গত শতকে যুক্তরাষ্ট্র দেশে দেশে যে সাম্রাজ্য বিস্তার করে, তাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন থিওডোর রুজভেল্ট, উইলিয়াম টাফট ও উড্রো উইলসন। এই তিন প্রেসিডেন্ট ও তাদের উত্তরসূরিরা করপোরেশনগুলোকে শক্তিশালী করেন। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে যুদ্ধ বাধাতেও তারা পিছপা হননি। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
তিন প্রেসিডেন্টের ভূমিকা
উইলিয়াম অ্যাপেলম্যান উইলিয়ামস। বিংশ শতাব্দীর মার্কিন কূটনীতির অন্যতম আলোচিত সংশোধনবাদী ইতিহাসবিদ। ১৯৮০ সালে প্রকাশিত তার এক বইয়ে তিনি লিখেছিলেন, মার্কিন সাম্রাজ্য যেভাবে ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সাম্রাজ্য হয়ে ওঠে, তার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে বিংশ শতাব্দীর প্রথম তিন মার্কিন প্রেসিডেন্টের। ১৯০০ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় ছিলেন থিওডোর রুজভেল্ট। তিনিই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বশক্তি হিসেবে হাজির করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। ‘কথা বলো মৃদুস্বরে এবং সঙ্গে একটা বড় লাঠি রেখো’ এই উক্তির জন্য ব্যাপক প্রসিদ্ধ ছিলেন থিওডোর রুজভেল্ট। তিনি এটি কেবল বলতেন না, কাজেও করে দেখাতেন। বৈশ্বিক পুলিশম্যান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিমূর্তি ছিলেন থিওডোর রুজভেল্ট। তার চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি দেখে মনে হতে পারে, তিনি আসলে মানুষের ভালো চান, তাদের উপকার করতে চান। লাতিন আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে রুজভেল্ট একবার বলেছিলেন, বহিরাগতদের প্রতি দেশগুলোর ন্যায্য সম্মান দেখানো উচিত। তবে কোনো দেশ দীর্ঘদিন ধরে অন্যায় করে গেলে সভ্য সমাজের পক্ষে তার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রকে বাধ্য করতে পারে আন্তর্জাতিক পুলিশি ক্ষমতার চর্চা করতে। ইতিহাসবিদ উইলিয়ামস তার বইটিতে লিখেছেন, রুজভেল্ট মনে করতেন, আন্তর্জাতিক পুলিশি ক্ষমতার চর্চার দায়িত্ব কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নয়, অন্য ধনী ও সভ্য শক্তির ওপরও বর্তায়। ১৯০৪-০৫ সালে রাশিয়া ও জাপান সাম্রাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ চলাকালে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন রুজভেল্ট। মরক্কো নিয়ে ইউরোপীয়দের বাদানুবাদে হস্তক্ষেপ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌবহর গোটা দুনিয়া ভ্রমণের জন্য তিনি পাঠান। প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট বিভিন্ন সময়ে যে বিষয়টি পরিষ্কার করেন তা হলো ধনী এলাকার পাশাপাশি বস্তি এলাকাতেও শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। অর্থাৎ উন্নত দেশে যেমন শৃঙ্খলা প্রয়োজন, তেমনি অনুন্নত দেশেও এটি থাকা উচিত। রুজভেল্টের উত্তরসূরি ছিলেন উইলিয়াম হাওয়ার্ড টাফট। তিনি ১৯০৯ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ডলার ডিপ্লোমেসির স্রষ্টা। ডলার ডিপ্লোমেসি হলো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির একটি ধরন যার লক্ষ্য সামরিক বাহিনীর ব্যবহার বা হুমকি হ্রাস করা এবং এর পরিবর্তে লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ায় ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষমতার ওপর জোর দেওয়া। ইতিহাসবিদ উইলিয়ামসের ভাষ্য, টাফটের আমলে অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত পুঁজি পুঞ্জীভূত করে যুক্তরাষ্ট্র। এই উদ্বৃত্ত পুঁজি দেশটি সীমান্তের বাইরে বিনিয়োগের উদ্যোগ নেয়। উদ্বৃত্ত পুঁজির লাভজনক ব্যবহারের জন্য সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন টাফট। বিদেশি বাজারে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া গেলে তা একপর্যায়ে দেশের সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়বে, এমনটা মনে করত তার নেতৃত্বাধীন সরকার। টাফটের পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় বসেন উড্রো উইলসন। তিনি ১৯১৩ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। উইলসন তার পূর্বসূরি রুজভেল্ট ও টাফটের নীতিকে একত্র করেন। উইলিয়ামস মনে করেন, প্রেসিডেন্ট উইলসন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে দেশকে নেতৃত্ব দেন এই দৃঢ় বিশ্বাস থেকে যে, আমেরিকান বাজার অর্থনীতির মূল নীতি ও চর্চার গ্রহণযোগ্যতা ও পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে গণতান্ত্রিক অগ্রগতির সহস্রাব্দে প্রবেশ করতে হলে যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিতে হতো কারণ বাজার অর্থনীতির মূল নীতির লঙ্ঘন মার্কিন জনগণের জীবনকে কঠিন করে তুলতে পারে যদি না সেগুলো সংশোধন করা হয় এবং পুনরাবৃত্তি ঠেকিয়ে বিশ্ব আবারও নিরাপদ বাসযোগ্য স্থানে পরিণত করা হয়। সাম্রাজ্যবাদের নতুন রূপের চিত্তকর্ষক সংশ্লেষ হাজির করেছিলেন প্রেসিডেন্ট উইলসন। তাকে একদিকে চীন, মেক্সিকো ও রাশিয়ার অসন্তুষ্ট দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছিল। অন্যদিকে বিশ্বের সম্পদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা ধনীদের লোভ নিয়ন্ত্রণ করা লাগছিল। উইলসনের এসব কর্মকাণ্ড আমেরিকান স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের অনিবার্য ফল ছিল।
ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ
প্রেসিডেন্ট উইলসন যুক্তরাষ্ট্রে যে ব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন, তার জন্য পৃথিবীজুড়ে পুঁজি বিনিয়োগের জন্য ওপেন ডোর বা খোলা দরজার প্রয়োজন ছিল। এই ওপেন ডোর কী? ১৮৯৯-১৯০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন হে প্রথম ওপেন ডোর নীতি হাজির করেন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোথাও কোনো ধরনের বাধা থাকা উচিত নয় এটাই ওপেন ডোর নীতির মূলকথা। এই নীতি কয়েকটি দেশ চ্যালেঞ্জ করেছিল। ইতিহাসবিদ উইলিয়ামস জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কায়েম করা বৈশ্বিকব্যবস্থা থেকে ওই দেশগুলো যদি নিজেদের সরিয়ে নেয়, তাহলে মার্কিন প্রশাসন দুনিয়াজুড়ে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে না। দেশগুলো রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক বা চীন ও মেক্সিকোর জাতীয়তাবাদী চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। যেখান থেকেই প্রভাবিত হোক না কেন, চ্যালেঞ্জ বাড়তে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বিস্তার নিঃসন্দেহে হ্রাস পাবে। এ কারণে বিশ্বের সবচেয়ে যুদ্ধবাজ সাম্রাজ্যবাদী দেশটি তার কায়েম করা বৈশ্বিক ব্যবস্থা থেকে যাতে কেউ নিজেদের প্রত্যাহার করে না নেয়, সেজন্য দ্রুত শক্তিশালী পদক্ষেপ নেয়। ১৯২৯ সালে শুরু হওয়া মহামন্দা নজিরবিহীনভাবে বৈশ্বিক ওই ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে। ওই সময় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতি মানুষের আস্থা ধুলায় মিশে যায়। অর্থনৈতিক সংকট সবচেয়ে বেশি হতবাক করে মার্কিন জনগণকে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সবসময় বলা হয়, দেশ দাঁড়িয়ে আছে প্রবৃদ্ধির ওপর। কিন্তু মহামন্দার সময় প্রবৃদ্ধি নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণকে ওই সময় যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মহামন্দার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি গত শতকের ত্রিশের দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। জিনিসপত্রের মূল্য ব্যাপকভাবে পড়ে যেতে থাকলে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট অর্থনীতিকে পুনরায় স্ফীত করার লক্ষ্যে ব্যাংকিং খাতে নতুন সীমাবদ্ধতা ও সুরক্ষা নীতি গ্রহণ করেন। ব্যাংকিং খাত ছাড়াও সামাজিক নীতি প্রণয়নসহ নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করেন তিনি। অবশ্য রুজভেল্টের এসব উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করতে পারেনি।
যুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত
মহামন্দা থেকে বের হতে বিভিন্ন দেশ নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়। তাদের এই উদ্যোগকে হুমকি হিসেবে দেখে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বিশ্ব রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়ার আশঙ্কা জাগে তাদের। ওই সময় ফ্রান্স ও ব্রিটেন তাদের নিজ নিজ কলোনিতে মনোনিবেশ করে। একই সঙ্গে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সীমিত বাণিজ্যের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর জোর দেয় তারা। কেবল ফ্রান্স বা ব্রিটেন নয়, ইউরোপ ও এশিয়ার আরও দেশ অর্থনীতিকে ঢেলে সাজাতে শুরু করে। তাদের এসব তৎপরতায় মার্কিন প্রশাসনের ভীতি ক্রমশ বাড়তে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পারে, বিশ্ব এভাবে বাণিজ্যের কয়েকটি ব্লকে ভাগ হয়ে গেলে সত্যিকার অর্থে বৈপ্লবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে আর বিপ্লব হলে ওয়াশিংটন বাধ্য হবে তার দেশের অভ্যন্তরে কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন আনতে। উইলিয়ামস বলেন, প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট যে চূড়ান্ত সত্য উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন তা হলো মার্কিন সাম্রাজ্যের পতন হলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে রুজভেল্টের যুদ্ধের দরকার ছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজতে বেশি সময় লাগেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট ১৯৪০ সালের জানুয়ারিতে জাপানের সঙ্গে করা বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান। একই সঙ্গে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে ব্রিটেনকে যুদ্ধজাহাজ হস্তান্তর করেন। রুজভেল্ট তার সরকার ও জনগণ উভয়কে বোঝাতে সক্ষম হন, যুদ্ধ আখেরে দেশকে লাভবান করবে। এটা ঠিক, তৎকালীন জার্মানি ও জাপান সরকারের কর্মকাণ্ড সমর্থন করার মতো কিছু ছিল না। তবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদেরও যে সে সময় যুদ্ধের দরকার ছিল, যুদ্ধ বাধলে তার নিজের এজেন্ডা যে বাস্তবায়িত হবে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এটা বেশি বোঝা যায় যুদ্ধপরবর্তী পরিস্থিতির দিকে তাকালে। যুদ্ধে লিপ্ত দেশগুলো রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে একই রকম ছিল, মৌলিক কোনো পরিবর্তন তাদের হয়নি। যুদ্ধের পর তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপেন ডোর নীতি পুরোপুরি মেনে নেয়। এদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শুরু হয় স্নায়ুযুদ্ধ কারণ সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ব্যবস্থা মেনে নিতে রাজি ছিল না। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, আধুনিক মিলিটারি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের শেকড় সেই ত্রিশের দশকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি ও অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে সে সময় মিলিটারি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হয়। ১৯৩২ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত মার্কিন জনগণ যে কর দেন, তার ২০ শতাংশ সামরিক খাতে ব্যয় করা হতো। বড় বড় কর্পোরেশনের ক্ষমতা শক্তিশালী করেন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট। এসব করপোরেশন সামরিক চুক্তির সিংহভাগ নিয়ে নিত। ব্যাংকিং খাতে রুজভেল্ট সরকারের সীমাবদ্ধতা ও সুরক্ষা নীতি গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক নীতি প্রণয়নের পদক্ষেপ বড় কোম্পানি ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ সৃষ্টি করে।
যুদ্ধ থেমে নেই
বর্তমানে আমরা যে বৈশ্বিকব্যবস্থা দেখছি, তার উৎপত্তি সেই ত্রিশ ও চল্লিশের দশকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট মুক্ত বিশ্ববাজারের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যে বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র। মহামন্দার মতো পরিস্থিতি কেন সৃষ্টি হয় তা বুঝতে না পারা, সাম্রাজ্যের অন্তর্নিহিত সংকট অনুধাবন করতে না পারা এসব ব্যর্থতার ওপর ভিত্তি করে বোনা হয় সেই স্বপ্ন। ১৯৮০ সালে উইলিয়ামস বলেছিলেন, সাম্রাজ্য একপর্যায়ে মানুষকে পারমাণবিক মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। তাই সাম্রাজ্য থেকে সরে এসে শক্তিশালী দেশগুলোর নেতাদের সম্প্রদায় সৃষ্টি করা উচিত। তার এই আহ্বানে গত ৪৩ বছরে কাউকে সাড়া দিতে দেখা যায়নি। এক একজন পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে বসে আছেন। যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো শহর হিরোশিমা বা নাগাসাকিতে পরিণত হতে পারে। গত বছর শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, যা এখনো চলছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন পারমাণবিক হামলা করে বসবেন কি না, এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। ইতিহাসবিদ উইলিয়ামস যে বৈশ্বিক সম্প্রদায় সৃষ্টির কথা বলেছিলেন, তা আজও হয়নি তবে তার মতো অনেকে স্বপ্ন দেখেন, ক্ষমতাধর দেশের নেতারা একদিন সাম্রাজ্যের দিক থেকে মনোযোগ সরিয়ে মানুষের জন্য বসবাসযোগ্য পৃথিবী সৃষ্টিতে মনোনিবেশ করবেন।
