সব বাজেটই গরিববান্ধব!

আপডেট : ০১ জুন ২০২৩, ১০:২৬ পিএম

প্রতি বছরের মতো, জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য বাজেট পেশ করা হলো গতকাল। প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদিত হবে ২৬ জুন। নতুন অর্থবছর শুরু হবে ১ জুলাই।

এবারের অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। যেখানে অনুদান ছাড়া ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৫ দশমিক ২ শতাংশ। এবারের বাজেট বক্তব্যের শিরোনামটা সুন্দর ‘উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে’।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘এবারের বাজেট গরিববান্ধব। বাজেটে কোনো ধরনের চাপ নেই। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধরে রাখতে বাজেটে ধারাবাহিকতা থাকছে। এ ছাড়া সামাজিক বেষ্টনীর বলয় বিপুল আকারে বাড়ানো হবে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘সরকার দেশের মানুষকে ঠকাবে না। সরকার কাউকে গরিব করে কিছু অর্জন করতে চায় না। সবাইকে নিয়ে সবার জন্য আমরা বাজেটটি করেছি।’

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে জাল বিছিয়ে সাধারণ আয়ের মানুষকে আটকে ফেলা হয়েছে। রাজস্ব আদায়ে চাপ বাড়ানোর ফলে জীবনযাত্রার অনেক খাতেই খরচ বাড়বে। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি কমাতেও বাজেটে রাখা হয়নি কিছু। আন্তর্জাতিক পণ্যের বাজারের অস্থিরতা কবে কমবে তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

ফলে মাস-ছয়েক থেকে বেশি দামে বিক্রি হওয়া চাল, ডাল, আটা, ময়দা, ভোজ্য তেল, লবণ, চিনি, মাছ, মাংসসহ সব ধরনের খাবারের দাম আপাতত কমছে না। চিকিৎসা, যাতায়াত, শিক্ষাসহ খাদ্যবহির্ভূত ব্যয়ও কমবে না। তাহলে সাধারণ মানুষের এমন কী উপকারে আসবে এই বাজেট? কীভাবেই-বা ‘গরিববান্ধব’ বাজেট হলো এটি! এ বিষয়ে সহজ-সরলভাবে সাধারণের বোধগম্য ভাষায়, বাজেটের পজিটিভ দিকগুলো তুলে ধরা দরকার। অবশ্য যদি বোঝানোর মতন কিছু থাকে! কিন্তু এ মুহূর্তে যে প্রশ্নটি মুখ্য, সাধারণ মানুষের জন্য কী এমন ছাড় দেওয়া হলো প্রস্তাবিত বাজেটে?

বাজেট পেশের আগ থেকেই বাজারে বিভিন্ন পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পেতে থাকে। এবারও তাই হয়েছে। অথচ প্রস্তাবিত বাজেটে থাকার কথা ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য হ্রাসের বিষয় ছাড়াও নিউজপ্রিন্ট আমদানিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ককর প্রত্যাহার করার কথা। কিন্তু তা হয়নি। তাহলে এই বাজেট কীভাবে গরিববান্ধব হলো!

এখনো সাধারণ চিন্তার মানুষ পরিষ্কার না, উত্থাপিত এই বাজেটের মাধ্যমে কীভাবে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে? সত্যিকার অর্থে, দেশের মানুষকে ভালোবাসতে হলে, তাদের মৌলিক অধিকারের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সাধারণ মানুষের যন্ত্রণা এবং সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করা একটি গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

দেশের সিংহভাগ মানুষ বাজেটের মারপ্যাঁচ বোঝে না। তারা দেখতে চায়, স্বাভাবিক জীবনযাপনে কোনো সমস্যা তৈরি হচ্ছে কি? দ্রব্যমূল্যের কঠিন যন্ত্রণা থেকে সে মুক্তি পাচ্ছে কি? মোদ্দা কথা, জীবনযাপনে কোনো ধরনের বাড়তি চাপের মুখোমুখি হচ্ছে কি? যদি তা না হয়, মনে রাখতে হবে এই চাওয়া খুবই সামান্য।

উত্থাপিত বাজেটের মাধ্যমে কি স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট গভর্নমেন্ট, স্মার্ট সোসাইটি এবং স্মার্ট ইকোনমি-সম্পন্ন একটি দেশ গড়ে তোলা সম্ভব? আমাদের প্রত্যাশা থাকবে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে প্রথম চূড়ান্ত বাজেট যেন হয় জনবান্ধব।

সমস্ত অর্থনৈতিক কর্মকা-ের মধ্যে কিন্তু সাধারণ মানুষের চাওয়াকেই প্রাধান্য দিতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত