আজ দীপ্ত প্লেতে মুক্তি পাবে ওয়েব ফিল্ম ‘অপলাপ’। এতে অভিনয় করেছেন একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী নিপুণ। ‘অপলাপ’ নিয়ে এই তারকা বলেন, ‘পরিচালক মুহাম্মদ আলী মুন্না ভাইয়ের সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। প্রস্তাব পাওয়ার পর পান্ডুলিপি পড়ে মনে হলো খুব গোছানো কাজ হবে। ওয়েব সিরিজ ‘কাইজার’-এ ইমতিয়াজ বর্ষণের অভিনয় দেখেছিলাম, দারুণ লেগেছিল তাকে। জিয়াউল রোশানের সঙ্গেও এটা আমার প্রথম কাজ। সবকিছু ভেবে মুন্না ভাইকে ‘হ্যাঁ’ বলে দিলাম। আমি সব সময় চেয়েছি চলচ্চিত্রের শিল্পীদের সঙ্গে ছোটপর্দার শিল্পীদের একটা মেলবন্ধন তৈরি হোক। এ ছবিতে সেটা হয়েছে। দর্শক দারুণ একটা ছবি উপভোগ করতে যাচ্ছে।’
এখানে আপনার চরিত্রটি কেমন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বর্ষণের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছি। একদিকে যেমন প্রেম-ভালোবাসা আছে, অন্যদিকে আছে মিথ্যা ভালোবাসার অভিনয়ও। গল্পে রোশান আমাদের পারিবারিক বন্ধু। একটা সময় বর্ষণ ও রোশানের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।’
নিপুণ অভিনীত ‘মনোলোক’ সেন্সরে আটকে আছে দীর্ঘদিন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ছবিটা নিয়ে আমাদের ইউনিটের সবাই অধীর আগ্রহে আছি। তথ্য মন্ত্রণালয় ও সেন্সর বোর্ডের সদস্যদের অনুরোধ করব দ্রুত একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে। যদি কোনো কর্তন থাকে সেটা পরিচালককে জানাতে, দরকার হলে নতুন করে শুট করবেন। এ ধরনের ছবি ইতিহাসের দলিল। বর্তমান প্রজন্মের জন্য হলেও প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া উচিত।’
অভিনয় ছাড়াও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেত্রী হিসেবে সব সময় আলোচনায় থাকেন নিপুণ। সমিতির কার্যক্রম কেমন চলছে? এ প্রশ্নের জবাবে নিপুণ বলেন, ‘নির্বাচন করার সময় কথা দিয়েছিলাম, এফডিসিকে আবার কর্মমুখর করার চেষ্টা করব। সেটা এরই মধ্যে সম্ভব হয়েছে। এখন অনেক সিনেমা তৈরি হচ্ছে। বেশিরভাগ পরিচালক ও শিল্পী ব্যস্ত সময় পার করছেন। এখন আমার টার্গেট হলসংখ্যা বাড়ানোর। সেটা নিয়ে কাজও শুরু করেছি।’
একের পর এক হিন্দি সিনেমা আমদানি হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে শিল্পীদের এই নেত্রী বলেন, ‘যখন হিন্দি সিনেমা আসছিল তখন হলমালিকরা কিন্তু আমাদের সাথে একটা কন্ডিশনে ছিলেন। হিন্দি ছবি এসেছে, চলেছে। আমাদের বাংলা সিনেমাও দর্শক দেখছে। আমি ঢাকার বাইরে শুটিংয়ে ছিলাম, সেখানে দেখলাম আমাদের ঈদের সিনেমাগুলো রান করেছে। ফলে এ নিয়ে আমি চিন্তিত নই।’ তিনি আরও বলেন, ‘গেল ঈদে হলিউডের সিনেমার শো কমিয়ে আমাদের বাংলা সিনেমার শো বাড়ানো হয়েছে। যেখানে আমরা হলিউডের সিনেমার সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারছি, সেখানে হিন্দি সিনেমা বাংলা ছবিকে টেক্কা দিতে পারবে না। এটা আমার বিশ্বাস।’
এদিকে নিপুণ সমানতালে সামলাচ্ছেন ব্যবসা ও অভিনয়। বছরের শুরুতে মুক্তি পায় তার অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা ‘ভাগ্য’। এরপর বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর ‘সুজন মাঝি’ সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। সিনেমাটির শুটিং শেষের পথে। এরই মধ্যে নতুন আরও একটি কাজের খবর দিলেন এই অভিনেত্রী। জানালেন, আকাশ আমিন পরিচালিত একটি চায়ের বিজ্ঞাপনের শুটিং করে ফিরেছেন। এ প্রসঙ্গে নিপুণ বলেন, ‘সমিতি ও সিনেমার শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে নিজের ব্যবসায় তেমন মনোযোগ দিতে পারছিলাম না। এখন ব্যবসায় কিছুটা মনোযোগ দিচ্ছি। এরই মধ্যে নতুন বিজ্ঞাপনের প্রস্তাবটি আসে। এর কনসেপ্ট বেশ পছন্দ হয়। তাই সময় করে এর শিডিউল দিই। কয়েক দিন আগে ফিল্ম ভ্যালিতে এর শুটিং শেষ করি।’
২০১৩ সালে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘পরিচয়’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রে অভিষিক্ত হন নিপুণ। সেখানে নতুন কাজের কোনো খবর আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপাতত কলকাতায় কাজের কোনো খবর দিতে পারছি না। তবে আমি কখনো তাড়াহুড়োয় বিশ্বাসী নই। আমি শুধু মন দিয়ে কাজ করতে চাই। যেটা আমার ভাগ্যে থাকবে, সেটা এমনিতেই পাব।’
গেল দুই বছরে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ফিরতে শুরু করেছে। ‘পরাণ’, ‘হাওয়া’, ‘প্রিয়তমা’, ‘সুড়ঙ্গ’ অল্প সময়ের ব্যবধানে ছবিগুলো পরপর ব্যবসাসফল হওয়ায় অনেকেই উদ্যোগী হয়েছেন প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণে। বেশির ভাগ উদ্যোক্তাই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার সাহায্য নিয়েছেন। জানা গেছে, বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পীও প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণের আবেদন জানিয়েছেন। এর মধ্যে আছেন অঞ্জনা, রিয়াজ, ডি এ তায়েব, সাইমন সাদিক, জেসমিন প্রমুখ। নতুন এই উদ্যোক্তারা ব্যাংকে কাগজপত্রও জমা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ বলেন, ‘এরই মধ্যে ৩৫টি নতুন সিনেমা হলের ঋণ পাস করেছে ব্যাংক। আরও ৩২টি হলের ঋণ আবেদন পাস হওয়ার পথে। এর মধ্যে শিল্পী সমিতির অনেক সদস্যের আবেদন রয়েছে। অক্টোবরে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাব।’
নতুন কাজের আরও খবর দিলেন এই তারকা, ‘ইমতিয়াজ বর্ষণের সঙ্গে আরেকটি চলচ্চিত্রের শুটিং শেষ করেছি, নাম “ফু”। শতাব্দী ওয়াদুদের সঙ্গে করেছি “মুক্তির ছোট গল্প”। গাজী আব্দুন নুরের সঙ্গে “ভাষার জন্য মমতাজ” ছবির কিছু শুটিং বাকি আছে।’
