নতুন ‘অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা’ দিয়ে স্পোর্টস ওয়াচের বাজারে শক্ত অবস্থান গড়ার চিন্তা করছে আইফোন নির্মাতা অ্যাপল। আলট্রা উন্মোচনের সময় ডিভাইসটিকে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী মানুষের জন্য অত্যাবশ্যকীয় গ্যাজেট হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে। ‘আলট্রা’ উপস্থাপনায় যেন মøান হয়ে গিয়েছিল অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৮ এবং অ্যাপল ওয়াচ এসই।
‘অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা’ নকশা করার সময় ডিভাইসটিকে যে যথেষ্ট টেকসই করে নির্মাণের ভাবনা গুরুত্ব পেয়েছে তার প্রমাণ দিচ্ছে এর ফিচারগুলো। ডিভাইসটির নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে ৪৯ মিলিমিটারের টাইটেনিয়াম কেইস, একশ মিটার পানির নিচেও পুরোপুরি কার্যকর থাকবে ডিভাইসটি। গভীর সমুদ্রে ডুব দেন যে ডুবুরিরা, তাদের জন্য স্মার্টওয়াচটি ‘ডাইভ কম্পিউটার’ হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছে অ্যাপল।
ধুলোবালিতেও ক্ষতি হবে না ডিভাইসটির। লোকালয় থেকে দূরে কোথাও রাতে ডিভাইসটির ব্যবহার সহজ করার জন্য এতে আছে ‘নাইট মোড’; ‘ডিজিটাল ক্রাউন’ ঘোরালেই পাল্টে যাবে ওয়াচ ফেইস। চোখের ওপর চাপ ফেলা নীল আলোর বদলে কালো হয়ে যাবে ওয়াচ ফেইসের ব্যাকগ্রাউন্ড, লাল নিয়ন আলোতে ডিসপ্লেতে দেখা যাবে অতি প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো।
আশপাশে উঁচু কাঠামো বা গাছ থাকলে জিপিএস সিগন্যালে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা থাকে বলে ওয়াচের আলট্রা সংস্করণে ডুয়ার ফ্রিকোয়েন্সির জিপিএস ফিচার রেখেছে অ্যাপল। এ ছাড়া আছে পথের হিসাব রাখার জন্য ‘ওয়েপয়েন্ট’ চিহ্নিত করার ফিচার। এর ফলে ব্যবহারকারী লোকালয়ের বাইরে পথ হারালেও ফেরার পথ বাতলে দেবে ডিভাইসটি।
ভয়েস কল আর সিরির সঙ্গে আলাপচারিতা সহজ করতে ওয়াচ আলট্রায় দুটো স্পিকার দিয়েছে অ্যাপল। এ ছাড়া আছে বিশেষ সাইরেন; ব্যবহারকারী বিপদে পড়ল সাইরেন বাজিয়ে উদ্ধারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতে পারবেন। ১৮০ মিটার দূর থেকেও শোনা যাবে সেই সাইরেনের আওয়াজ।
স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে একবারের চার্জে ৩৬ ঘণ্টা চলবে অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা; লো-পাওয়ার সেটিংয়ে চলবে টানা ৬০ ঘণ্টা। বাজারের প্রচলিত স্পোর্টস ওয়াচগুলোর অন্য ফিচারের সবগুলোই আছে এতে। অ্যাপল ওয়াচ আলট্রার দাম নির্ধারণ করেছে ৭৯৯ ডলার। বাজারে কিনতে পাওয়া যাবে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে।