পৃথিবীর যত দিকে ইসলাম ছড়িয়েছে, মসজিদের সংখ্যাও সেসব অঞ্চলে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শৈল্পিক ধারা ও স্থাপত্যরীতি বৈচিত্র্য নিয়ে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন আদলে মসজিদ তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব ও তুরস্কের অভিনব ও বিস্ময় জাগানিয়া ছয়টি মসজিদ নিয়ে লিখেছেন– মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন
পর্বতশৃঙ্গে নান্দনিক মসজিদ
পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় একটি মসজিদ। সবুজারণ্যে ঘেরা পাহাড়ের বুকে নান্দনিক মসজিদটি বিস্ময় ছড়ায় দর্শকের চোখেমুখে। পাহাড় ও মসজিদ উভয়টির যৌথ নাম– ‘কিবলা পাহাড়’ ও ‘কিবলা জামে মসজিদ’।
মসজিদের পুরো আঙিনা ঘিরে রয়েছে সবুজে ছাওয়া শ্যামল নিসর্গ। মসজিদ প্রাঙ্গণে বসে বুনো প্রকৃতির সতেজ আমেজ পাওয়া যায় প্রতিনিয়ত। মাঝে মাঝে নেমে আসা শুভ্র মেঘের ভেলা আনন্দ ছড়ায়, ছোট-বড় সবার মনে।
সকালে পাখিদের বৈচিত্র্যময় কল্লোল ও সন্ধ্যায় ঝিঁঝিঁ পোকার হল্লা মুসল্লিদের কর্ণকুহরে মধুময় সুর ছড়ায়। অনেক দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন, সারি সারি সবুজের ঢেউয়ে জেগে উঠেছে– আধ্যাত্মিক ও পারলৌকিক স্থাপনা আল্লাহর পবিত্র ঘর মসজিদ।
পাহাড়ের বুকে এমন সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের মসজিদটি তুরস্কের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের রেজা প্রদেশের গনি সো জেলায় অবস্থিত। চোখ জুড়ানো ও মনোরম এ মসজিদ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। পর্বতটি ‘কিবলা পাহাড়’ নামে প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণ, এটি কিবলার দিকে হওয়ার পাশাপাশি প্রদেশের অনেক জেলা থেকে এটি দেখা যায়। ফলে কালের পরিক্রমায় এই নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
আনাতোলিয়া সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, কেবলা পাহাড়ের এ মসজিদটি নবম শতাব্দীতে নির্মাণ করা হয়। কাঠের তৈরি মসজিদটি দীর্ঘকাল এ অবকাঠামোয় টিকে ছিল। তবে ১৯৬০ সালে একবার আগুন লেগে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এরপর প্রায় দেড় বছর ধরে ২০০৯ সালে নতুন করে তুর্কি স্থাপত্য-রীতিতে মসজিদটির সংস্কার ও নির্মাণকাজ করা হয়। মসজিদের ভেতরে-বাইরে সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়। এছাড়াও পাহাড়ের গা বেয়ে মসজিদে পৌঁছানোর জন্য একটি রাস্তা, মসজিদের আঙিনা থেকে পাহাড়ে হেঁটে বেড়ানোর ছোট ছোট পথ এবং পর্যটক ও দর্শকদের জন্য বিশ্রাম নেওয়ার স্থান ও ফুলের বাগান তৈরি করা হয়। ২০১০ সালে এ শহরে শৈশব কাটানো তুর্কি প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মসজিদটি উদ্বোধন করেন।
এরপর ২০১৫ সালে পাহাড় ও শহরকেন্দ্রিক বনাঞ্চলে অবস্থিত মসজিদ কমপ্লেক্সগুলো নতুন করে সংস্কারের উদ্যোগ নেন এরদোয়ান। সেই সংস্কার প্রকল্পে মসজিদগুলোকে আরও বেশি প্রকৃতি ও পরিবেশবান্ধব করে তোলা হয়।
মসজিদটি উদ্বোধনকালে তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা কিবলা পর্বতমালার শীর্ষে অবস্থিত মসজিদটিতে দাঁড়িয়ে আছি। এর বর্ণোজ্জ্বল দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। অনেক কিংবদিন্তর জীবন-কাহিনী এটির সঙ্গে মিশে আছে। আর এ মসজিদটির কথা আমি শৈশব থেকেই শুনে আসছি। এটি আমাদের গর্ব ও কীর্তির অংশ। যারা গ্রীষ্মে এখানে ভ্রমণে আসেন, তাদের অনেক মোবারকবাদ।
কিবলা মসজিদের কর্তৃপক্ষও বিশ্বাস করেন, চমৎকার পরিবেশ-প্রকৃতির কারণে এটি পর্যটকদের বাড়তি মনোযোগ আকর্ষণ করবে। ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপর্ণ আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
মেঘের কোলে মসজিদ
সুউচ্চ পাহাড়ের সর্বোচ্চ শিখর। যেখানে মেঘের আনাগোনা প্রতিনিয়ত। সেখানেই একটি ছোট্ট মসজিদ ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। একটু পরপর শ্বেত-শুভ্র মেঘ এসে মসজিদটিকে ঘিরে ধরে। আবার কখনো রাশি রাশি মেঘমালা মসজিদ প্রাঙ্গণ ও পাশের খালি জায়গাজুড়ে ভেসে বেড়ায়। এই অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখলে মনে হয়, মেঘেদের সঙ্গে যেন মসজিদটির গভীর মিতালী!
মেঘের ভেলা কখনো মসজিদের আঙিনা থেকে দাঁড়িয়ে নিচের দিকে হাত বাড়িয়ে ছোঁয়া যায়। কখনো আবার মাথার সঙ্গে লাগোয়া শামিয়ানার মতো দেখায়। এমন প্রকৃতিঋদ্ধ ও পরিবেশবান্ধব দৃশ্য যে কাউকেই মোহিত করে।
অনিন্দ্যসুন্দর পরিবেশের মসজিদটি তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের কৃষ্ণসাগরীয় বাইবুর্ট ও ট্র্যাবজন প্রদেশের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। ওখানকার সোগানলি পর্বতের সর্বোচ্চ চ‚ড়ায় এটি নির্মিত এবং ‘কির্কলার মসজিদ’ হিসেবে পরিচিত।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মসজিদটি ৩ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। মসজিদে যাওয়ার পাহাড়ি রাস্তাটি অধিকাংশ সময় মেঘাচ্ছন্ন থাকে। মসজিদে যাওয়ার জন্য পর্বতের একপাশেই শুধু রাস্তার ব্যবস্থা রয়েছে। অন্য তিনপাশে রয়েছে গভীর গিরিখাদ।
গাড়ি চালিয়ে মসজিদে যাওয়ার পথটি অনুপযোগী হওয়ায় পাহাড়ের গায়ে নির্মিত পাথুরে পথ ধরে পায়ে হেঁটেই মসজিদে যেতে হয়। রাতযাপন করতে ইচ্ছুক পর্যটকদের জন্য মসজিদটিতে আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে।
বিপজ্জনক পাহাড়ের শিখরে শিলাপাথরের গাঁথুনি দিয়ে নির্মিত মসজিদটি পর্যটকদের মনে আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি করে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখান থেকে অবলোকন করার সুযোগ রয়েছে। ফলে পর্যটনের পাশাপাশি মসজিদটি আধ্যাত্মিকতা ও মননচর্চারও একটি জনপ্রিয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
মসজিদে গেস্টবুক, পূর্ববর্তী দর্শনার্থীদের তথ্য সংযোজন ও প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকনকারী বিমুগ্ধ পর্যটকদের বিভিন্ন মন্তব্য সংরক্ষিত রয়েছে। মসজিদটি নির্মাণের সঠিক ইতিহাস নিশ্চিতভাবে জানা নেই। শুধু এতটুকু জানা যায়, পাহাড়ের আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা শিলা-পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল এটি। সময়ের ব্যবধানে এটি সংস্কার করা হয় এবং কাঠ দিয়ে বিভিন্নভাবে আচ্ছাদিত করা হয়।
বিগত অনেক বছর যাবৎ পর্যটকরা মসজিদটিতে নিয়মিত যাওয়া-আসা করছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রকৃতিপ্রেমীদের একটি অত্যন্ত প্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে কির্কলার মসজিদ।
যে মসজিদের ছাদ নেই ৫৫৭ বছর ধরে
তুরস্কের উত্তর-পূর্ব কার্ডগার একটি মসজিদ সাড়ে পাঁচশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ছাদহীন। কখনোই মসজিদটির ছাদ নির্মাণের পরিকল্পনা কিংবা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ছাদহীন ওই মসজিদেই সেখানকার মুসল্লিরা নামাজ আদায় করছেন।
মসজিদটির উন্মুক্ত ছাদ দিয়ে কোমল বায়ু মুসল্লিদের শিহরিত করে। দুইটি মিনার মসজিদটিকে একটি আধ্যাত্মিক রূপ দিয়েছে। মসজিদের মেঝে সবুজাভ ঘাসে আচ্ছাদিত। তবে মসজিদের চারপাশ সামান্য উঁচু করে ঘেরাও দেওয়া। তুরস্কের গোমুশ খানা এবং ট্রাভজোনের প্রাদেশিক সীমানায় এটি অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মসজিদটির উচ্চতা ৮০০ মিটার।
প্রতি গ্রীষ্মে ভ্রমণপ্রেমীরা পরিবারসহ ট্র্যাভজোন, জার্সন, গোমশ খানা, কার্ডগা রিসোর্টে সফর করে থাকেন। ৫৫৭ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক ওই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে পছন্দ করেন তারা।
মসজিদের ইমাম আকিফ ইয়াজজি বলেন, গ্রীষ্মের মাসগুলোতে এই অঞ্চলের ‘দারুল ইফতা’ মসজিদের জন্য একজন সাময়িক ইমাম নিযুক্ত করে দেয়। তখন তিনি আগত পর্যটক ও মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করেন।
মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বলা হয় ট্রাভজোন বিজয়ের সময় সুলতান আল-ফাতেহ তার সৈন্যদের নিয়ে এখানে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করেন। সে সময় একটা স্বপ্ন দেখার পর সুলতান পাথরের সাহায্যে নামাজ আদায়কৃত জায়গার চারপাশে ঘেরাও করার আদেশ দিয়েছিলেন। যেন জায়গাটি নির্ধারিত ও আলাদা থাকে। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত শুক্রবার মসজিদটিকে জুমার নামাজের জন্য ব্যবহার করা হয়।
সমুদ্রের তলদেশে প্রথম মসজিদ
সমুদ্রের তলদেশে মসজিদ–এটা ভেবে পাঠক হয়তো ভ্রূ কোঁচকাতে পারেন। কিন্তু বাস্তবিকই সমুদ্রের তলদেশে মসজিদ নির্মাণ করেছেন একদল ডzবুরি। মসজিদটির আংশিক নয়; পুরোটাই সমুদ্রের তলদেশে। ডুবুরিরা যখন সমুদ্রের গভীরে যান, তখন তারা যেন সময়মতো নামাজ আদায় করতে পারেন সেই লক্ষ্যেই মূলত এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে।
সৌদি আরবের উত্তারঞ্চলীয় শহর তাবুকের সমুদ্র-মোহনায় নির্মিত মসজিদটির নাম ‘আত-তাওহিদ মসজিদ’। সৌদি আরবের ডুবুরিরা এই অভিনব মসজিদটি তৈরি করেছেন। মসজিদ নির্মাণের উদ্যোক্তা ও ডুবুরি হামদান ইবনে সালিম বলেন, গত গ্রীষ্মের সময় সমুদ্রের তলদেশে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা মাথায় আসে। সমুদ্র মোহনায় নির্মিত মসজিদটির নাম ‘আত-তাওহিদ মসজিদ’। প্রথমে মসজিদের একটি ‘নমুনা স্থাপত্য’ নির্মাণ করা হয়। এরপর অন্যান্য কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়।
সমুদ্রের গভীর পানিতে মসজিদটির ভারসাম্য নিশ্চিত করতে চার ইঞ্চি প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে অবকাঠামো তৈরির পর বালি দিয়ে সেগুলোর ভেতরের অংশ ভরাট করে দেওয়া হয়। এরপর যাবতীয় সরঞ্জাম দিয়ে সমুদ্রের তলদেশে ছোট আকারের এই মসজিদটি নির্মাণকাজ শেষে হতে আসরের নামাজের সময় হয়ে যায়। তখন সমুদ্রের তলদেশে ইতিহাসের প্রথম মসজিদটিতে জামাত করে আসরের নামাজ আদায় করা হয়।
সবুজে মোড়ানো মসজিদ
সবখানেই সবুজের সমারোহ। মসজিদের মিনার, দেয়াল ও চমৎকার গম্বুজ– সবকিছুতে সবুজ ও পাখির কিচিরমিচিরে মুখরিত। মনে হয়, মসজিদটি যেন একখণ্ড সবুজ বনানী। সবুজে ছাওয়া প্রকৃতির সঙ্গে যেন প্রগাঢ় সম্পর্ক মসজিদের সবকিছুর। মসজিদের নাম আল-জামেউল আখদার বা সবুজ জামে মসজিদ।
মসজিদটি তুরস্কের কৃষি, বাণিজ্য ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রস্থল আদানায় অবস্থিত। আদানার উইরাদের অঞ্চলের কোবরোলো গ্রামে এটির অবস্থান। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা থেকে আগত মুসলিমরা ৮৯ বছর আগে এটি নির্মাণ করেন। এতে মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক আর্থিক সহযোগিতা করেন।
গত অর্ধ শতাব্দী ধরে মসজিদটির দেয়াল, মিনার ও আশপাশের প্রায় সবকিছু উদ্ভিদ ও লতা-গুল্মে আচ্ছাদিত। আর এই কারণেই মসজিদটিকে ‘আল-জামে আল-আখদার’ বা ‘সবুজ মসজিদ’ বলা হয়। মুসল্লি ও স্থানীয় জনগণও এই নামে মসজিদটির পরিচয় দেন।
মসজিদটি আদানা শহরের অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন। ঐতিহাসিক এই মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোবরোলো গ্রামের লোকজন একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে। সংস্থাটির নাম ‘হিমায়াতুল জামে আল-আখদার’। তারা সাংগঠনিক উদ্যোগে মসজিদটির উদ্ভিদ-বাগানকে পুষ্প-বীথিকায় পরিবর্তন করেছেন। এতে একশ’র বেশি রকমের ফুল শোভা পায়।
হামিদিয়ে জামি মসজিদ
তুরস্কের একটি মসজিদের নাম ‘হামিদিয়ে জামি’। মসজিদটি জান্নাতের মসজিদ হিসেবে স্থানীয়দের কাছে বিখ্যাত। পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অনিন্দ্যসুন্দর মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে।
এটি মধ্য আনাতোলিয়ার কিরশেহির শহরে অবস্থিত। ১৯১০ সালে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। তখন ওসমানীয় খলিফা সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদের নামে মসজিদটির নামকরণ করা হয়। কিন্তু সংস্কারের অভাবে কালপরিক্রমায় মসজিদটি একপ্রকার ধ্বংসস্ত‚পে পরিণত হয়।
পরবর্তী সময়ে এই মসজিদের মুসল্লিরা চমৎকার উদ্যোগ নেন। তখন তারা পুরো মসজিদটি আবার নতুন করে অভাবনীয় কায়দায় নির্মাণ করেন। যেটি দর্শক-মুসল্লি সবাইকে বিমুগ্ধ ও চমৎকৃত করে। কারণ মসজিদটি সাজানো হয়েছে আকাশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ সিলিং ও নরম ঘাসের সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্পেটের মাধ্যমে। ফলে এটি দেখলে মনে হয়, এটি বোধহয় পৃথিবীর বাইরে অন্য কোনো জগৎ। মুসল্লিদের পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদে প্রচুর দর্শনার্থী ভিড় করেন। এখানে যারা নামাজ আদায় করেন, তাদের কাছে অনুভূত হয়– তারা যেন জান্নাতের বাগানে নামাজ আদায় করছেন।
চমৎকার এই মসজিদের ইমাম সেফা ইকিনজি। মসজিদটির নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতরা পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারার ২২ নম্বর আয়াত থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। এরপর মসজিদটির নকশা নির্ধারণ করেছেন। স্থানীয় সেসব মুসল্লিকে আমি সাধুবাদ জানাই। আল্লাহ তাদের শান্তিতে রাখুন।’
মুসল্লিদের অনুপ্রেরণা-জাগানিয়া আয়াতটি হলো, ‘যে পবিত্র সত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদস্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসেবে। অতএব, আল্লাহর সঙ্গে তোমরা অন্য কাউকে সমকক্ষ কোরো না। বস্তুত এসব তোমরা জানো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২)
এই আয়াতের অনুকরণেই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর ছাদজুড়ে আকাশের চিত্রাঙ্কন করা হয়েছে। মিহরাবের অংশে ঝরনা এঁকে আকাশ থেকে পানি বর্ষণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সৌন্দর্যের জন্য প্রতিটি জানালার পাশে একটি সবুজ গাছ রাখা হয়েছে। বিছানো হয়েছে সবুজ ঘাসের মতো নরম কার্পেট। ফলে প্রতিটি মুসল্লি ও দর্শনার্থীকে মসজিদটির নান্দনিক রূপ আকর্ষণ করে। এখানে এসে তারা অন্য এক ভুবনে হারিয়ে যান।