সেই ভবিষ্যৎ বটিকাই ভরসা!

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৩, ১০:১৪ পিএম

বাংলাদেশে নতুন কেউ কোচ হয়ে এলে নস্ত্রাদামুসের মতোই ভবিষ্যৎদ্রষ্টা হয়ে যান! তারা দেশের ক্রিকেটের অনেক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখতে পান, যা অন্য অনেকের চোখেই ধরা দেয় না। ইংল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে হেরে নিয়ম রক্ষার শেষ ম্যাচে চট্টগ্রামে আজ তৃতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ম্যাচের আগে দলের স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথ জানিয়ে গেলেন, এই সিরিজটা ভালো না গেলেও অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে আগামীতে আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে।

সপ্তাহের মাঝের দিনে দুপুর বারোটায় জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হবে তৃতীয় ওয়ানডে। বাংলাদেশ সিরিজ হেরে গেছে, তাই টিকিটের চাহিদা নেই। অবশ্য মিরপুরে বুধবারে প্রথম ওয়ানডেতেও ফাঁকা ছিল গ্যালারি। দর্শকদেরই যে ম্যাচে আগ্রহ নেই তাতে ক্রিকেটারদের মনোযোগ যে খুব আছে একথা জোর দিয়ে বলার উপায় নেই। সাকিব আল হাসান দলের সঙ্গে চট্টগ্রাম না গিয়ে পৌঁছেছেন আজ সকালে। এই মাঠে সবশেষ ম্যাচে ভারত করেছিল ৮ উইকেটে ৪০৯ রান, জবাবে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল ১৮২ রানে। ঈশান কিষান করেছিল ডাবল সেঞ্চুরি। ব্যাটসম্যানদের স্বর্গে ইংল্যান্ডের রাক্ষুসে সব ব্যাটসম্যানদের সামনে বাংলাদেশের বোলারদের সম্ভাব্য করুণ পরিণতির আভাসই বাস্তবসম্মত। কারণ ইংল্যান্ড যে আগ্রাসী ক্রিকেটটা খেলে, তার সঙ্গে চট্টগ্রামের এই ব্যাটিং স্বর্গ একেবারে দারুণ জুটি। অন্যদিকে বাংলাদেশের বোলারদেরও করুণ হাল, বিশেষ করে পেসারদের। মোস্তাফিজুর রহমান উইকেট নিতে ভুলে গেছেন। তাসকিন আহমেদ গতিময়, তবে একটু খরুচে। স্পিনাররা প্রথম ওয়ানডেতে ভালো বল করেছেন, সেটা হেরাথও বললেন, ‘তাইজুল, মিরাজ ও সাকিব প্রথম ওয়ানডেতে খুব ভালো বোলিং করেছে, তবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইংল্যান্ড খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। আমাদের ফিল্ডিংটা ভালো করতে হবে, যাতে ব্যাটসম্যানদের সহজে রান করাটা থামানো যায়।’ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে যে মিরপুরের কৌশল খাটবে না সেটাও জানা আছে হেরাথের, ‘ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের কৃতিত্ব দিতেই হয়। প্রথম ওয়ানডেতে মালান খুব ভালো ব্যাট করেছে, দ্বিতীয় ম্যাচে রয় খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। ভিন্ন মাঠে খেলা, আমরা আশা করছি না এখানকার উইকেটের আচরণ মিরপুরের মতোই হবে। তুলনামূলকভাবে মিরপুরে স্পিনাররা বেশি সুবিধা পেয়ে থাকেন।’

আইসিসির ওয়ানডে সুপার লিগের সমীকরণেও লাভ-লোকসান নেই, তাই শেষ ম্যাচে হারজিতে আসলে দুই দলের খুব একটা বেশি চাওয়া-পাওয়ারও কিছু নেই। হেরাথ বরং দেখছেন সামনের দুটো সিরিজের আগে প্রস্তুতির সুযোগ, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই দুটো (চট্টগ্রামে ১টি ওয়ানডে ও ১টি টি-টোয়েন্টি) ছাড়াও সামনে আমাদের বেশকিছু খেলা আছে। সামনে আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলব, এরপর বিশ্বকাপও আছে। আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে।’ যাদের ঘুরে দাঁড়ানোটা জরুরি তাদের ওপর অবশ্য হেরাথের খুব একটা হাত নেই। ব্যাটসম্যানদের সবাই রান করতে ভুলে গেছেন। তামিম ইকবাল দুই ম্যাচে ২৩ আর ৩৫, মুশফিক করেছেন ৪ আর ১৬, নাজমুল হোসেন শান্ত ৫৮ আর ০, লিটন দাস ০ ও ৭। চট্টগ্রামের ব্যাটিং স্বর্গে ব্যাটসম্যানদেরই জ্বলে উঠতে হবে, নয়তো চেয়ে চেয়ে দেখতে হবে রয়-বাটলার-মইন আলিদের ব্যাটিং। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত