতকরা ১০ জন এর ব্যয় বহন করতে পারেন। চিকিৎসা করতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে যায়। এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। বৈঠকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, সবার জন্য কিডনি স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজন বীমার আওতায় আনতে হবে।

বৈঠকে সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ বলেন, কিডনি রোগীরা দুর্যোগের সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। আমরা জানি কিডনি রোগের প্রাদুর্ভাব ব্যাপক। বিশ্বে ৮৫ কোটি লোক কিডনি রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশে দুই কোটিরও অধিক কিডনি  রোগী। দেশে প্রতি বছর ৩৫-৪০ হাজার লোকের কিডনি সম্পূর্ণ বিকলের শিকার হয়। তাদের বেঁচে থাকার জন্য ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংযোজন প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ডায়ালাইসিস সাধারণত সপ্তাহে ২-৩ দিন করতে হয়। দুর্যোগের কারণে ডায়ালাইসিস বন্ধ হলে মৃত্যু এগিয়ে আসবে। আবার দুর্যোগের সময় আঘাত, রক্তক্ষরণ, দুর্যোগ-পরবর্তী ডায়রিয়া ইনফেকশন এসব কারণে তীব্রমাত্রার আকস্মিক কিডনি বিকল হতে পারে। যার জন্য ডায়ালাইসিস প্রয়োজন। তাই কিডনি রোগীরা দুর্যোগের সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। ডা. এম এ সামাদ বলেন, দুর্যোগ  মোকাবিলায় কিডনি রোগীদের পূর্বপ্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। যেমন প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত রাখা। বিকল্প ডায়ালাইসিস সেন্টার সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা নিয়ে রাখা। সাহায্যকারী  নেটওয়ার্ক তৈরি করে রাখা। ডায়ালাইসিস পেতে বিলম্ব হলে সাময়িক খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, যেমন পানি কম, মাছ-মাংস কম, পটাশিয়ামযুক্ত খাবার যেমন ফল ও সবজি পরিহার করা।

কিডনি শুধু রক্ত শোধন বা বর্জ নিষ্কাশনই করে না। এর রয়েছে বহুবিধ কাজ। রক্তকণিকা তৈরি, মানব দেহের হাড়ের সুস্থতা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, পানি ও লবণের ভারসাম্য রক্ষাসহ বিভিন্ন কাজে তাকে জড়িত রাখতে হয়। এই কাজ শুরু হয়, মানুষের জন্মের আগেই, মাতৃগর্ভ থেকে। শেষ হয়, মৃত্যুতে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা বিরতিহীন এই পথচলায়, ক্লান্তি আসতেই পারে। এই ক্লান্তি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে তখন, যখন কিডনির সুস্থতাবিরোধী বিভিন্ন কর্মকা-ে মানুষ নিজেকে ব্যাপৃত করে। অথবা মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হলে, সেখান থেকেও আঘাত আসতে পারে কিডনির ওপর। সমস্যা হচ্ছে, কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত হলে, একজন মানুষ প্রথম দিকে টেরই পান না যে, তিনি কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত। উপলব্ধি করেন তখন, যখন ৭০ শতাংশ কিডনি বিকল হয়ে গেছে! যে কারণে, শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো সমস্যা দেখা দিলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে জীবনকে বাঁচাতে, সচেতনতার বিকল্প নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত