কিছুতেই ঝোপ থেকে বের হচ্ছে না বাঘটি

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৮:৩২ পিএম

হাঁটতে হাঁটতে বাঘটি হঠাৎ চলে আসে লোকালয়ে। গ্রামবাসী তাড়া করলে শুকিয়ে আসা নদীর পাড়ে কলমির ঝোপে সে আশ্রয় নেয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা- বাঘটিকে আর বের করা যায়নি ঝোপ থেকে। ঢিল, চিৎকার, ভয় দেখানো- কিছুতেই কিছু হলো না।

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলই শালশিরি ইউনিয়নের বসুনিয়াপাড়ার লোকালয়ে হঠাৎ এই চিতাবাঘের আবির্ভাব ঘটে। বাঘটি ওই এলাকার মৃতপ্রায় পাথরাজ নদীর একটি ঝোপের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছে।

শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাঘটিকে উদ্ধার করতে পারেনি বনবিভাগ। বর্তমানে ওই স্থানটি বনবিভাগ ও পুলিশ ঘিরে রেখেছে। ওই এলাকায় কয়েক হাজার উৎসুক মানুষ জড়ো হয় এক পলক চিতা বাঘটিকে দেখতে। ভিড় সামলাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বসুনিয়াপাড়া এলাকায় কৃষক গমির আলী বলেন, শনিবার সকালে তিনি গৃহস্থালির কাজ করছিলেন। এমন সময় ছোট ছেলেমেয়েরা প্রথমে বাঘটি দেখতে পেয়ে ‘বাঘ বাঘ’ বলে চিৎকার করে।

তিনি বলেন, পরে আমি ও প্রতিবেশী কয়েকজন মিলে লাঠি নিয়ে বাঘটির পিছে ধাওয়া করি। তাড়া খেয়ে বাঘটি পাথরাজ নদীর ঢোলকলমি গাছের ঝোপে আশ্রয় নেয়। তারপর থেকে সেখানেই আছে। লোকজন চারদিকে থেকে ঘিরে রাখায় বাঘটি উঠতে পারছে না।

বাঘটি বসুনিয়াপাড়ার পশ্চিম দিক থেকে এসেছে বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুকনো পাথরাজ নদীর এক ঝোপে চিতাবাঘটি লুকিয়ে রয়েছে। চারদিকে কয়েক হাজার উৎসুক মানুষ ঘিরে রেখেছে। উৎসুক লোকজনকে ঢিল ছুড়তেও দেখা যায়।

কিন্তু বাঘটি ঝোপ থেকে কোনোমতেই বের হচ্ছে না। জনতার ঢল ঠেকাতে এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ওই এলাকায় এই প্রথম কোনো বাঘের দেখা পাওয়ায় আতঙ্কিত এলাকাবাসী।

বোদা উপজেলা বনবিভাগের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, বাঘটি উদ্ধারের জন্য জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ কার্যালয় ঢাকায় জানানো হয়েছে। সেখান থেকে অভিজ্ঞ লোকজন আসছেন। তারা এসে প্রযুক্তির ব্যবহার করে চিতাবাঘটিকে উদ্ধার করবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত