দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে ডেনমার্কে নতুন সরকার গঠন করেছেন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা মেট ফ্রেডেরিকসেন। এর মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন তিনি।
সোমবার (১ জুন) নতুন সরকারের ঘোষণা দেন ফ্রেডেরিকসেন। মার্চে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান হলো এ ঘোষণার মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডেনমার্কের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মাঝেই দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে এই নতুন সরকার।
১২টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে দরকষাকষি ও আলোচনা শেষে সরকার গঠনের সমঝোতা হয়। এর আগে মধ্য-ডানপন্থী লিবারেল পার্টির নেতৃত্বে বিকল্প সরকার গঠনের একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ফ্রেডেরিকসেন সংখ্যালঘু সরকার গঠনের পথ সুগম হয়।
কোপেনহেগেনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'দীর্ঘ আলোচনার পর আমি মহামান্য রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি এবং তাকে জানিয়েছি যে সরকার গঠন সম্ভব হয়েছে।'
তবে ৪৮ বছর বয়সী এই প্রধানমন্ত্রীকে বেশ কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। গত ২৪ মার্চের নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে জনগণের অসন্তোষের কারণে তার আগের জোট সরকার সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়।
তবে নতুন মেয়াদে ফ্রেডেরিকসেনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে কোপেনহেগেন ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা মোকাবিলা করা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বায়ত্তশাসিত ড্যানিশ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত করার হুমকি দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ডেনমার্ক কখনোই গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিজের সার্বভৌমত্ব ছেড়ে দেবে না। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনো দখল প্রচেষ্টা 'ন্যাটোর সমাপ্তির সংকেত' হবে।
গ্রিনল্যান্ডে প্রতিরক্ষা স্থাপনা, বিপুল খনিজ সম্পদ এবং দ্বীপটির উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত মার্কিন মহাকাশ ঘাঁটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে টানাপোড়েনই হবে এই নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
