ছবিটির আর্কাইভাল ভ্যালু রয়েছে

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৩, ০১:৪১ এএম

নন্দিত তারকা তানভীন সুইটি অভিনীত শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘মাইক’ আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও সিলেটের মোট ৯টি হলে মুক্তি পাচ্ছে। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

‘মাইক’-এর গল্প কী নিয়ে?

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে উপজীব্য করে পূর্ণদৈর্ঘ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘মাইক’ নির্মাণ করা হয়েছে। যে ভাষণ উদ্বুদ্ধ করেছিল বাঙালি জাতিকে, যে ভাষণ এনে দিয়েছিল বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র। আজ আমরা এ স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারি, এর সবকিছুর মূলে রয়েছে এ বক্তৃতা। এ সিনেমায় অভিনয় করতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত। আমরা যারা পঁচাত্তর-পরবর্তী প্রজন্ম, তারা জানতামই না যে ৭ মার্চ কোনো ভাষণ ছিল কিংবা দেশ কীভাবে স্বাধীন হয়েছে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট আমাদের জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করার পর সবকিছু পাল্টে গিয়েছিল। অনেক কিছু নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এ দেশকে কে তৈরি করে গেছেন? বঙ্গবন্ধুর একটা ডাকে লাখো মানুষ ছুটে এসেছিল। আমরাই তো সেই সব ইতিহাস জানতাম না। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কীভাবে জানবে? আশার কথা হলো সঠিক ইতিহাস আবারও তরুণ প্রজন্ম জানতে পারছে। তারা পাঠ্যপুস্তকে সেসব ইতিহাস পড়তে পারছে। সরকারি অনুদানে নির্মিত ছবিটি পরিচালনা করেছেন এফএম শাহীন ও হাসান জাফরুল বিপুল।

আপনার চরিত্র কী ধরনের?

ছবিটি ইতিহাসনির্ভর হলেও দারুণ একটি গল্প রয়েছে। একদল বাচ্চা একটি গুপ্তধন উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে যে বাচ্চাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকে আমি তার মায়ের চরিত্রে কাজ করেছি। আমার স্বামীর চরিত্রে রয়েছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ আর দাদার চরিত্রে তারিক আনাম খান। সেই উদ্ধার কাজে আমাদেরও অংশগ্রহণ রয়েছে। 

এ সময়ে সিনেমাটি কতখানি গুরুত্বপূর্ণ?

আমি তো বলব ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চলচ্চিত্র একটি সর্বজনীন ভাষা তৈরি করে। চলচ্চিত্রের শক্তি কতখানি তাতো আমরা সবাই জানি। এটি সবচেয়ে বড় গণমাধ্যম। ফলে সেই মাধ্যমে যখন আমাদের বিকৃত করে ফেলা ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরা হবে তখন তার আর্কাইভাল ভ্যালুও থাকবে নিঃসন্দেহে। যতই বইতে পড়ুক না কেন, শিক্ষার্থীরা যখন নিজের চোখে ইতিহাসের পাতার ঘটনা পর্দায় দেখতে পাবে তখন সেই শিক্ষাটি অনেক বেশি ফলপ্রসূ ও টেকসই হবে।

ছবিটি নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?

সবমিলিয়ে ছবিটি নিয়ে আমি দারুণ আশাবাদী। কেননা এখন আমাদের দেশেও গল্পনির্ভর সিনেমার প্রতি দর্শকের আগ্রহ বেড়েছে। আমাদের ছবিটি ইতিহাসনির্ভর হলেও একেবারে সহজ সরলভাবে বাচ্চাদের উপভোগ্য করে নির্মিত হয়েছে। চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে সুবাতাস বইছে। এমন সময় আমরা ‘মাইক’ নিয়ে আসছি দর্শকের সামনে। তাছাড়া এই ছবির দর্শক একেবারেই আলাদা। বড়দের জন্য অনেক ধরনের বিনোদন মাধ্যম রয়েছে, কিন্তু শিশুদের কথা চিন্তা করে তেমন কোনো কনটেন্ট নির্মিত হয় না, চলচ্চিত্র আরও কম হয়। চলতি বছর খুদে দর্শকদের জন্য কোনো সিনেমাই মুক্তি পায়নি। এ বছরের প্রথম শিশুতোষ সিনেমা হতে যাচ্ছে ‘মাইক’। তাই আমরা সিনেমার প্রচারণাও করেছি বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে। সেখানে গিয়ে কী যে দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে বোঝাতে পারব না। আমরা প্রতিটি স্কুলে কুইজের আয়োজন করেছিলাম। অবাক হয়ে দেখলাম, শিক্ষার্থীরা এখন আমাদের স্বাধিকার আন্দোলন, জাতির জনক থেকে শুরু করে তার পরিবারের ইতিহাস সম্পর্কে সব জানে। সবাইকে ছবিটি দেখার আমন্ত্রণ। আজ স্টার সিনেপ্লেক্স বসুন্ধরা সিটিতে আমিসহ সিনেমার অন্যান্য কলাকুশলীরা উপস্থিত থাকবেন। এরপর আমরা মুন্সীগঞ্জের একটি সিনেমা হলেও যাব। টিম চাইলে আরও কিছু হল ভিজিট করারও ইচ্ছে রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত