মেলার বাঁশিতে বিদায়ের সুর

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:১৫ এএম

মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলার বাকি আর মাত্র এক দিন। বাজছে ভাঙনের সুর। লেখক-পাঠক, প্রকাশক-বিক্রেতা, সাহিত্যিক-বইপ্রেমীদের মধ্যে দেখা যায় তার আভা।

গতকাল রবিবার মেলার বিভিন্ন স্টলে, নজরুল মঞ্চে, মূলমঞ্চসহ মেলাজুড়েই ছিল বিদায়ের সুর। এক মাসের জন্য সাজানো বিভিন্ন নকশা ও আলপনাতেও দেখা গেছে শেষ হয়ে যাওয়ার মৌনতা। গতকাল অনেককেই এবারের মতো মেলা থেকে বিদায় শুভেচ্ছা জানাতে শোনা যায়। যারা হয়তো সামনের দুটি দিনে মেলায় আসবেন না তারা পরিচিতজনদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিচ্ছেন।

এদিকে শেষবেলায় জমে উঠেছে মেলা। বইপ্রেমীরা ছুটছেন স্টল থেকে স্টলে। পছন্দের লেখকের বই কিনতে ছুটছে এক স্টল থেকে অন্য স্টলে। প্রকাশকরাও পার করছেন ব্যস্ত সময়। প্রতিটি স্টলের বিক্রয়কর্মীদের যেন দম ফেলার সময় নেই। গতকাল ছিল মেলার ২৬তম দিন। এদিন বিকেল বেলায় মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশ ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি স্টলে বইপ্রেমীদের লম্বা ভিড়। প্রায় সবার হাতেই বইয়ের একাধিক ব্যাগ। এদিন মেলায় আসা বইপ্রেমীদের প্রায় সবাই বই কিনেই বাড়ি ফিরেছেন। কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেজাউল আলম সোহেলের সঙ্গে। তিনি বলেন, সারা বছরই বই কেনা হয়। কিন্তু মেলা থেকে বই কেনার অন্যরকম আনন্দ রয়েছে। প্রথম দিকে মেলায় এসে বইয়ের ক্যাটালগ সংগ্রহ করেছি। সেখান থেকে বাছাই করে ১৫টি বই কিনেছি। এদিকে শেষবেলার বিক্রিতে প্রকাশরাও খুশি।

গতকালও মেলার চিত্র ছিল অন্য সব দিনের মতোই। বেলা ৩টায় মেলার প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত হওয়ার আগে থেকেই ছিল মেলার দুপাশের প্রবেশপথ ও এর আশপাশে ভিড়। মেলার দ্বার উন্মুক্ত হওয়ার পর যথারীতি ধীরে ধীরে ভিড় বাড়তে থাকে। বিকেলের দিকে শিশুই বেশি এসেছে বাবা-মায়ের হাত ধরে। সন্ধ্যার আগেই মেলা তার পূর্ণরূপ লাভ করে।

নতুন বই : গতকাল ছিল অমর একুশে বইমেলার ২৬তম দিন। মেলা শুরু হয় বেলা ৩টায়, চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। নতুন বই এসেছে ১৫৫টি।

বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্থানীয় সাহিত্যের বৈভব ও জেলা সাহিত্যমেলা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাইমন জাকারিয়া। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মুন্সি আবু সাইফ, সাহেদ মন্তাজ এবং মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

প্রাবন্ধিক বলেন, বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক ধারা-উপধারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক সাহিত্যের বাইরে বিভিন্ন জেলায় জেলায়। কিন্তু ঢাকার বাইরে চর্চিত সাহিত্যের সৃষ্টিশীল বৈভবকে পর্যবেক্ষণ ও সংকলন করার প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বাংলাদেশে অতীতে কখনো গৃহীত হয়নি। স্থানীয় সাহিত্যস্রষ্টাদের সৃষ্টিকর্মকে মূল্যায়ন ছাড়া সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের সাহিত্যের ইতিহাস রচনা করা সম্ভব নয়। এসব দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে নিয়েই বাংলা একাডেমি জেলা সাহিত্যমেলার রূপরেখা প্রণয়ন করে এবং তা সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিটি অঞ্চলের জেলা প্রশাসনকে প্রেরণ করে।

আলোচকরা বলেন, সাহিত্য জনমানুষের কথা বলে। স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে আমাদের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে হবে। এ জন্য জেলা সাহিত্যমেলা বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। জেলা সাহিত্যমেলায় অংশ নিয়ে স্থানীয় লেখক, সাহিত্যিকরা নিজেদের মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করতে পেরেছেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সাহিত্য উপকরণাদি সংরক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। জেলা সাহিত্যমেলার নিয়মিত আয়োজন দেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চাকে বেগবান করবে।

সভাপতির বক্তব্যে সেলিনা হোসেন বলেন, আঞ্চলিকতাকে অবলম্বন করেই বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ হয়েছে। তাই স্থানীয় সাহিত্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে আয়োজিত জেলা সাহিত্যমেলা আমাদের সাহিত্যের দিগন্ত প্রসারিত করবে।

গতকাল লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন সোহেল আমিন বাবু, হরষিত বালা, আসাদুজ্জামান আসাদ, মাহফুজা অনন্যা এবং মোহাম্মদ আলমগীর আলম।

আজকের অনুষ্ঠানসূচি : আজ সোমবার বইমেলার ২৭তম দিন। মেলা চলবে বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ববাঙালির সাহিত্য শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আলম খোরশেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন এএফএম হায়াতুল্লাহ, আ-আল মামুন, জসিম মল্লিক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত