বেশির ভাগ মানুষেরই কখনো না কখনো বদহজমের সমস্যা হয়। পাকস্থলীতে থাকা অ্যাসিড আপনার পাকস্থলীর আস্তরণ কিংবা গলায় জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে আপনার বদহজম হয় এবং জ্বালাপোড়া ও ব্যথা অনুভব করেন। এটি মারাত্মক কোনো কিছুর লক্ষণ নয়। আপনি নিজে নিজেই এর চিকিৎসা করতে পারেন। গর্ভবতী নারীদের প্রায়ই বদহজমের সমস্যা হয়। গর্ভধারণের ২৭ সপ্তাহের পর এ সমস্যা খুবই স্বাভাবিক। হরমোনের পরিবর্তনের জন্য বা গর্ভে বেড়ে ওঠা শিশু পেটে চাপ দেওয়ার কারণে এটি হতে পারে। এ ধরনের সমস্যায় একজন গর্ভবতী নারী ডাক্তারের অনুমতি ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করবেন না।
লক্ষণ
খাবার খাওয়া বা পানীয় পান করার পর যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে তা হলো বুক জ্বালাপোড়া করাÑ বিশেষত খাওয়ার পরে বুকে জ্বালাপোড়ার মতো যন্ত্রণা অনুভব করা। পেট ভরা বা ফুলে উঠেছে এমন বোধ করা। বমিভাব। ঢেকুর তোলা এবং বায়ু ত্যাগ করা। খাবার বা তিক্ত স্বাদের তরল মুখে উঠে আসা। বদহজমের আরও কিছু কারণ আছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ওষুধ, ধূমপান, মদপান এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, যার নাম Helicobacter pylori। এ ছাড়া মানসিক চাপ বদহজমের সমস্যা বাড়ায়।
আবার পেটব্যথা বা পিঠব্যথা সাধারণত বদহজমের লক্ষণ নয়। এগুলো থাকলে আপনি হয়তো কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন। বদহজম, বুক জ্বালাপোড়া আর অ্যাসিড রিফ্লাক্স এদের মধ্যে পার্থক্য আছে। বুক জ্বালাপোড়া আর অ্যাসিড রিফ্লাক্স একই জিনিস পাকস্থলীর ভেতরে থাকা অ্যাসিড গলা পর্যন্ত উঠে আসা। এ রকম ঘটলে আপনি জ্বালাপোড়া অনুভব করবেন।
চিকিৎসা
বদহজমের সঙ্গে যে বুক জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হয়, তা উপশমের জন্য ডাক্তার ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। যেসব ওষুধ পেটে অ্যাসিডের পরিমাণ কমায় সেগুলো হলো: অ্যান্টাসিড প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর কিছু বদহজমের ওষুধ খাবার খাওয়ার পর সেবন করা ভালো, যাতে তাদের কার্যকারিতা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
কখন ডাক্তার দেখাবেন
বারবার বদহজমের সমস্যায় ভুগতে থাকলে। তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এমনটা হলে। ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী হয়ে থাকলে। কোনো চেষ্টা ছাড়াই ওজন অনেক কমে যায়। খাবার গিলতে সমস্যা অনুভব করেন। বারবার বমি করেন। আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতার রোগী হলে। পেটে চাকার মতো কিছু অনুভব করলে। বমি বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়ার সমস্যায় ভুগলে। এগুলো মারাত্মক কোনো রোগের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে।
বদহজম দূর করতে
ঘুমাতে যাওয়ার ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আগে কিছু খাবেন না। বিছানায় শোয়ার সময় আপনার মাথা ও ঘাড় উঁচু অবস্থানে রাখুন। এটি ঘুমের সময় পাকস্থলীর অ্যাসিড গলা পর্যন্ত উঠে আসা বন্ধ করতে পারে। তৈলাক্ত, চর্বিযুক্ত অথবা অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করবেন। চা, কফি, কোমলপানীয় অথবা মদপান কমিয়ে ফেলুন।
