পটাশিয়াম সায়ানাইড নামে ভয়ানক বিষের নাম অনেকে শুনেছেন। উচ্চমাত্রায় আর্সেনিকও দেহে প্রবেশ করলে মৃত্যু অবধারিত। বিখ্যাত ব্যক্তিরা কখনো স্বেচ্ছায় এসব বিষ খেয়েছেন। কখনো বা তাদের এসব খাইয়ে মেরে ফেলা হয়। এমনই আলোচিত বিষপ্রয়োগে হত্যাকাণ্ড নিয়ে লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
কাউকে মেরে ফেলতে বা নিজেকে মারতে অনেক সময় বিষ ব্যবহার করা হয়। সেই প্রাচীন আমল থেকে বিষপ্রয়োগে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে আসছে। বিষ পেতে খুব একটা কষ্ট করতে হয় না। প্রকৃতিতেই পাওয়া যায়। বিষপ্রয়োগে হত্যা নিয়ে সে সময় রাজা-মহারাজারা বেশ উদ্বিগ্ন থাকতেন। খ্রিস্টপূর্ব ১২০ থেকে ৬৩ সাল পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ার উপদ্বীপ আনাতোলিয়া শাসন করা রাজা ষষ্ঠ মিথরিডেটস এই বিষয়ে এতটাই ভীত ছিলেন যে, অল্প ডোজের বিভিন্ন ধরনের টক্সিন দীর্ঘদিন ধরে খেয়ে নিজের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়েছিলেন তিনি। বিষ থেকে নিজেকে রক্ষা করার রাজা ষষ্ঠ মিথরিডেটসের এই চেষ্টাকে পরবর্তী সময় মিথরিডেটিজম বলা হয়। ১৯৮৭ সালের আমেরিকান কমেডি চলচ্চিত্র দ্য প্রিন্সেস ব্রাইডে ওয়েস্টলি নামে এক চরিত্র রাজা মিথরিডেটসের মতো নিজের শরীরে টক্সিন ঢুকিয়ে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে বিষ মোকাবিলা করতে পারলেও চিকিৎসাশাস্ত্রে এটিকে সমর্থন করা হয় না। বিভিন্ন সময়ে যারা নিজেরা বিষ খেয়েছেন অথবা যাদের বিষ খাইয়ে মেরে ফেলা হয়েছে, এমন সাত ব্যক্তি নিয়ে এখানে আলোচনা করা হলো।
সক্রেটিস
খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে এথেন্সের শীর্ষস্থানীয় দার্শনিক ছিলেন সক্রেটিস। তিনি তার শহরে অত্যন্ত বিতর্কিত এক ব্যক্তি ছিলেন কারণ তিনি যেখানে যেতেন সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে তর্কে জড়াতেন এবং প্রচলিত বিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেন। সক্রেটিস কখনো কিছু লেখেননি। তার চিন্তা ও মতাদর্শ লিখে গেছেন তারই শিষ্য প্লেটো। বর্তমান সময়ে সক্রেটিসকে পশ্চিমা দর্শনের জনক হিসেবে স্মরণ করা হয়। সক্রেটিস তার সময়ের দার্শনিকদের সাহস কী, ন্যায়বিচার কী, সংযম কী, নৈতিকতা কী-সহ এমন আরও বিভিন্ন মৌলিক প্রশ্ন করে তাদের ঝামেলায় ফেলে দিতেন। খ্রিস্টপূর্ব ৩৯৯ সালে সক্রেটিসকে এথেন্সের আদালতে হাজির করানো হয়। তার বিরুদ্ধে নগর রাষ্ট্রটির তরুণদের বিপথে পরিচালিত করা ও ঈশ্বরের প্রতি অনাস্থা প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়। সক্রেটিসের চিন্তা ও কর্মকাণ্ডকে ওই সময় এথেন্সের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হয়। বিচারে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। সক্রেটিসকে বলা হয়, হয় তাকে তার চিন্তা ও মতাদর্শ প্রত্যাখ্যান করতে হবে অথবা তিনি এথেন্স থেকে পালিয়ে যেতে পারেন অথবা বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন। প্রথম দুটির কোনোটিই গ্রহণ করেননি সক্রেটিস। শেষটি অর্থাৎ বিষপান করে নিজেকে হত্যা করতে রাজি হন তিনি। তাকে যে বিষটি দেওয়া হয়েছিল তা ছিল অত্যন্ত বিষাক্ত হেমলক উদ্ভিদের।
হুয়ান পন্সে দে লেয়ন
স্প্যানিশ অনুসন্ধানকারী হুয়ান পন্সে দে লেয়ন ছিলেন পুয়ের্তো রিকোর প্রথম গভর্নর। ১৪৭৪ সালে স্পেনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পঞ্চদশ শতাব্দীর শুরুতে উত্তর আমেরিকার দ্বীপ হিসপানিওয়ালার ঔপনিবেশিক সরকারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন লেয়ন। ওই সময় তিনি হিসপানিওয়ালার আদিবাসীদের বিপ্লব কঠোরভাবে দমন করেন। ১৫১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পূর্ব উপকূলে অভিযানে যান লেয়ন। তিনি শুনেছিলেন, সেখানে যৌবনের ফোয়ারা আছে। সেই ফোয়ারার পানি পান করলে যৌবন ধরে রাখা যায়। এ ধরনের ফোয়ারার দেখা অবশ্য তিনি পাননি। ১৫১৪ সালে স্পেনে ফেরেন লেয়ন। ১৫২১ সালে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ফ্লোরিডার উদ্দেশে বিশাল সেনাবহর নিয়ে ফের রওনা দেন লেয়ন। লক্ষ্য, সেখানে স্প্যানিশ উপনিবেশ স্থাপন। তবে তার ওই প্রচেষ্টায় বাদ সাধে কালুসা নামে স্থানীয় আদিবাসীরা। তারা লেয়নের আক্রমণ প্রতিরোধ করে। একপর্যায়ে তাদের হাতে গুরুতর আহত হন তিনি। ইতিহাসবিদদের ভাষ্য, কালুজাদের একজন লেয়নের দিকে তীর নিক্ষেপ করেছিলেন। নিক্ষেপের আগে তীরটির অগ্রভাগ অতি মাত্রায় বিষাক্ত মানচিনিল গাছের কষে ডোবানো হয়। আহত লেয়নকে স্প্যাানিশ নিয়ন্ত্রিত কিউবায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
চার্লস ফ্রান্সিস হল
আমেরিকান আর্কটিক অনুসন্ধানকারী চার্লস ফ্রান্সিস হল। ১৮২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। খুব অল্প বয়সে হল কামারের কাজ শিখেছিলেন। ১৮৫৭ সালের দিকে উত্তর মেরু নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। পরের কয়েক বছর যারা আর্কটিক অভিযানে গিয়েছিলেন, তাদের অভিযান নিয়ে টানা পড়াশোনা করেন হল। একই সঙ্গে নিজে আর্কটিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন এবং এ জন্য অর্থ সংগ্রহও করেন। ১৮৬০ সালে প্রথম অভিযানে বের হন হল। প্রায় তিন বছর চলমান ওই অভিযানে আর্কটিকের বাসিন্দা ইনুইটদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে হলের। ১৬৬২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন তিনি। দেশে ফিরে আর্কটিক অভিযানের অভিজ্ঞতা নিয়ে আর্কটিক রিসার্চার্স অ্যান্ড লাইফ এমাং দ্য এসকিমোক্স নামে একটি বই বের করেন হল। আর্কটিক নিয়ে আগ্রহ তৈরির সময় ব্রিটিশ নৌ কর্মকর্তা ও আর্কটিক অনুসন্ধানকারী ক্যাপ্টেন স্যার জন ফ্র্যাঙ্কলিনের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন হল। ১৮৪৫ সালে ফ্র্যাঙ্কলিন দুটি জাহাজ নিয়ে আর্কটিক অনুসন্ধানে বের হয়েছিলেন। তার নেতৃত্বাধীন ওই অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। তিনি ও তার সহ-অভিযাত্রীদের কেউই অভিযান থেকে ফেরেননি। আর্কটিকে পৌঁছার পর হলের মনে হয়েছিল, ফ্র্যাঙ্কলিনের সঙ্গী-সাথীদের কেউ কেউ ওই মেরুতে তখনো বেঁচে আছেন। ফ্র্যাঙ্কলিনের দুর্ভাগ্য সম্পর্কে আরও জানতে ১৮৬৩ সালে দ্বিতীয় অভিযানে বের হন হল। আর্কটিক দ্বীপপুঞ্জের অংশ কিং উইলিয়াম আইল্যান্ডে অভিযানের সময় ফ্র্যাঙ্কলিনের অভিযানের ধ্বংসাবশেষ ও হাতের তৈরি বস্তুর সন্ধান পান হল। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে ফ্র্যাঙ্কলিন ও তার সঙ্গীদের সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন, ফ্র্যাঙ্কলিনের নেতৃত্বাধীন অভিযানের কেউই আসলে বেঁচে নেই।
১৮৭১ সালে উত্তর মেরু অভিযানে বের হন হল। ওই সময় তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ৫০ হাজার ডলার অর্থসহায়তা দিয়েছিল। হলের দলে সে অভিযানে ২৫ জন ছিলেন। এদের মধ্যে ছিলেন হলের পুরনো বন্ধু সেইলিং মাস্টার বাডিংটন, নাবিক জর্জ টাইসন ও চিকিৎসক এমিল বেসেলস। ১৮৭১ সালের সেপ্টেম্বরে শীতকাল চলে আসায় গ্রিনল্যান্ডের উত্তরে জাহাজটি নোঙর ফেলে। এরপর হঠাৎ একদিন এক কাপ কফি খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন হল। টানা এক সপ্তাহ বমি হয় তার। ওই সময় তার স্বাস্থ্যের অবনতির জন্য চিকিৎসক বেসেলসসহ অন্যদের বিরুদ্ধে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগ আনেন হল। ওই বছরের ৮ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়। গত শতাব্দীর ষাটের দশকে গবেষকরা হলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তোলেন। তারা তার চুল ও নখে উচ্চমাত্রায় আর্সেনিক পান। এর অর্থ হলের সন্দেহ সঠিক ছিল। অবশ্য কে বা কারা তাকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করেছিল, তা শেষ পর্যন্ত জানা যায়নি।
কুয়াংশু
১৮৭৫ সালে মাত্র চার বছর বয়সে চিং বংশের সম্রাট হন কুয়াংশু। ১৮৯৮ সালে এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং তাকে গৃহবন্দি করা হয়। ১৯০৮ সালে ৩৭ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কুয়াংশু গৃহবন্দিই ছিলেন। তার মৃত্যুর এক দশক পর গুজব ছড়ায়, তাকে বিষ খাইয়ে মারা হয়েছিল। কিন্তু তার মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে আসছিল চীনের শাসকগোষ্ঠী। ২০০৮ সালে কুয়াংশুর মৃত্যুর একশ বছর পর গবেষক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারেন, ওই গুজব মিথ্যা ছিল না। কুয়াংশুর মরদেহে গবেষকরা উচ্চমাত্রার আর্সেনিক পেয়েছিলেন। আর্কটিক অনুসন্ধানকারী চার্লস ফ্রান্সিস হলের মতো কুয়াংশুকে কে হত্যা করেছিল, তাও শেষ পর্যন্ত রহস্যই থেকে যায়।
গ্রিগোরি রাসপুতিন
রাশিয়ার গ্রিগোরি রাসপুতিনের নাম অনেকেই শুনেছেন। বিতর্কিত এই সন্ন্যাসী লাম্পট্যের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া রাসপুতিনের সঙ্গে জার দ্বিতীয় নিকোলাস ও তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের আগে রাশিয়া শাসন করা শেষ জার ছিলেন এই নিকোলাস। ১৯১৬ সালে রাশিয়ার অভিজাত শ্রেণির সদস্য প্রিন্স ফিলিক্স ইউসুপভ ও তার সঙ্গীরা রাসপুতিনকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করেন। তারা সিদ্ধান্ত নেন, রাসপুতিনের খাবার ও পানীয়ে পটাশিয়াম সায়ানাইড মেশাবেন। পরিকল্পনামতো তারা রাসপুতিনের খাবার ও পানীয়ে বিষ মিশিয়েছিলেন কিন্তু সেই বিষ খেয়ে তার মৃত্যু হয়নি। তখন রাসপুতিনকে তার হত্যাকারীরা গুলি করে মারে। রাসপুতিন কেন বিষ খেয়ে মরলেন না, এ নিয়ে পরবর্তী সময় রুশরা বেশ কয়েকটি তত্ত্ব দাঁড় করান।
স্তেপান বেনদারা
ইউক্রেনের কট্টর ডানপন্থি নেতা ছিলেন স্তেপান বেনদারা। পোল্যান্ডের এক কর্মকর্তা হত্যায় জড়িত থাকার অপরাধে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জার্মানি পোল্যান্ড দখলের পর ১৯৩৯ সালে বেনদারা মুক্তি পান। তিনি ওই সময় নাৎসিদের দলে ভেড়েন। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরোধিতা ও ইহুদিবিদ্বেষ তাকে জার্মানদের আরও কাছে নিয়ে যায়। সোভিয়েত ইউনিয়নের গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি বেশ কয়েকবার বেনদারাকে অপহরণ বা হত্যার চেষ্টা করেছিল। ১৯৫৯ সালে পশ্চিম জার্মানির মিউনিখ শহরে একদিন হঠাৎ বেনদারা জ্ঞান হারান এবং কিছুক্ষণ পরই মারা যান। চিকিৎসকরা বেনদারার মরদেহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, সায়ানাইড গ্যাস তার মৃত্যুর কারণ। দুই বছর পর জার্মানির জুডিশিয়াল বডি জানায়, বেনদারার হত্যাকারী কেজিবির এজেন্ট বোহদান স্ট্যাশিনস্কি। গোয়েন্দা সংস্থাটির প্রধান আলেকজান্দার শেলেপিন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নিকিতা ক্রুশ্চেভের নির্দেশে প্রাণনাশক সায়ানাইড গ্যাসভর্তি স্প্রে গান দিয়ে বেনদারাকে খুন করেন স্ট্যাশিনস্কি।
স্লোবোদান প্রাইয়াক
বসনিয়ান ক্রোয়েশিয়ান মিলিটারি কমান্ডার ছিলেন সেøাবোদান প্রাইয়াক। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি ক্রোয়েশিয়ান আর্মি ও ক্রোয়েশিয়ান ডিফেন্স কাউন্সিলে ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি যুদ্ধের আইন ভঙ্গ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া যুদ্ধে জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন ও তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যুদ্ধাপরাধ নন দাবি করে ওই বছরই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারকরা তার ২০ বছরের সাজা বহাল রাখেন। বিচারকদের অবস্থান জানার পর শিশি থেকে কিছু একটা মুখে পুরেন প্রাইয়াক এবং হতবাক হয়ে যাওয়া আদালতকে জানান, তিনি বিষ খেয়েছেন। আদালত থেকে হাসপাতালে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর প্রাইয়াকের মৃত্যু হয়। আদালত কক্ষে তার বিষ খাওয়ার ঘটনা আদালতের ওয়েবসাইটে লাইভ দেখে মানুষ। সেখান থেকে ভিডিওটি অনলাইনে আরও ছড়িয়ে পড়ে। তদন্ত শেষে জানা যায়, প্রাইয়াক সেদিন পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়েছিলেন। জাতিসংঘের ডিটেনশন ইউনিটে বন্দি থাকা অবস্থায় প্রাইয়াক পটাশিয়াম সায়ানাইড কীভাবে পেয়েছিলেন, তা অবশ্য জানা যায়নি।