এনজিওর আড়ালে জামায়াত পুনর্বাসন

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:৪৭ পিএম

স্মল কাইন্ডনেস বাংলাদেশ (এসকেবি) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জড়িতদের পরিবারের পুনর্বাসনে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় থেকে আটজনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের কর্মকাণ্ডের গোপন কৌশল জানতে পেরেছেন তারা।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের (সিটিটিসি) উপকমিশনার মহিবুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর রোডের ১৭ নম্বর বাড়িতে এসকেবির প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত জামায়াত-শিবিরের ২২০ জনের পরিবারের তালিকা পাওয়া গেছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সংস্থাটি দেশের অবহেলিত ও অসহায় মানুষদের জন্য শিক্ষা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন খাতে প্রকল্প তৈরি করে বিদেশি সংস্থা ও বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকেও কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করে। কিন্তু এই টাকা জামায়াত-শিবিরের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের বাইরে কোথাও ব্যয় হয় না। সংস্থাটির নামে একটি ব্যাংক হিসাবে ৫৬ কোটি টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে, যা এরই মধ্যে জব্দ করার আবেদন করা হয়েছে।

মহিবুল ইসলাম বলেন, ২২০ জনের ওই তালিকায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে-পরে জামায়াত-শিবিরের সৃষ্ট সহিংসতায় নিহতদের সবাইকে ‘শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ‘চাঁদে দেখা যাওয়ার’ গুজবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতায় নিহতদের মধ্য থেকে কেবল জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের নাম রয়েছে তালিকায়।

তিনি বলেন, সহিংসতায় নিহত জামায়াত-শিবিরের সংশ্লিষ্ট কর্মী বা নেতার পরিবারকে ‘আদর্শ পরিবার’ উল্লেখ করে তাদের উপার্জনের জন্য বিভিন্ন খাতে মাসিক কিস্তিতে ৫ হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্যানিটেশনের নামে আলাদা বরাদ্দও করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, জামায়াত-শিবিরের নিহত পরিবারের বাইরেও ‘হিজরতে’ (পলাতক) থাকা এবং কারাবন্দি নেতাকর্মীদের পরিবারকেও এসকেবির মাধ্যমে কৌশলে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। উত্তরার ওই কার্যালয় কেবল সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ব্যবহার হতো। তাদের গোপন পরিকল্পনা মূলত হোয়াটসঅ্যাপ ও ভাইবারের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২৫ মে এনজিও ব্যুরোর অনুমোদন পায় এসকেবি। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ড. আবদুল গফুর নাসিম যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর একান্ত সচিব ছিলেন। আরেক প্রতিষ্ঠাতা ড. ওয়াকাতুল জান্নাত এই সংস্থার চেয়ারম্যান। তাদের দুজনই দেশে নেই। জান্নাতের স্বামী সিলেটের বাসিন্দা রেদওয়ান সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক। তিনি ফিলিপাইনে বসে সংস্থাটির জন্য অর্থ জোগাচ্ছেন। এছাড়া এসকেবির নির্বাহী সম্পাদক আবু হুরায়রা ফিলিপাইনে বসে এনজিওর কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।

এসকেবির অর্থ জোগানদাতাদের মধ্যে রয়েছে তুরস্ক, হেল্পিং ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ইসলামিক কাউন্সিল, হিউম্যান এইড-ইউকে, মুসলিম এইড-সুইডেন, ডব্লিউইএফএ, কেয়ার ফর আদার, হর্ন আফ্রিকা-ডেনমার্ক।

সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার আবদুল মান্নান বলেন, ‘এসকেবির বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ হাতে এসেছে। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলার ক্ষেত্রও তৈরি হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত