দশে বাপ্পী-মাহি জুটি

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২১, ১১:৩১ পিএম

২০১২ সালের ৫ অক্টোবর ‘ভালোবাসার রঙ’ ছবিটি দিয়ে যাত্রা শুরু করে জাজ মাল্টিমিডিয়া। এ ছবিটির মাধ্যমে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে অনেক নতুন পর্ব যুক্ত হয়। ঢাকাই চলচ্চিত্রে আসে নতুন এক জুটি। বাপ্পি চৌধুরী আর মাহিয়া মাহি। নানা আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে এই জুটি ৯ বছর পেরিয়ে ক্যারিয়ারের এক দশকে পা রেখেছেন। তাদের প্রথম ছবিই হয় ব্যবসাসফল। পেয়ে যান আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। সেই জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে একের পর এক ব্যবসাসফল ছবি উপহার দেন। প্রযোজকদের মতে শাকিব খান-অপু বিশ্বাসের পর পরবর্তী প্রজন্মের মূলধারার সিনেমার জনপ্রিয় জুটি বাপ্পী-মাহি। প্রথম ছবি মুক্তির ৯ বছরের মাথায় অনেকটাই আবেগাপ্লুত নায়ক বাপ্পি। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে এই তো সেদিন আমাদের ভালোবাসার রঙ ছবিটি মুক্তি পেল। ছবিটি নিয়ে হলে হলে ঘুরছিলাম আমরা। কত দ্রুত সময় চলে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভালোবাসার রঙ বদলে দিয়েছিল একদম আনকোরা নতুন দুটি ছেলেমেয়ের ভাগ্য। বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল ছবি হওয়ার সুবাদে পরিবর্তন এনেছিল পুরো বাংলা চলচ্চিত্রের।’ বাপ্পির ভাষ্য, ‘২০১২ সালের আগে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা কী ছিল সেটা পুরনো ফাইল ঘাঁটলেই পেয়ে যাবেন। পুরো ইন্ডাস্ট্রি তখন অন্ধকারে ডুবে ছিল। যেটাকে বলে দিগ্ভ্রান্ত অবস্থা। আমি নিজেও তখন দর্শক ছিলাম। সেটি থেকে উত্তরণের পথ মিলেছে ডিজিটাল চলচ্চিত্রকেন্দ্রিক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে। দেশের প্রতিটি হল এখন ডিজিটালাইজড। এটা সম্ভব হয়েছে  ‘ভালোবাসার রঙ’ ছবিটির সফলতার সূত্র ধরেই। ভাবতে ভালোই লাগে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র আধুনিকায়নের এই ইতিহাসের সঙ্গে আমার নামটাও আছে।’

চিত্রনায়িকা মাহিও বেশ আবেগাপ্লুত। তিনি ফেইসবুকে এক পোস্টে হাতের নয় আঙুল তুলে নিজের ক্যারিয়ারের বয়স জানান দিয়েছেন। প্রথম ছবিতেই তার লুক, অভিনয়ের প্রশংসা হয়। ৯ বছরে একটু একটু করে নিজেকে প্রমাণ করেছেন মাহি। এই ৯ বছরের ক্যারিয়ারে মাহির আছে একটি আফসোস। তিনি বলেন, ‘ভক্তরা আমার সিনেমা দেখতে চান, আমাকে পছন্দ করেন, আমাকে ফেইসবুকে অনুসরণ করেন, এটা আমার বড় পাওয়া। চলচ্চিত্রে এসে এমন অনেক কিছু পেয়েছি। এত তাড়াতাড়ি পাব, ভাবিনি। আবার আফসোসও আছে। দেশের একদম সীমান্ত এলাকায় গিয়েও যদি শাবনূরের নাম বলা হয়, তারা চিনতে পারবেন। তিনি সেভাবেই দর্শকের কাছে পৌঁছেছেন। দেশের আনাচ-কানাচে শাবনূর আপাকে দর্শক চেনেন। এখনো সেভাবে দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারিনি। সে রকম একটা জায়গায় গেলে আফসোস কমত। যেতে পারব কি না, জানি না। দেশের সব শ্রেণির দর্শক যেন আমার কাজকে পছন্দ করেন, এখনো সেই চেষ্টা করছি।’ প্রথম সিনেমা মুক্তির পর মাহিকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরের বছরই মুক্তি পায় তার চারটি সিনেমা। জাকির হোসেন রাজুর ‘পোড়ামন’ সিনেমার পর চরিত্রটি তার ক্যারিয়ারে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। পরের বছর মুক্তি পায় ছয়টি সিনেমা। পরে কিছুটা বাছবিচার করে কাজ করতে থাকেন মাহি। হুমায়ূন আহমেদের গল্প নিয়ে ‘কৃষ্ণপক্ষ’, পরে ‘ঢাকা অ্যাটাক’, ‘জান্নাত’সহ একাধিক সিনেমায় নতুন করে নিজেকে পর্দায় হাজির করেন। মাহি বলেন, ‘ধন্যবাদ জাজ মাল্টিমিডিয়া। ওপরওয়ালার পরে আপনাদের জন্যই আজ আমি মাহিয়া মাহি।’

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, প্রেম, জন্মদিনসহ নানা কারণে আলোচনা-সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন মাহিয়া মাহি। সবশেষ তার বিয়েকে ঘিরে তৈরি হয় আলোচনা। ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে ফেইসবুকে বিয়ের খবর জানান এই অভিনেত্রী। তার স্বামী কামরুজ্জামান সরকার রাকিব রাজনীতি ও ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি তারা ঢাকায় নতুন বাসায় উঠেছেন। বিয়ের পরেই মাহি ফিরেছেন ‘বুবুজান’ সিনেমায়। বর্তমানে তিনি মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘যাও পাখি বলো তারে’র গানের শ্যুটিং করছেন কক্সবাজারে। নয় বছর পর বাপ্পিরও বিস্তর তফাৎ। শারীরিক পরিবর্তন থেকে সিনেমা বাছাই সবখানেই বাপ্পী এখন অন্যরকম। বর্তমানে তিনি শ্যুটিং করছেন সরকারি অনুদানের  সিনেমা কাজী হায়াত পরিচালিত ‘জয় বাংলা’র। বাপ্পি বলেন, ‘সবসময় ভালো সিনেমা করতে চেয়েছি। ভালো পরিচালক, গল্প ও প্রোডাকশন মানেই আমার কাছে ভালো সিনেমা। এখন যেসব কাজ করছি প্রতিটি সিনেমাই ভালো। ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলাম ভালো কাজের স্বপ্ন নিয়ে। সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। পথ চলতে গেলে কোথাও উঁচু কোথাও নিচু রাস্তা থাকে। তাই উঁচু নিচু পথ পাড়ি দিতে গেলে ধীরে ধীরে আগাতে হয়। আমিও তাই করছি। আশা করি প্রথম দিনের মতো সবসময় সবার দোয়া আমার সঙ্গে থাকবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত