সোমবার প্রথম প্রহরে ঢাকার নাট্যাঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ে শোকের খবর- ইশরাত নিশাত আর নেই। এই নাট্যকর্মীর মৃত্যুর খবর শুনে দ্রুত অনেকেই হাজির হন গুলশানে তার বোনের বাসায়।
তখন থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব অনেকে। জানাচ্ছেন প্রিয়জন হারানোর অনুভূতি। প্রয়াত অভিনেত্রী নাজমা আনোয়ারের মেয়ের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বা সখ্যের গল্প এখন ঘুরছে অন্তর্জালে। উঠে আসছে তার ঋজু চরিত্রের নানান দিক।
নাট্য নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু লেখেন, ‘বাংলাদেশের নাটকের বিদ্রোহী কণ্ঠস্বর ইশরাত নিশাত কন্যা আমার এ ভাবে কী চলে যেতে হয়!’ মঞ্চ কুসুম-খ্যাত শিমুল ইউসুফ বলেন, ‘আজ প্রথমবারের মতো শুধু তোর জন্য অপেক্ষা করছে সবাই। তোর জন্য আলাদা করে কোনো আয়োজন করার সুযোগ তুই আমাদের দিস নাই। এমন আয়োজন চাইনি নিশু।’
কবি ও ব্যান্ড দল ‘মেঘদল’-এর সদস্য শিবু কুমার শীল দীর্ঘ স্ট্যাটাসের একাংশে লিখেছেন, ‘তার চরিত্রের সবচেয়ে বড় দিক মনে হয় তার বোল্ডনেস, দৃঢ়চেতা মনোভাব। তার যাপন দেখলেই বোঝা যেতো টিপিকল নারীর ঘেরাটোপ ডিঙিয়ে ছিলেন তিনি। তার মানে এ তার রাজনৈতিক অবস্থান। তার কাছে নারী মানে এমনই। দৃঢ়। ভাঙবে তবু মচকাবে না। একটা অ্যান্টি স্টাবব্লিশমেন্ট।’
নাট্য নির্দেশক সুভাশিষ সিনহা লেখেন, ‘এই চাহনিতে আমরা অনেকেই চমকে গিয়েছি, কখনো বিব্রত হয়েছি, সংকোচে পড়েছি, আমাদের সকল গতি একেকবার থমকে গেছেই এই চাউনির সামনে- কী যে বলে উঠবেন! কী যেন মানে করবেন! তারপর নাটকীয়ভাবে হঠাৎ পিঠ চাপড়িয়ে দিয়ে খিলখিলিয়ে হেসে ওঠা! শিল্পকলার গেটের কোণে এই মূর্তিমান মহানাট্য আর দেখব না! এই তীক্ষ্ণ প্রশ্ন মধুর ভালোবাসা আর পাওয়া হবে না এ জীবনে! জীবন ছোট, তবু, বেশি ছোট হয়ে গেল না, নিশাত আপা?’
অভিনেত্রী সোহানা সাবার ভাষ্য, ‘তোমার মতো মানুষদের অনেক বছর বেঁচে থাকা উচিত! অথচ তোমরা স্বল্প আয়ু নিয়ে আসো এই অভাগা পৃথিবীতে…! ভালোবাসা নিও ইশরাত নিশাত আপু!’
থিয়েটার কর্মী বাকার বকুল লিখেছেন, ‘হাসেন নিশাত আপা হাসেন। অট্ট হাসিতে ফেটে পড়েন। চলেন দুজনে একসাথে হাসি। কিন্তু আমি এখন যা করি তাকে হাসির মতো দেখালেও তা হাসি নয়। কেননা হাসিতে চোখের কোনো নোনা জল জমে না। কিন্তু আমার তাই হয়। হাসিতে বুকের গহিনে চিন চিন ব্যথা করে না। আমার যে ব্যথা করে। হাসি আর কান্নার ভেদাভেদ আমি ভুলে গেছি নিশাত আপা। ভুলে যাই, ভুলে যাই সব, ভুলতে চেষ্টা করি। একখণ্ড বিভ্রান্ত থিয়েটার পল্লির কথা, মধ্যরাত-অব্দি গলার রগ ফুলিয়ে থিয়েটার নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা। ভুলে যাই, ভুলে যাই সব, ভুলতে চেষ্টা করি। কেননা ভুলতে পারাই একমাত্র নিরাপদ ধর্ম।’
দীর্ঘ পোস্টের একাংশে শতাব্দী ওয়াদুদ লিখেছেন, ‘৯০ এর দশকে থিয়েটার নিয়ে তার প্যাশন ছিল আইকনিক পর্যায়ের! থিয়েটার এর সব সেক্টরেই তার দখল ছিল! এ রকম একজন মানুষ, বন্ধু চলে গেলেন হুট করেই! ভালোই হয়েছে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকা দুস্থ শিল্পীর তালিকায় আপনার নাম দেখতে হয়নি নিশাত আপা! আসলে বেঁচে থাকাটাই আকস্মিক! আপনাকে নিশ্চয়ই অনেক মিস করবো! ভালো থাকবেন!’
ইশরাত নিশাত ‘দেশ নাটক’ নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মঞ্চে একাধারে অভিনেত্রী, নির্দেশক ও আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে খ্যাতি কুড়িয়েছেন। তার নির্দেশনায় ‘দেশ নাটক’ প্রযোজনা ‘অরক্ষিতা’ প্রশংসিত হয়। অসংখ্য নাটক ও আবৃত্তি প্রযোজনার মঞ্চ ও আলোক নির্দেশকের কাজ করেন।
