জামালপুরে পানিবন্দি ৪৩ হাজার মানুষ

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০১:৫২ এএম

উজানের পাহাড়ি ঢলে জামালপুরের বন্যার পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। এ জেলায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার দেওয়ানগঞ্জ, বকশিগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ি উপজেলার যমুনার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইসলামপুর উপজেলার ২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করেছে। এ ছাড়া দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে প্রায় ২৫০০ হেক্টর ফসলি জমি।

গতকাল শনিবার সরেজমিনে দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, যমুনার তীরবর্তী এলাকার বেশিরভাগ আমন ধানের ক্ষেত ডুবে গেছে। মানুষের বাড়িঘরে ঢুকেছে পানি। এসব এলাকার অনেক রাস্তা-ঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়াও ইসলামপুর উপজেলার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি ঢুকেছে।

জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে ৯ হাজার ৮৩০টি পরিবারের প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলায় দুটি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৪১টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া ইসলামপুর উপজেলার দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা ও ২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। অপরদিকে এ জেলায় ২২২৩ হেক্টর রোপা আমনের ক্ষেত বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। তার মধ্যে ১২৫৬ হেক্টর রোপা আমন সম্পূর্ণরূপে ও ৯৬৭ হেক্টর রোপা আমন আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে।

ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা এলাকা আব্দুল করিম বলেন, শেষ সময়ের বন্যায় ক্ষেত-খামার সব তলিয়ে গেছে। ধান, শাক-সবজি ক্ষেতে পানি উঠেছে। এ পানি দীর্ঘসময় থাকলে ফসলের অনেক ক্ষতি হবে। ফসল নষ্ট হয়ে গেলে না খেয়ে মরতে হবে। এদিকে রাস্তা-ঘাটেও পানি। গরু-ছাগল নিয়ে খুব বিপদে পড়েছি।

জেলা প্রশাসক মো. ইমরান আহমেদ বলেন, জেলার বন্যাদুর্গতদের জন্য ১০০ মেট্রিক টন জিআর এর চাল, নগদ ৭ লাখ টাকা ও ৭ লাখ টাকার শিশু ও গো-খাদ্য বরাদ্দ আছে। বানভাসিদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বানভাসিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত