প্রত্যাবর্তনের অবিশ্বাস্য সব গল্প লিখে গতবার চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতে নিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। নকআউট পর্বে একে একে পিএসজি, চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটিকে হতাশায় পুড়িয়ে ফাইনালে হারিয়েছিল লিভারপুলকে।
কার্লো আনচেলত্তির দল শিরোপা ধরে রাখার মিশনে গতবারের মতো এবারও সেমিফাইনালে পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটিকে। ঘরের মাঠে প্রথম লেগ ১-১ ড্র করায় সিটির মাঠে লস ব্লাঙ্কোসদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে এসব চ্যালেঞ্জ জয় তো রিয়ালের জন্য মামুলি ব্যাপারই!
গতবার শেষ চারে সিটির মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়ার গল্পটাই যেমন প্রেরণা হতে পারে করিম বেনজেমা, ভিনিসিউস জুনিয়রদের জন্য।
কি ঘটেছিল সেবার? রোমাঞ্চ-নাটকীয়তা, কি ছিল না রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির সেই দ্বৈরথে! ২০২০-২১ মৌসুমের ফাইনালিস্ট সিটিজেনরা গতবারও ছিল ফেভারিট। একেকটি দাপুটে জয়ে সেমিতে উঠেছিল পেপ গার্দিওলার দল।
কিন্তু ‘ইউরোপের রাজা’ রিয়াল শিরোপা পুনরুদ্ধারে ছিল দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। ইতিহাদে সেমিফাইনালের প্রথম লেগ ৪-৩ গোলে জিতেছিল সিটি। গত বছর ২৬ এপ্রিল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।
ওই ম্যাচ জেতায় মনে হচ্ছিল ফাইনালে এক পা দিয়ে ফেলেছে ইংল্যান্ডের দলটি। তবে রিয়ালের জন্য আশার প্রদীপ হয়ে ছিল, প্রতিপক্ষের মাঠে তিন গোল। যার দুটি করেছিলের করিম বেনজেমা, অন্যটি ভিনিসিউস জুনিয়র।
৪ মে বার্নাব্যুতে ফিরতি লেগে বিশ্বজুড়ে ফুটবল দর্শকেরা সাক্ষী রিয়ালের আরেকটি অবিশ্বাস্য কামব্যাকের।
৭৩তম মিনিটে মাহরেজের গোলে ১-০ তে এগিয়ে গেল সিটি। দুই লেগ মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগের দলটি তখন এখন এগিয়ে ৫-৩ গোলে। ফাইনালে যেতে হলে তখন আনচেলত্তির শিষ্যদের করতে হবে তিন গোল! অথচ বাকি তখন ১৭ মিনিট। কিন্তু সেই অবিশ্বাস্য কাজটাই করে ব্লাঙ্কোসরা।
৯০ ও ৯১তম মিনিটে ‘সুপার সাব’ রদ্রিগোর জোড়া গোলে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৫ সমতায় ফিরে রিয়াল। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। যেখানে দ্রুতই পেনাল্টি থেকে বেনজেমার জয়সূচক গোল।
দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটা ৩-১ গোলে জেতে রিয়াল। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলের অগ্রগামিতায় নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকেট।
এবারও কি তেমন কিছু হবে? নাকি আর্লিং হলান্ডের সিটি গল্পটা লিখবে ভিন্ন ভাবে?
