সাকিবের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে চান আমিনি

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৭:২৬ পিএম

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নতুন দুই দলের একটি পাপুয়া নিউ গিনি (পিএনজি)। প্রথম পর্বে গ্রুপ বি-তে আছে তারা। গ্রুপ এ -তে নতুন দল নামিবিয়া। ২০০৩ বিশ্বকাপ দিয়ে তাদের অবশ্য বড় আসরের আমেজ গায়ে মাখা আছে। পিএনজির জন্য বিষয়টা এমন নয়। এই প্রথম তারা বিশ্বকাপের আসরে। পিএনজির জন্য তাই সবকিছুতেই কেমন একটা ভালো লাগা কাজ করছে।

আবুধাবিতে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর ওমানে খেলছে বিশ্বকাপের ম্যাচ। এমন স্টেডিয়াম, দর্শক, সংবাদমাধ্যম, এমনকি প্রতিপক্ষ, সবকিছুই ভালো লাগা ছড়িয়ে যাচ্ছে পিএনজি শিবিরে।

পিএনজির সবাই জানেন নিজেদের গ্রুপের সবচেয়ে বড় দল বাংলাদেশ। এই দলে বিশ্বসেরা একজন অলরাউন্ডার আছেন। সেই সাকিব আল হাসানের সঙ্গে দেখা হলে তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে চান পিএনজির ক্রিকেটার চার্লস আমিনি।

ওমানের আল আমিরাত স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে পিএনজি।

অস্ট্রেলিয়ার খুব কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে ঘেরা দেশ পিএনজি। ৪০-৪৫ হাজার বছর আগে আফ্রিকান আদিবাসীরা দেশান্তর হয়ে এখানে আসে। এরপর কালের বিবর্তনে এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। দেশটির মানুষ খেলা বলতেই রাগবির পাগল। রাগবি বিশ্বকাপে তারা নিয়মিত দল। সেখানে ১৮৯০ সালে শুরু হয় ক্রিকেটের পথচলা।

১৯৭৩ সালে আইসিসির সহযোগী সদস্যপদ লাভ করে পিএনজি। আর ১৯৭৯ সালে খেলে প্রথম আইসিসি ট্রফি। যা বর্তমানে ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব।

বাছাইপর্বে নিজেদের ইতিহাসে ১৯৮২ আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশকে হারিয়ে তৃতীয় হওয়া পিএনজির সেরা সাফল্য। পিএনজির ক্রিকেট দলের ডান নাম ‘বারামুন্দি’ যা একপ্রকার মাছ। পিএনজির সবচেয়ে ভালো ক্রিকেট মাঠ আমিনি পার্ক দেশটির আমিনি পরিবারের নামে নামকরণ করা হয়েছে।

এই পরিবারেরই সদস্য বর্তমান টি-টোয়েন্টি দলের সদস্য চার্লস আমিনি। পরিবারের সবাই ক্রিকেট খেলেছেন। বাবা চার্লস আমিনি সিনিয়র, মা রুপা আমিনি ও ভাই ক্রিস্টোফার আমি সবাই। দেশটির ক্রিকেটীয় পরিবারের ঐতিহ্য বহন করে চলছেন এখন পরিবারের ছোট সদস্য চার্লস আমিনি।

আমিনি পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে বিশ্বকাপ খেলছেন চার্লস। তার কাছে বিশ্বকাপ গর্বের বিষয়, পরিবারের জন্যও। প্রতিদিনই বাবা-মায়ের কাছ থেকে ফোন পান আমিনি।

সবাই জানান দেশের সবাই তার জন্য গর্বিত, ‘ওরা (পরিবার) সবাই রোমাঞ্চিত। সব সময়ই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। জানায় যে তারা কতটা গর্বিত এবং আমি আমিনি পরিবারের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে পেরে সম্মানিত। আশাকরি আমার পরিবারের পরবর্তী জেনারেশনও এটাই ভাববে। আমি জানি আমার পরিবার আমার অর্জনের জন্য গর্বিত। আমি তাদের আনন্দ আরো ফিরিয়ে দিতে চাই।’

আমিনির বাবা খেলেছেন পিএনজির হয়ে আইসিসি ট্রফি। ছেলের সঙ্গে সব সময়ই স্মৃতিচারণ করেন, ‘আমার বাবা প্রায়ই সেই গল্প বলে। ১৯৮২ আইসিসি ট্রফিতে কিন্তু পিএনজি বাংলাদেশকে হারিয়েই তৃতীয় হয়েছিল। সেটাই আইসিসি ট্রফিতে (ওয়ানডে) পিএনজির সেরা সাফল্য। আসলে এই জায়গাগুলো থেকেই বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে দল উঠে এসেছে। আমরা এখন ওই জায়গাটায় আছি। আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে। আশা করি একদিন আমরাও উপরে উঠে আসতে পারব।’

আমিনির ইচ্ছা সাকিব আল হাসানের সঙ্গে কথা বলবেন। সাকিবের দর্শন, ক্রিকেট চিন্তা থেকে অভিজ্ঞতা নেবেন। আমিনি নিজেও বাঁহাতি ব্যাটার। সাকিবের কাছে এই দিকটিতেও উন্নতির দিক জানতে চাইবেন, ‘অবশ্যই আমি বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলতে পছন্দ করব। বিশেষ করে সাকিবের সঙ্গে। সম্প্রতি সে বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি উইকেট টেকার হয়েছে এবং সে আমার মতো বাঁহাতি। সে অনেক অভিজ্ঞ, বিশ্বজুড়েই খেলেছে। আমি তার সঙ্গে একটু আলাপ করতে চাই, ক্রিকেটে তার চিন্তা, কি রুটিনে কাজ করেন এসব নিয়ে কথা বলতে চাই।’

আমিনি আরো বলেন, ‘শুধু তাই না আমরা সব বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের থেকেই কিছু শিখতে চাই। যেমন শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যখন আমরা খেলছিলাম, শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধনে আমাদের ড্রেসিংরুমে এসেছিলেন। তিনি আমাদের সঙ্গে কথা বলেন, পরামর্শ দেন কিভাবে রান তাড়া করতে হয়। এগুলো আমাদের অভিজ্ঞতার জন্য খুব কাজে দিয়েছে।’

বিশ্বকাপের মূল পর্বের আশা ক্ষীণ আমিনিদের জন্য। তবে হতাশ হতে চান না তারা। দেশে ফিরে আইসিসি ক্রিকেট লিগের প্রস্তুতি নেবেন। দেখবেন অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের কোন ক্লাবে সুযোগ পান কিনা। নিজেদের দেশে তো আর ক্লাব ক্রিকেট খেলার সুযোগ নেই। এ দুই দেশের ক্লাবে খেলেই অভিজ্ঞতা অর্জন করেন আমিনিরা।

তাদের চাওয়া ওমানে যেমন ক্রিকেট স্টেডিয়াম, একাডেমি হয়েছে, তেমন তাদের দেশেও হোক। এতে একদিন তারাও ওয়ানডে বিশ্বকাপ বা টেস্ট খেলার দিকে এগিয়ে যাবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত