নিয়োগ ঝুলে থাকে বছরের পর বছর

আপডেট : ০৮ মে ২০২৩, ০২:২৭ এএম

ফেব্রুয়ারির না গরম না ঠান্ডা আবহাওয়ায়ও তারা দরদর করে ঘামছিলেন। স্লোগান দিতে দিতে বেকারত্বের চাদরে মোড়ানো মুখগুলো ফ্যাকাশে হয়ে উঠেছিল। বাকশক্তিহীন মানুষগুলোর আলটিমেটাম, মার্চের মধ্যে নিয়োগ না হলে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করবেন তারা! বলছি, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি খাদ্য অধিদপ্তরের সামনে মানববন্ধন করা অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদে নিয়োগপ্রত্যাশীদের কথা। মার্চ পেরিয়ে এপ্রিল গেল। মে মাসও গড়িয়ে যাচ্ছে। তাদের আলটিমেটাম আর মানা হয়নি। পাঁচ বছর ধরে তারা চাকরির স্বপ্ন দেখছেন। অংশ নিয়েছেন লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায়। কিন্তু চূড়ান্ত ফল আজ নয়তো কাল করে করেই পাঁচ বছর পার হয়েছে।

এই চাকরির জন্য তারা ধরনা দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, সচিব ইসমাইল হোসেন, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাখাওয়াত হোসেনের কাছে। তারা আশ্বাস দিয়েছেন। ব্যস, ওইটুকুতেই শেষ। এরপর আর অগ্রগতি নেই। চাকরির ফাইল আর নড়েনি।

খাদ্য অধিদপ্তরের সামনের আবদুল গণি রোডটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব সময় ভিআইপিদের মুভমেন্ট থাকে। ওই পথ ব্যবহার করেই মন্ত্রী-সচিবরা হরদম সচিবালয়ে যাওয়া-আসা করেন। তারা এই বিক্ষোভ দেখলে অধিদপ্তরের ডিজি, মন্ত্রণালয়ের সচিবের কি আর ইজ্জত থাকে? মন্ত্রীর মাথাও কি নিচু হয় না মন্ত্রিসভায় কলিগদের সামনে? কাজেই অধিদপ্তরে নিজের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত রুমে বসে যারা ভ্রু কুঁচকে বিক্ষোভকারীদের তাচ্ছিল্য ভরে দেখছিলেন, তারা এবার তৎপর হয়ে উঠলেন মন্ত্রণালয়ের ফোন পেয়ে। কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের ডেকে নেন খাদ্য অধিদপ্তরের ভেতরে। আশ্বাস দেন তাদের আলটিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই নিয়োগ দেওয়া হবে। এরপর আর কথা রাখেননি তারা।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর পাঁচদোনার নজরুল ইসলাম। ২৩ ফেব্রুয়ারি মানববন্ধনে মৃত্যুকে আলিঙ্গনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনিও। সেখানেই এই প্রতিবেদকের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। সম্প্রতি ফোন করে তিনি জানতে চান, একটা চাকরির প্রক্রিয়া কত দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে, সরকারের এমন কোনো বিধিবিধান আছে কি না? যে দপ্তর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে পারে না তাদের কি কোনো জবাবদিহি আছে? বা নিয়োগ নিয়ে যে দপ্তরপ্রধান চরম অদক্ষতার পরিচয় দেন তারা কি অবলীলায় পরের পদে পদোন্নতি পান?

নজরুল ইসলাম যে প্রশ্নগুলো তুলেছেন সেগুলোর কোনোটিরই জবাব ইতিবাচক না। কোনো দপ্তর সময়মতো নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারলে ওই দপ্তরপ্রধানের কিছু যায় আসে না। নিয়োগ দিতে না পারলেও তাদের কোনো জবাবদিহি নেই। সংশ্লিষ্ট সংস্থা সেবা না দিতে পারলে বঞ্চিত হবেন সাধারণ মানুষ। আর ক্ষতিগ্রস্ত হবেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। খাদ্য অধিদপ্তর ২০১৮ সালে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ৯টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালে লিখিত পরীক্ষা ও ২০২২ সালে ভাইভা নিয়েছেন। দীর্ঘ পাঁচ বছরেও অধিদপ্তর তাদের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করতে পারেনি। চাকরিপ্রার্থীরা কতটা অসহায় হলে নিজের জীবন দিয়ে দিতে চান। সেই জীবন দেওয়াটা কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্য তাদের দপ্তরের সামনেই মানববন্ধন করেন। শূন্যপদে নিয়োগ দিতে না পারায় খাদ্য অধিদপ্তরের অফিসগুলোও সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে পারছে না।

শুধু খাদ্য অধিদপ্তর নয়, প্রতিটি সরকারি দপ্তরই সময়মতো জনবল নিয়োগ দিতে পারে না। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পাঁচ বছর পর গত ১২ এপ্রিল পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) সাধারণ ইনস্ট্রাক্টর পদের নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে।

১৩২ জনকে নিয়োগের জন্য ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। এরপর ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাছাই পরীক্ষা ও জুনে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। ৪৫৬ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য বাছাই করা হয় ২০১৯ সালে। ১৩২ জনকে বাছাই করতে পাঁচ বছর লেগেছে পিএসসির।

অথচ পিএসসি হচ্ছে দেশে জনবল নিয়োগের সবচেয়ে বড় উৎস। যেখানে একটা বিসিএস এক বছরের মধ্যে শেষ করাটা স্ট্যান্ডার্ড, সেখানে চার বছর চার মাস সময় লাগছে। গত ১ নভেম্বর ৪০তম বিসিএস প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। চূড়ান্ত নিয়োগের দিক থেকে এটাই সর্বশেষ সাধারণ বিসিএস। ১ হাজার ৯০৩টি পদে নিয়োগের জন্য ২০১৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। বিজ্ঞাপন প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত নিয়োগ পর্যন্ত সবগুলো ধাপ শেষ করতে সময় লেগেছে চার বছর চার মাস।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত শ্রমশক্তি জরিপ বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশে বেকার মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার। ২০২২ সালের শেষ তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশে বেকারের সংখ্যা ছিল ২৩ লাখ ২০ হাজার, যা চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ৯০ হাজারে। আর শ্রমশক্তি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মতে, প্রতি বছর চার থেকে পাঁচ লাখ তরুণ স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছেন। তারা সবাই চাকরির বাজারে যুক্ত হচ্ছেন। অথচ তাদের উপযোগী চাকরি নেই।

পিএসসির মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের রিক্রুটমেন্ট এবং বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষও (এনটিআরসিএ) চাকরি প্রার্থীদের অন্যতম আশার জায়গা। এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতেও দীর্ঘ সময় লাগছে।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর পঞ্চদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য একই বছরের ৪ ডিসেম্বর আবেদন করেন বগুড়ার শফিকুল ইসলাম। ২০১৯ সালে ১৯ এপ্রিল প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ও ২৬ জুলাই লিখিত পরীক্ষার তারিখ পান। সময় অনুযায়ী তিনি পরীক্ষা দেওয়ার পর একই বছরের ২২ অক্টোবর লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি ভাইভায় উত্তীর্ণ হলেও ২০২১ সালের ১৭ জুলাই আইসিটির শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন তিনি। এরপর ভেরিফিকেশনসহ নানা জটিলতায় তিনি রাজশাহীর একটি স্কুলে নিয়োগ পান ২০২২ সালের এপ্রিলে।

এ বিষয়ে জানতে শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০২০ সালে আমার সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার বয়স শেষ হয়ে গেছে। এর মধ্যে আমি ভাইভায় উত্তীর্ণ হলেও নিয়োগের সুপারিশ পাচ্ছিলাম না। এতে চাকরি নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়তে হয়েছে।

২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্যভুক্ত সাতটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র অফিসারের ৭৭১টি শূন্যপদ পূরণের জন্য জনবল নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নানা জটিলতা শেষে অন্যান্য ব্যাংকের নিয়োগের কাজ শেষ হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের নিয়োগপ্রাপ্তরা এখনো চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি।

ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমন্বিত সাতটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র অফিসারের ৭৭১টি শূন্যপদ পূরণের জন্য ২০২০ সালে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের পদ ২৬৪টি, জনতা ব্যাংকের ১৩৯টি, রূপালী ব্যাংকের ২১১টি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ১১৩টি, বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের ৮টি, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের ৩০টি ও কর্মসংস্থান ব্যাংকের ৬টি।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ২০২০ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রিলিমিনারির তারিখ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু করোনার কারণে পরে তা স্থগিত করা হয়। এরপর ২০২১ সালের ৫ নভেম্বর প্রিলিমিনারি অনুষ্ঠিত হয়। প্রিলির ফল প্রকাশ করা হয় ওই বছরের ১১ নভেম্বর। লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ১৯ নভেম্বর। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালের ২০ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত। চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয় ২০২২ সালের ৩ আগস্ট।

ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর বাকি নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করে ব্যাংকগুলো। চূড়ান্ত ফলের এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেয় সোনালী ও জনতা ব্যাংক। নিয়োগের পর তাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়।

বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন গত ডিসেম্বরে নিয়োগ দেয়, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ ও কর্মসংস্থান ব্যাংক নিয়োগ দেয় ফেব্রুয়ারিতে এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক নিয়োগ দেয় মার্চে। কিন্তু রূপালী ব্যাংক গত সাত মাসেও সুপারিশ পাওয়া ২১১ প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেয়নি। চাকরির জন্য মনোনীত হয়ে সাত মাসের বেশি সময় পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা।

জানতে চাইলে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি ব্যাংক নিয়োগে সাধারণত কার্যক্রম শেষ করতে দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগে। এই নিয়োগে প্রিলিমিনারি, লিখিত, ভাইভা শেষে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি উত্তীর্ণদের ব্যাংকগুলোতে যুক্ত করে দেয়। এরপর ভেরিফিকেশনসহ নানা নিয়মনীতি শেষে ব্যাংকগুলো চাকরি প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দিয়ে থাকে।

সময়ের বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য সাধারণত ৬ থেকে ৮ মাস সময় নেওয়া হয়। কখনো এটা এ বছরও লাগে। এরপর প্রিলির রেজাল্টে ২০ থেকে ২৫ দিন আর লিখিত পরীক্ষায় ফলাফলে সময় নেওয়া হয় ৫ থেকে ৬ মাস। এরপর মৌখিক পরীক্ষা ও চূড়ান্ত ফল প্রকাশে সময় নেয় আরও ৪ থেকে ৬ মাস। এরপর মেধাতালিকা অনুযায়ী ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি চাকরি প্রার্থীদের বিভিন্ন ব্যাংকে যুক্ত করে দেয়। ব্যাংকগুলো যুক্ত হওয়া এই প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠায়। এরপর প্রক্রিয়া শেষে তাদের নিয়োগপত্র দেয়। সব মিলিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করতে কমপক্ষে দেড় থেকে দুই বছর সময় নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ব্যাংকগুলোর পদ খালি হলে নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করে। সেই অনুযায়ী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর যেসব আবেদন পড়ে তা যাচাই-বাছাই করা হয়। আগে আমরা প্রক্রিয়া শেষ করে টেন্ডারে দিতাম। সেখানে মূল্যায়ন কমিটি পরীক্ষাসহ যাবতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিত। এখন আমরা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টকে (বিআইবিএম) অবহিত করি। অর্থাৎ তাদের জানানো হয়, এ বছর কোন কোন পদে কতজন করে নিয়োগ দিতে হবে। বিআইবিএম যেন তাদের সুবিধা অনুযায়ী পরীক্ষাগুলো নেওয়ার ব্যবস্থা করে। তারপর বিআইবিএম তাদের সুবিধামতো পরীক্ষার ডেট ঠিক করে এবং আমাদের খরচের জন্য বাজেট দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত