গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ন্যাটোর সাথে ট্রাম্পের চুক্তি

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ন্যাটোর সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য 'সম্পূর্ণ ও স্থায়ী প্রবেশাধিকার' নিশ্চিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি বলেন, রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় আর্কটিক নিরাপত্তা নিয়ে মিত্রদের আরও সক্রিয় হতে হবে।

সম্প্রতি ট্রাম্প ইউরোপের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে আসেন এবং গ্রিনল্যান্ড দখলে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেন। এতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তীব্র হয়ে ওঠা ট্রান্সআটলান্টিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়। বিশ্ব বাজারেও এর প্রভাব পড়ে,ইউরোপীয় শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়ায় এবং ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলো আবারও রেকর্ড উচ্চতার দিকে অগ্রসর হয়।

তবে চুক্তির বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়। ডেনমার্ক জোর দিয়ে বলেছে, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং তা আলোচনার বিষয়ও নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস বলেন, গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ সম্পর্ক 'বড় ধাক্কা' খেয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ইইউ নেতারা একটি জরুরি শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন। 

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন ট্রাম্পের মন্তব্যকে স্বাগত জানালেও বলেন, চুক্তির অনেক দিক সম্পর্কে তিনি এখনো অন্ধকারে। রাজধানী নুকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'আমাদের দেশ নিয়ে কী চুক্তি হয়েছে, তা আমি জানি না।' তিনি স্পষ্ট করে বলেন, 'সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হতে পারে, কিন্তু সার্বভৌমত্বের বিষয়ে কোনো আপস হবে না।' আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখার কথাও তিনি জোর দিয়ে বলেন। 

ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, নতুন একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুবিধাজনক হবে। সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন সক্ষমতা থাকা দরকার, যাতে তারা 'যা খুশি তাই করতে পারে।' এর আগে ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে তিনি বলেন, এই চুক্তি কার্যত যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেবে এবং এর কোনো সময়সীমা নেই। 

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানায়, ডাভোসে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে ও ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে ১৯৫১ সালের সামরিক প্রবেশাধিকার–সংক্রান্ত চুক্তি হালনাগাদে আরও আলোচনায় সম্মত হয়েছেন। প্রস্তাবিত কাঠামোতে গ্রিনল্যান্ডে চীনা ও রুশ বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করার কথাও রয়েছে। তবে আরেকটি সূত্র সতর্ক করে বলেছে, এখনো যা হয়েছে তা কেবল আলোচনার একটি কাঠামো; নির্দিষ্ট কোনো শর্ত নিয়ে প্রচারিত খবর অনুমাননির্ভর।

রয়টার্সকে রুটে জানান, অতিরিক্ত নিরাপত্তা চাহিদার বিস্তারিত নির্ধারণ এখন ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কাজ দ্রুত এগোবে এবং ২০২৬ সালের শুরুতেই বাস্তব অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত