নারিন-মইনে ফাইনালে কুমিল্লা

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৮:৪৯ পিএম

দারুণ বোলিংয়ে লক্ষ্যটা নাগালে রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন ইংলিশ তারকা মইন আলি। পরে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন সুনিল নারিন। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়লেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই তারকা। দুই বিদেশিতে ভর করে বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স তুলে নিল দাপুটে জয়। পা রাখল ফাইনালে।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বুধবার চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে কুমিল্লা। ১৪৯ রানের লক্ষ্য ১২.৫ ওভারেই পেরিয়ে যায় দ্বিতীয় স্থানে থেকে লিগ পর্ব শেষ করা দলটি। শুক্রবার ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে ফাইনাল খেলবে তারা। প্রথম কোয়ালিফায়ারে কুমিল্লাকে হারিয়েই ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল বরিশাল।

টুর্নামেন্ট জুড়ে বরিশাল ও কুমিল্লা ছিল সবচেয়ে দুর্দান্ত। সেই দুই দলই লড়বে এখন ফাইনালের মঞ্চে। লিগ পর্বে এই দুই দলের প্রথম দেখায় জিতেছিল কুমিল্লা। দ্বিতীয় দেখায় জয় পায় বরিশাল।

এদিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খেয়েছিল কুমিল্লা। প্রথম বলেই লিটন দাস (০) ফিরে যান। শরিফুল ইসলামের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। ইমরুল কায়েস উইকেটে আসেন তখন। তবে দৃশ্যপটে থাকেন শুধু একজনই- সুনিল নারিন।

মাত্র ১৩ বলে ফিফটি পূরণ করেন নারিন। যা বিপিএলের ইতিহাসে দ্রুততম। আগের রেকর্ডটি ছিল আহমেদ শেহজাদের। ১৬ বলে ফিফটি করেছিলেন তিনি।

নারিন তাণ্ডবে মাত্র ১৯ বলে দলীয় ফিফটি পূরণ করে কুমিল্লা। ৬ ওভার শেষে দলটির স্কোর ছিল ৮৪/২।

ষষ্ঠ ওভারে ব্যক্তিগত ফিফটি পূরণ করেন নারিন। ওই ওভারেই আরো তিন বল পর ফেরেন তিনি। ১৬ বলে ৫ চার ও ৬ ছক্কায় করেন ৫৭ রান।

নারিন ফেরেন দলের জয়ের পথ একেবারে সহজ করে। নবম ওভারে ইমরুল ফেরেন ২৪ বলে ২২ রান করেন। বাকি কাজ সারেন ফ্যাফ ডু প্লেসি ও মইন আলি। ফ্যাফ ২৩ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন ২ চার ১ ছক্কায়। মইন ১৩ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন ৩ চার ও ২ ছক্কায়।

মইন এর আগে বোলিংয়ে আলো ছড়ান। ৩ ওভারে ২০ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। শহিদুল ইসলাম ৩ ওভারে ৩৩ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন।

চট্টগ্রাম দুই ওপেনার উইল জ্যাকস ও জাকির হাসানের ব্যাটে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে জ্যাকসকে ৯ বলে ১৬ রানের বেশি করতে দেননি শহিদুল ইসলাম। আরেক ওপেনার জাকির ১৯ বলে ২০ করে ফেরেন মইন আলির শিকার হয়ে।

ষষ্ঠ ওভারে পর পর দুই বলে জাকির ও শামীম হোসেনকে (০) তুলে নেন ইংলিশ স্পিনার মইন। মাঝে চ্যাডউইক ওয়ালটনকে (২) ফেরান তানভির ইসলাম। তাতে বিনা উইকেটে ৩১ থেকে ৪ উইকেটে ৪৩-এ পরিণত হয় চট্টগ্রাম।

আর ৭ রান যোগ হতে ফিরে যান আফিফ হোসেনও। ব্যক্তিগত ১০ রান করা আফিফ মইনের তৃতীয় শিকার হন।

এরপর চট্টগ্রামের দলীয় সংগ্রহটা ভদ্রস্থ হয় মেহেদী হাসান মিরাজ ও আকবর আলির ব্যাটে। ষষ্ঠ উইকেটে দুজন ৪০ বলে ৬১ রান যোগ করেন। যদিও দুজনের কেউই ইনিংস শেষ করতে পারেননি। তাই ১৯.১ ওভারে ১৪৮ রানেই থামে চট্টগ্রামের ইনিংস।

মিরাজ ৩৮ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন। আকবর আলি ২০ বলে ৩৩ রান করেন ২টি করে চার ও ছক্কায়।

ম্যাচসেরা হয়েছেন কুমিল্লার সুনিল নারিন।

আরো পড়ুন

বিপিএলে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়লেন নারিন

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত