মহাসমাবেশের পর ঘেরাও!

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৩, ০২:১৯ এএম

সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি আদায়ে আগামী ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে মহাসমাবেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতাকর্মীদের সমাগম ঘটাতে চায় বিএনপি। এরপর ঢাকাকেন্দ্রিক লাগাতার কর্মসূচির চিন্তা করছে দলটি। এই কর্মসূচির মধ্যে নির্বাচন কমিশন, সচিবালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি থাকতে পারে।

ঢাকাকেন্দ্রিক কর্মসূচি সফল করতে সারা দেশ থেকে আসা নেতাকর্মীদের ঢাকায় রাখার চিন্তা করছে দলটি। সে জন্য নেতাকর্মীদের ঢাকায় আসার সময় সেরকম প্রস্তুতি নিয়ে আসতে বলা হবে। মহাসমাবেশ ঘিরে সরকারের অবস্থান, পরিবেশ ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী কর্মসূচি। আঘাত এলে এক ধরনের আর আঘাত না এলে অন্য ধরনের কর্মসূচি আসবে।

গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা। মহাসমাবেশ পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমি সরকারকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছি। সরকার দাবি না মানলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। সে জন্য যা যা লাগে তার সবই করা হবে। কঠোর কর্মসূচি দেব না সে ওয়াদা করিনি আমরা। নেতাকর্মীরা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নেতাকর্মীরা ঘরে ফিরে যাবে না।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও দলটির গঠিত লিয়াজোঁ কমিটির অন্যতম নেতা বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি আদায়ে আমাদের চূড়ান্ত আন্দোলন চলছে। শিগগিরই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণত সবাই দেখতে পাবে। ইতিমধ্যে সরকারকে পদত্যাগে আমাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আলটিমেটাম দিয়েছেন। মানে মানে কেটে পড়তে বলেছেন। না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে টেনে নামানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বর থেকে আমরা আন্দোলন করছি। ইতিমধ্যে মানববন্ধন, গণমিছিল, সভা-সমাবেশ করেছি। এখন আর সেদিকে যাব না। আগামী মহাসমাবেশ থেকে ঢাকাকেন্দ্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

বুলু জানান, বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। সমমনা দলগুলো নির্বাচন কমিশন (ইসি), সচিবালয় ঘেরাও, অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথা বলেছে। শিগগিরই দলের হাইকমান্ড দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করবেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২৮ অক্টোবরের পর কর্মসূচির ধরন কী হবে তা নির্ভর করছে সরকারের আচরণের ওপর। সরকার হার্ডলাইনে গেলে আমরাও হার্ডলাইনে যাব।’

সরকার শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা করলে বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিতে পারে জানিয়ে ওই নেতা বলেন, ইসি ও সচিবালয় ঘেরাওয়ের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি থাকতে পারে। প্রথম দফায় ইসি ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে। ইসি যেন এক তরফাভাবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করে সে বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিতেই এ কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।

গত ১৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশ থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এই মহাসমাবেশ সফল করতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিভাগওয়ারী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে রাজশাহী, ময়মনসিংহ বিভাগের প্রস্তুতিসভা সম্পন্ন করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

গতকাল সন্ধ্যায় গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সদস্য সচিব আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম ও ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব লিটন মাহমুদ অংশ নেন।

মহাসমাবেশের অনুমতি চেয়ে গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। গতকাল বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘ডিএমপি কার্যালয়ে চিঠিটি পৌঁছে দিয়েছে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল।’

কর্মসূচি সফল করতে আজ রবিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা ডেকেছে বিএনপি। সভায় নেতাদের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন মির্জা ফখরুল এবং পরিচালনা করবেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। যৌথসভায় কারা কারা থাকবেন জানতে চাইলে রিজভী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সভায় যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেবেন।’

মহাসমাবেশ থেকে কী কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘পরবর্তী কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিতে আগেরদিন ২৭ অক্টোবর দলের হাইকমান্ড জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে বসবেন। এখনই কিছু বলা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে চাই। তবে সরকার বাধা দিলে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে তারা কী করবে। পরিস্থিতি বলে দেবে আমরা কোন দিকে যাব।’ 

রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে রাজশাহী বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। গত শুক্রবার জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে প্রস্তুতি সভা করেছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত