আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ। তিনি ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য। জাতীয় নির্বাচন, বিদেশি হস্তক্ষেপ, সংলাপসহ সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তিনি দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদকীয় বিভাগের সাঈদ জুবেরী।
দেশ রূপান্তর : দীর্ঘদিন পর রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশ দেখলাম, আমাদের আগের সংঘাতপূর্ণ অভিজ্ঞতার আলোকে এ নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
মাহাবুবউল আলম হানিফ : গত ১২ তারিখ মাত্র এক কিলোমিটারের দূরত্বে দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দলের সমাবেশ হলো। একদিকে বিএনপি সমাবেশ করেছে, আরেকদিকে আওয়ামী লীগ। সমাবেশ দুটি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে। এই বাংলাদেশে একসময় গণতন্ত্র ছিল না, গণতন্ত্রের চর্চা ছিল না, পরস্পরের প্রতি সহিষ্ণুতা ছিল না। কিন্তু এই সমাবেশ দুটির মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণিত হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও তার চর্চা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিপরীতমুখী দুটি বড় রাজনৈতিক দল এক কিলোমিটারের ব্যবধানে বড় দুটি জমায়েত করেছে শান্তিপূর্ণভাবে। আজ যারা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই, বাকস্বাধীনতা নেই এসব বলেন, সেগুলো যে মিথ্যা তা প্রমাণিত হয়েছে।
দেশ রূপান্তর : অনেকে তো মনে করেন এর পেছনে মার্কিন ভিসানীতি ও গণতন্ত্রের জন্য পশ্চিমা কূটনীতিকদের চাপের ভূমিকা রয়েছে।
মাহাবুবউল আলম হানিফ : ভিসানীতির চাপ আছে কি না সেটা হয়তো বিএনপি বলতে পারবে। কারণ, আমাদের ও সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সবসময়ই সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ করার, তাদের কর্মসূচি পালন ও কার্যক্রম চালাতে সবসময় অনুমতি দিয়েই আসছি। কিন্তু বিএনপি নামক দলটি, যে দলটির জন্মই হয়েছিল সামরিক শাসকের গর্ভে অবৈধ পন্থায়। শুরু থেকেই তারা ছিল সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক। তারা প্রতিপক্ষকে হত্যা ও নির্মূলের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিল। অতীতের কর্মকান্ড দেখলে দেখা যায় বিএনপি বিরোধীদের নির্মূল করতে আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল, শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা করেছিল। ক্ষমতার বাইরে থেকেও তারা ২০১৩, ১৪, ১৫ সালে সারা দেশে হরতাল-অবরোধের নাম করে বিভিন্ন জায়গায় বোমা হামলা করা, আগুন দেওয়া, বাসে-ট্রেনে পেট্রোল বোমা হামলা, মানুষ পুড়িয়ে মারা এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করেছে। বিএনপির মধ্যে সমসময়ই একটা সন্ত্রাসী মনোভাব ছিল। এই ভিসানীতির কারণে হয়তো বা তারা ভীত হয়ে সেইসব সন্ত্রাসী কর্মকা-ে যাচ্ছে না। বলা যেতে পারে মার্কিন ভিসানীতির কারণে বিএনপির সন্ত্রাসী মনোভাব স্তিমিত হয়েছে।
দেশ রূপান্তর : এর আগে বিএনপিকে নয়াপল্টনে বিভাগীয় সমাবেশ করা নিয়ে নানা টানাপড়েন শেষে তারা গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশের অনুমতি পায়। কিন্তু এবারের সমাবেশ নিয়ে তেমন পরিস্থিতি হয়নি। এক্ষেত্রে ওই দিন দেশে সফররত দুই কূটনীতিক ও বিদেশি প্রতিনিধিদলও বড় দুই দলের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের কথা উল্লেখ করেছেন।
মাহাবুবউল আলম হানিফ : গত দেড়/দুই বছরে বিএনপি নয়াপল্টনে কতগুলো সমাবেশ করেছে? কম করে হলেও তো একশ সমাবেশ করেছে। তো এই ১২ তারিখের সমাবেশে প্রশাসন বাধা দেয়নি, আগের সমাবেশগুলোতেও তো বাধা দেওয়া হয়নি। নয়াপল্টনে সমাবেশ তো তারা করেই আসছে। এখন ওইদিন বিদেশি কূটনীতিকরা ছিলেন বলে বাধা দেয়নি বলা হলে আমার প্রশ্নÑ আগের সমাবেশগুলোতে কি বাধা দিয়েছিল? এবং এখানে সমাবেশ করতে গিয়ে তারা পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে, আশপাশের স্থাপনায় আগুন দিয়েছে, ভাঙচুর করেছে। বিএনপি এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে বিধায়ই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সভা-সমাবেশ থাকলে কিছুটা শঙ্কিত থাকে। সে কারণেই বিএনপির সভা-সমাবেশ থাকলে বিশেষ নিরাপত্তা সচেতনতার মধ্যে পুলিশ তাদের অনুমতি দিয়ে থাকে। তারা তো সভা-সমাবেশ করছেই।
দেশ রূপান্তর : সাম্প্রতিক সমাবেশে বিএনপিও এক দফার কথা বলেছে, আওয়ামী লীগও এক দফার কথা বলেছে। দুই দলের এই অবস্থান এত বিপরীতমুখী ও চূড়ান্ত যে এখানে আসলে আপনার ও আপনার দলের বক্তব্য কী?
মাহাবুবউল আলম হানিফ : এখানে আওয়ামী লীগের এক দফা কর্মসূচি বলে তো কিছু নেই। এটা আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক আমাদের অবস্থানকে বোঝানোর জন্য কথাটা বলেছেন। উনি বলেছেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সবকিছুই আমাদের সংবিধান অনুযায়ী চলতে হবে। কারণ এই সংবিধানটা অর্জনের জন্য আমাদের ত্রিশ লাখ মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। এত আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে সংবিধান, সেই সংবিধানকে যখন-তখন যার তার খুশিমতো কাটাছেঁড়া বা বদল করতে পারি না। এর আগে বহুবার সংবিধান কাটাছেঁড়া হয়েছে, কিন্তু তার পরিণতি ভালো হয়নি। সেজন্যই আমরা বলেছি সংবিধানকে সমুন্নত রেখেই আমরা পথ চলতে চাই। আমাদের একটাই পথ, সেটাই আমাদের সাধারণ সম্পাদক সমাবেশ থেকে বলেছেন।
দেশ রূপান্তর : বিএনপির এক দফা সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী?
মাহাবুবউল আলম হানিফ : বিএনপি যে এক দফার কথা বলেছে, সেটা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। সংবিধানের সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়টা সাংঘর্ষিক। সংবিধানে এই বিষয়টি নেই। এমনকি উচ্চ আদালতও এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছে। ফলে এই দাবিতে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিএনপির দাবিটি একেবারেই অসাংবিধানিক ও অযৌক্তিক। আওয়ামী লীগ সংবিধানের পথে আছে। বিএনপি সংবিধানের পথে নেই, আইনের পথে নেই।
দেশ রূপান্তর : সংলাপ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। আপনাদের দলীয় ফোরামে সংলাপ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রস্তুতির কোনো আলোচনা আছে?
মাহাবুবউল আলম হানিফ : কার সঙ্গে কী জন্য সংলাপে বসতে হবে? প্রথমত আমাদের সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচনা হবে। কিন্তু মূল নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। একটা রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচনে অংশ নিতে চায় এবং নির্বাচন নিয়ে যদি কোনো পরামর্শ দিতে চায় তাহলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তারা বসবেন। কমিশনের সঙ্গে বসার পরে যদি তারা মনে করেন যে নির্বাচন কমিশনের কর্মকান্ড বা সংশ্লিষ্টদের দিয়ে তাদের কোনো অস্বস্তি আছে, আস্থার ঘাটতি আছে তখন তারা সরকারের সঙ্গে বসতে পারেন। আমাদের সরকার সবসময়ই বলে এসেছে বা আওয়ামী লীগ বলে এসেছে যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলতে কোনোরকম অসুবিধা বা বাধা নেই। অবশ্যই সেই রাজনৈতিক দলকে সংবিধানের মধ্যে থেকে কথা বলতে হবে। কিন্তু যদি বলেন যে তারা সংবিধানের বাইরে গিয়ে কথা বলবেন, তাহলে সেক্ষেত্রে কথা বলার কোনোই সুযোগ নেই।
দেশ রূপান্তর : জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি আপনারা কীভাবে নিচ্ছেন? প্রতিবার তো নির্বাচনী ইশতেহারসহ ভিশন-২০৪১ এর মতো ঘোষণা বা পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়। এবার নতুন কী আসছে?
মাহাবুবউল আলম হানিফ : জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমাদের সবসময় একটা প্রস্তুতি থাকে। একদিকে আমাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করা, তৃণমূল থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত যদি কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকে সেটা দূর করা। অন্যদিকে, নির্বাচনে জনগণের কাছে যে বার্তা দেওয়া হবে সেটা ঠিক করা। এখন সেই বার্তাগুলো এবার কী? একটা হলো আমাদের যে উন্নয়ন, অগ্রগতি হয়েছে সেই চিত্র তুলে ধরা এবং এই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে আমাদের সরকার আবার ক্ষমতায় এলে কী কী করবে সে বিষয়ে একটা নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করা। আশা করি যথাসময়ে সেটি আমরা জনগণের হাতে পৌঁছে দিতে পারব।
দেশ রূপান্তর : দীর্ঘদিন ধরে আমরা দেখে আসছি বিরোধীদের কর্মসূচির বিপরীতে বা তাকে মোকাবিলা করতে আওয়ামী লীগ কর্মসূচি বা রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। সর্বশেষ যেটা দেখলাম, বিএনপির সমাবেশের দিন শান্তি সমাবেশ যেমন...
মাহাবুবউল আলম হানিফ : বিরোধীদের মোকাবিলার কী আছে? আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি আমরা পালন করব। আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি চলছে, যেটা ২৩ জুন থেকে শুরু হয়েছে। আগস্টে জাতীয় শোক দিবসকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী কার্যক্রম আছে। সেপ্টেম্বর থেকে আমাদের শুরু হবে নির্বাচনমুখী কর্মসূচি। আমাদের ছাত্র-যুব সমাবেশ হবে, মহানগর নিয়ে সমাবেশ হবে, র্যালি হবে... সব ধরনের কর্মসূচি হবে।
দেশ রূপান্তর : স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের দলীয় এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে একধরনের টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনেও যদি তেমন হয়?
মাহাবুবউল আলম হানিফ : আমাদের দেশে স্থানীয় নির্বাচন ইতিপূর্বে দলীয় প্রতীক নিয়ে হতো না। ২০১৬ থেকে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হয়। স্বাভাবিক কারণেই দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তৃণমূলে দ্বিধা-বিভক্তি ছিল। অনেক সময় দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে অনেকে বিদ্রোহী প্রার্থীও হয়েছেন। এর নানাবিধ কারণ ছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেটার প্রভাব পড়বে না। কারণ আওয়ামী লীগ জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবসময় যেটা অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে এই নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকে, স্থানীয় নির্বাচনে সরকার পরিবর্তনের কোনো সুযোগ থাকে না। স্থানীয় নির্বাচনে সামাজিক ও তৃণমূলের বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়ে থাকে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে ওই বিরোধ বা ইস্যুগুলো আসবে না।
দেশ রূপান্তর : জাতীয় নির্বাচন যত কাছে আসছে পশ্চিমা কূটনীতিকদের নানা ধরনের কথাবার্তা আলোচনায় আসছে। বিদেশিদের এই সক্রিয়তাকে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে কীভাবে দেখছেন?
মাহাবুবউল আলম হানিফ : দেখেন বাংলাদেশ তো একটা স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র। সেই দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের কারোর কথা বলাটা সম্মানজনক না। কিন্তু অন্য দেশের কর্মকর্তা বা নীতিনির্ধারকদের আমরাই তো কথা বলার সুযোগ তৈরি করে দিই। দেখেন আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর ২০১২ সালে খালেদা জিয়া দলীয়ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের কাছে চিঠি দিয়ে বলেছিলেন যে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শিল্পে যে সুবিধা পায় সেটা প্রত্যাহারের জন্য। কী কারণে? পোশাক শিল্প তো আওয়ামী লীগের না। এটা তো দেশের। এর সঙ্গে আমাদের লক্ষ-কোটি মানুষের ভাগ্য জড়িত, কর্মসংস্থান জড়িত। সেটা বন্ধ করতে কেন বলা হয়েছে? কারণ তারা ভেবেছে গার্মেন্টস সেক্টরে যদি একটা বড় আঘাত আসে, তাহলে সরকারের পতন হতে পারে। বিএনপি তার নিজের স্বার্থের জন্য রাষ্ট্রের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিতে কুণ্ঠাবোধ করেনি। এরপর যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হলো, খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলা ও তত্ত্বাবধায়কের সময় এতিমের টাকা মারার যে মামলা হয়েছিল, সেসবের কার্যক্রম শুরু হলো আর তখনই তারা লবিস্ট নিয়োগ করে বিদেশিদের দিয়ে চাপ সৃষ্টি ও সরকারকে উৎখাত করাসহ নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। তারা ২০১৪ সালে নির্বাচনে গেল না, ভেবেছিল নির্বাচনে না গিয়ে নাশকতামূলক কর্মকা- করে সরকারকে বিব্রত করবে। তারা ভেবেছিল তাদের লবিস্টদের মাধ্যমে বিদেশিদের দিয়ে চাপ দিয়ে তারা সরকারকে বিপদে ফেলবে। সেখানে তারা ব্যর্থ হলো। ২০১৮ সালের পর থেকে বিএনপি আন্তর্জাতিক লবিস্ট নিয়োগ করে বিভিন্ন সময় মিথ্যাচার করে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে বহির্বিশ্বকে বিভ্রান্ত করে দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চক্রান্ত করে যাচ্ছে। সর্বশেষ র্যাবের শীর্ষ ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে স্যাংশন এলো এতে বিএনপি খুব উল্লসিত হয়েছে। কারণ তারা র্যাবের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘে নানা রকম মিথ্যাচার করে এই স্যাংশন নিয়ে এলো। কিন্তু দেখেন বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল এই দেশকে তারা জঙ্গি রাষ্ট্র বানিয়েছিল। ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর জঙ্গি হামলা হয়েছিল। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের ওপর গ্রেনেড হামলা হয়েছিল, প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে আনা ১০ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়েছিল। তারা বাংলাদেশকে একটা ধ্বংসের জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে পুলিশ ও র্যাব কঠোর অবস্থানে গিয়েছিল। সেই র্যাবের ওপর তাদের লবিংয়ের জন্য স্যাংশন দেওয়া হলো। এতে কার ক্ষতি হয়েছে? রাষ্ট্রের, জনগণের ক্ষতি হয়েছে। মাদক নির্মূলে র্যাবের ভূমিকার জন্য মাদক কারবারিরা মাঝখানে ভীত ছিল। আজ স্যাংশন আসায় অনেক সময় তারা মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে যেতে পারে না। এইভাবে তারা লবিস্ট নিয়োগ করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করে গেছে। তাদের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটা ভুল ধারণা হয়েছিল যে সরকার হয়তো গণতন্ত্রের চর্চা করছে না, আইনের শাসন হয়তো নেই। কিন্তু ওনারা যখন এলেন, দেখলেন, কথা বললেন তারা বুঝলেন যে বিএনপি মিথ্যাচার করেছে। মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর যে মন্তব্য করেছেন সেটা তো বিএনপির মুখে চপেটাঘাত। বিএনপি ভেবেছিল তারা বোধহয় সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলবেন। কিন্তু তারা বলেছেন যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু করার ব্যাপারে যে প্রত্যয় দেখিয়েছেন তাতে তারা কনভিন্সড এবং তার প্রতি তাদের আস্থা আছে। অতএব এই সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে।
দেশ রূপান্তর : উজরা জেয়া তো সংলাপের কথাও বলেছেন।
মাহাবুবউল আলম হানিফ : উনি বলেছেন, কিন্তু সেটা বাংলাদেশের রাজনীতির অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেক্ষেত্রে আমরা তো বলেছি, সংবিধানসম্মতভাবে এলে কথা বলার জন্য আমাদের দরজা তো খোলা।
দেশ রূপান্তর : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
মাহাবুবউল আলম হানিফ : আপনাকেও ধন্যবাদ।